
কুমিল্লার বাজার লাগামহীন নিত্যপণ্যের দামে অস্থির
এ.কে পলাশ কুমিল্লা প্রতিনিধি।।
কুমিল্লার বাজার লাগামহীন চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন ও আদারসহ বেশকিছু নিত্যপণ্যের দামে অস্থির । সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে এসব পণ্যের দাম। এরইমধ্যে দুইশতকের ঘরে আদার দর আর শতকের ঘর ছোঁয়ার অপেক্ষায় পেঁয়াজ। সরবরাহ ও আমদানি স্থিতিশীলতার মধ্যেও এভাবে রাতারাতি পেঁয়াজ, আদাসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় হতাশ নিম্ন-মধ্যমআয়ের মানুষ। তবে কুমিল্লার খুচরা ও পাইকারী ব্যবসায়ীদের দাবি চলমান বর্ষায় টানা বৃষ্টিপাতের কারণে বাজারে পেয়াজ, রসুন, আদা ও মসুর ডালের চাহিদার অনুপাতে সরবরাহ কম থাকায় সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে পণ্যের দাম বাড়ছে। আর ভোক্তার দাবি বাজার মনিটরিংয়ে প্রশাসনের গাফিলতির কারণে নিত্যপণ্যের সংকট দেখিয়ে বাজার অস্থির করে তুলছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। বাজার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কর্যকর পদক্ষেপ নিবে প্রশাসন প্রত্যাশা তাদের।
মঙ্গলবার কুমিল্লার রাণীর বাজার ও টমছম ব্রিজ বাজার ঘরে দেয়া যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে মোটা ও চিকন সব ধরনের চাল বিক্রি হচ্ছে ২-৩ টাকা বেশিতে। মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকা এবং চিকন চাল বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা দরে। এদিকে শতকের ঘরে পৌঁছার পথে পেঁয়াজের দাম। আজকের কুমিল্লার বাজারে ১৫-২৫ বেড়ে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮৫ টাকা দরে। অন্যদিকে আদা দর ডাবল শতকের ঘরে পৌঁছেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ৮০-১০০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি দেশি আদা ২০০ এবং আমদানিকৃত আদা ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পিছিয়ে নেই রসুনের বাজার। কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়ে দেশি রসুন ১১০ এবং আমদানিকৃত রসুন ১৬০ টাকা। দাম বেড়েছে মসুর ডালেরও। ১০ টাকা বেড়ে সপ্তাহের ব্যবধানে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আনোয়ার হোসেন নামে এক ভোক্তা বলেন, দুইদিন পর পর নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল করে তুলছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। এটি তাদের সিন্ডিকেট। কারণ সপ্তাহখানেক আগের বাজারে পেঁয়াজের দাম ছিল ৫৫-৬০ টাকা। আজকের বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে ১৫-২৫ টাকা বেড়ে বিক্রি করছেন ৮০-৮৫ টাকা দরে। একই অবস্থা আদার দরেও। হুট করে ১০০ টাকা বেড়েছে আদার কেজিতে।
সুমাইয়া জাহান নামে আরও এক ভোক্তা বলেন, সকল নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে হু হু করে। কোন কিছুই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই। অস্থিতিশীল এ বাজারে সবচেয়ে বেশি ভোগাস্তির শিকার কেটে খাওয়া ও নিম্নআয়ের আয়ের মানুষ।
কুমিল্লা সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়শনের সভাপতি জামাল আহমেদ জানান, দেশে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। বহিঃবিশ্বেই আদার বাজার চড়া। একই সঙ্গে রসুনের পর্যাপ্ত আমদানি নেই। ফলে খুচরা ও পাইকারি বাজারে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম বাড়ছে। তবে আমদানি শুরু হলে দ্রুতই পেঁয়াজের দাম কমার লক্ষণ থাকলেও আদার বাজার আরও বৃদ্ধি পাবে।

