শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৩৮ পূর্বাহ্ন
Headline
– — সাংবাদিক কামাল ভাইয়ের বিবাহ বার্ষিকী রিপোর্ট ঃ আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিক ও লেখক কামাল ভাইয়ের অনলাইন থেকে নেওয়া আজ আমার বিবাহ বার্ষীকিঃ “”আমার বিয়ের দিনের কথাঃ “নীরব ভালোবাসার মহাকাব্য : সেলিনার পাশে হাঁটা আমার জীবন- “”নাতনিকে বসে আছে -এই মহিলার সাথেই আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধনটি গাঁথা হয়েছিল।আজ থেকে ঠিক ৩২ বছর আগে—২৪শে জানুয়ারি ৯৪ সালে কনকনে ঠান্ডা শীতের রাতে- সময় পেরিয়েছে, চুলে রুপালি রেখা নেমেছে, জীবনের পথে এসেছে সুখ–দুঃখ, হাসি–অশ্রু— তবু সম্পর্কের মূলটুকু রয়ে গেছে অটুট, বিশ্বাস আর মমতায় বাঁধা। ৩২ বছরের দাম্পত্য শুধু একটি তারিখ নয়, এটা স্মৃতি, দায়িত্ব আর নিরব ভালোবাসার দীর্ঘ এক যাত্রা।মনে হয়, এই তো সেদিনই সেলিনা নামের এক ভদ্রমহিলাকে আমি বিয়ে করেছি। সময়টা এমন দ্রুত ছুটে যাচ্ছে—যেন ক্যালেন্ডারও আমাদের সংসারের চাপ নিতে না পেরে পাতা উল্টাতে ভুলে যাচ্ছে! বিয়ে করে যে এত কষ্ট হয়, এটা আগে জানলে—শপথ করে বলছি—আমি বিয়ে করতাম না। অন্তত দুইবার ভাবতাম। তিনবার ভাবার সময় পেলে হয়তো পালিয়েই যেতাম! এই কষ্টের মাঝেই হঠাৎ একটা মহামূল্যবান পারিবারিক উপদেশ মনে পড়ে গেল। একদিন এক বাবা, একেবারে সিনেমার দৃশ্যের মতো, ছেলেকে কানে কানে বলছেন “বাবা, মন দিয়ে শোন। আমি তোকে একটা কথা বলছি। মনে রাখবি।” ছেলে আবেগে গদগদ “হ্যাঁ বাবা, বলো।” বাবা গম্ভীর কণ্ঠে বললেন “আমার অনুরোধ, তুই জীবনে বিয়ে করিস না।” ছেলে মাথা নেড়ে বলল “ঠিক আছে বাবা।” কিন্তু গল্প এখানেই শেষ না। ছেলেটা মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল “এই পরামর্শটা আমি বাবার মতো করেই আমার ছেলেকেও দিয়ে যাব।” দেখেন মুসকিলের কথা! বিয়ে কেউ করতে মানা করে না, আবার না-করার উপদেশও বংশপরম্পরায় চলতে থাকে। ফলে যা হয় সবাই বিয়ে করে, সবাই কষ্ট পায়, আর সবাই গোপনে বলে ‘আগে জানলে বিয়ে করতাম না!’ এই হলো সংসারের অমোঘ চক্র ভাত আছে, তরকারি আছে, ভালোবাসা আছে, কিন্তু শান্তি? সে সম্ভবত শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গেছে! বছর ঘুরে বিবাহ বার্ষিকী এলেই মনে হয়—জীবনের অগণিত দিনের ভিড়ের মধ্য থেকে একটি নির্দিষ্ট দিন হঠাৎ আলাদা হয়ে দাঁড়ায়। সে দিনটি আর শুধু তারিখ থাকে না, হয়ে ওঠে স্মৃতির দরজা। ২৪ জানুয়ারি—এই দিনটি আমার জীবনে এমনই এক দরজা, যেখানে দাঁড়ালেই পেছনের দিকে তাকাতে ইচ্ছে করে, আবার সামনের পথের জন্য বুক ভরে সাহস নিতে মন চায়। এই দিনটি আমার আর সেলিনার একসাথে পথচলার শপথের দিন। আনন্দ ছিল, ভয়ও ছিল। কারণ বিয়ে মানেই শুধু ফুল, আলো আর হাসি নয়—বিয়ে মানে অজানার দিকে দু’জন মানুষের একসাথে এগিয়ে যাওয়া। জানতাম না, সামনে কী অপেক্ষা করছে। শুধু জানতাম—পাশে একজন মানুষ থাকবে। ফেসবুক আজকাল বড় নিষ্ঠুর—হঠাৎ করে পুরোনো ছবি দেখিয়ে দেয়, পুরোনো ক্ষত ছুঁয়ে দেয়, আবার পুরোনো আনন্দও ফিরিয়ে আনে। এবারের বার্ষিকীতে চার বছর আগের একটি ছবি সামনে এল—নাতি কাশিবকে নিয়ে। সাদা-কালোর সেই মুহূর্তগুলো আমার চোখের সামনে রঙিন হয়ে উঠল। বুঝলাম, সময় চলে যায় ঠিকই, কিন্তু ভালোবাসা থেকে যায়—রূপ বদলে, চরিত্র বদলে। আমি মনে মনে নিজেকেই প্রশ্ন করলাম—এই বিয়ে না হলে কি এই দৃশ্যগুলো দেখতাম? এই পরিপূর্ণতা কি আসত? মানুষের জীবন এক মহাসমুদ্র। কখনো ঢেউ আছড়ে পড়ে, কখনো জল থমকে দাঁড়ায়। আমার জীবনও তেমনই—সংঘর্ষে ভরা, ঝুঁকিতে ভরা, প্রশ্নে ভরা। কিন্তু এই সমুদ্রে আমার একটি নির্ভরযোগ্য নোঙর ছিল—সেলিনা। আমি কামাল উদ্দিন—পেশায় সাংবাদিক, লেখক। একসময় অপরাধ সাংবাদিকতা ছিল আমার নেশা। রাত-দিন ছুটে বেড়ানো, ঝুঁকি, হুমকি, অনিশ্চয়তা—এসবই ছিল আমার নিত্যসঙ্গী। পেশার এই কঠিন পথে হাঁটার শক্তিটা আমি একা পাইনি। পেয়েছি ঘরের ভেতর থেকে। ১৯৯৪ সালের এক সাধারণ দিনে আমাদের বিয়ে। তখন আমি জীবনের দৌড়ে একা ছুটছিলাম। স্বপ্ন ছিল, কিন্তু স্থিরতা ছিল না। সেলিনা সেই অস্থির জীবনে স্থিরতার প্রথম নাম। সে আমার শূন্য ঘরকে ঘর বানিয়েছে, আমার অগোছালো জীবনকে ছন্দ দিয়েছে। সংসারের শুরুটা ছিল টক-ঝাল। অর্থকষ্ট ছিল, সময়ের অভাব ছিল, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা ছিল। আমি কাজ নিয়ে ব্যস্ত, সে অপেক্ষায়। আমি বাইরে যুদ্ধ করছি, সে ঘরে শান্তি রক্ষা করছে। কখনো সে বুঝিয়েছে, কখনো চুপ করে থেকেছে। সেই চুপ করে থাকা ছিল সবচেয়ে বড় ত্যাগ। আমাদের সংসারে মিষ্টিও এসেছে—সন্তানদের হাসিতে। সাকিব, কাশপি আর সাইকি—তাদের বড় করে তোলার প্রতিটি ধাপে সেলিনার শ্রম, ধৈর্য আর ভালোবাসা জড়িয়ে আছে। আমি অনেক সময় পাশে থাকতে পারিনি, সে একাই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে। মান-অভিমান এসেছে—এসেছে বলেই তো সম্পর্ক মানুষ হয়েছে। আমি ভুল করেছি, তার জন্মদিন ভুলে গেছি। সে রাগ করেনি—নীরব ছিল। সেই নীরবতা আমাকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। ছোট একটি উপহার আর গভীর অনুতাপে তার চোখে যে আলো দেখেছিলাম, তা আমাকে শিখিয়েছে—ভালোবাসা কখনো দাবি করে না, শুধু বুঝে নিতে চায়। আমার জীবনের অনেক কষ্ট আমি কখনো বলিনি। লেখক হয়েও নিজের দুঃখ লিখিনি। পেশার চাপ, লড়াই, ক্লান্তি—এসব সে চুপচাপ ভাগ করে নিয়েছে। রাত জেগে অপেক্ষা করেছে, দেরিতে ফেরা স্বামীর দরজা খুলে দিয়েছে, প্রশ্ন না করেই। আজ আমাদের সন্তানরা বড়। আমাদের জীবনে নাতি-নাতনিরা এসেছে—কাশিব, কায়ান, কাইয়া। তাদের হাসিতে আমাদের জীবনের ক্লান্তি গলে যায়। বুঝি, সময় সবকিছু কেড়ে নেয় না—কিছু ফেরতও দেয়, আরও সুন্দর করে। এই দীর্ঘ ৩২ বছরের পথচলা আমাকে শিখিয়েছে—সংসার মানে নিখুঁত মানুষ হওয়া নয়, সংসার মানে অপূর্ণ মানুষ হয়ে একসাথে টিকে থাকা। সেলিনা শুধু আমার স্ত্রী নয়—সে আমার পথচলার সাহস, আমার এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা, আমার জীবনের নীরব নায়ক। এই বিবাহ বার্ষিকীতে আমি কোনো উপহার দিতে পারি না, শুধু কৃতজ্ঞতা দিতে পারি। ধন্যবাদ সেলিনা—আমার জীবনের প্রতিটি ঝড়, প্রতিটি রোদ, প্রতিটি নীরব রাতে আমার পাশে থাকার জন্য। এই গল্প শুধু আমার নয়। এটি সেলিনার গল্প। এটি আমাদের ভালোবাসার গল্প। এটি আমাদের জীবনের গল্প। কুমিল্লায় ১০-বিজিবির অভিযানে ৬১ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য উদ্ধার রাজস্থলীতে ধানের শীষকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করতে প্রচার-প্রচারণায় মাঠে বিএনপি। আগে যেমন নিশিরাতে ভোট হয়েছে, এখন আবার নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে- তারেক রহমান রাঙ্গামাটি রাজস্থলীতে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা বিষয়ে অবহিতকরণ সভা নির্বাচনী সভা; আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ। শিবপুর মডেল থানায় পিকআপ গাড়ী উপহার দিলেন ওসমান মৃধা ও লোকমান মৃধা সরাইলে বাউল মেলায় বাকবিতন্ডার জেরে দু’গ্রামবাসীর সংঘর্ষ বাড়িঘর ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ, আহত ৩০ সাতকানিয়া থানার প্রধান ফটকের সামনে  ওসির বিরুদ্ধে মানববন্ধন জুলাই যোদ্ধাদের ।
Headline
Wellcome to our website...
বরিশাল ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির স্প্রিং ২০২৪ ব্যাচের ইংরেজি বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারীদের বিদায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন
/ ১৬০ Time View
Update : সোমবার, ১২ আগস্ট, ২০২৪, ৬:১২ পূর্বাহ্ন

বরিশাল ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির স্প্রিং ২০২৪ ব্যাচের ইংরেজি বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারীদের বিদায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন

মো:আসাদুজ্জামান(স্টাফ রিপোর্টার)

বরিশাল ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির স্প্রিং ২০২৪ ইং ব্যাচের ইংরেজি বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারীদের রিসার্চ প্রজেক্ট জমাদান,মৌখিক পরীক্ষা প্রদান এবং বিদায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। বরিশালের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত রুইয়ার পোল সংলগ্ন বরিশালের মধ্যে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির ৫ম তলায় ইংরেজি বিভাগের সকল শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের জন্য কয়েক সপ্তাহ পিছিয়ে গেলেও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় গত শুক্রবার সকাল ১০; ঘটিকায় প্রথমে শিক্ষার্থীদের রিসার্চ কৃত প্রজেক্ট জমা,পাশাপাশি মৌখিক পরীক্ষা সর্বশেষ বিদায় অনুষ্ঠান। জনাব গোলাম কাদের তানুর সঞ্চালনায় শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন ইংরেজি বিভাগের দলনেতা মো:আসাদুজ্জামান,শিক্ষার্থী অঞ্জন চ্যাটার্জি,মিজানুর রহমান, হাসিবুল কবির,জিনিয়া বিথি।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের বরিশাল ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড.মো:শহিদুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার এ,এস,এম মশিউর রহমান, ইংরেজি বিভাগের এসোসিয়েট প্রফেসর মো: হাফিজুর রহমান,ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান মো: আবু তাহের, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শেষে মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন সহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারীদের প্রত্যেককে বিশ্ববিদ্যালয় লোগো সংবলিত ক্রেস্ট প্রদান করা হয়, পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ও উপস্থিত ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের প্রত্যেককে উপহার স্মৃতি হিসেবে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য যে, ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি, বরিশাল, একটি অলাভজনক সংস্থা হিসাবে ৩ জুন ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট কাজী শফিকুল আলম, CIP এর নেতৃত্বে বরিশালের সমাজসেবী এবং শিক্ষাবিদদের একটি নিবেদিত গোষ্ঠী দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এই ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয় একটি গতিশীল শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যা বাস্তব-বিশ্বের জ্ঞানকে মানবিক মূল্যবোধ এবং নৈতিক নীতির সাথে মিশ্রিত করে।বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উৎকর্ষ বজায় রাখতে এবং শিক্ষার্থীদেরকে বাস্তব দক্ষতা দিয়ে ক্ষমতায়ন করার চেষ্টায় আজকের বৈশ্বিক ল্যান্ডস্কেপে প্রাসঙ্গিক।

যুবকদের বিপণনযোগ্য দক্ষতায় সজ্জিত করার মাধ্যমে, একটি জ্ঞান-ভিত্তিক সমাজের বিকাশে অবদান রেখে দেশে এবং বিদেশে সফল ক্যারিয়ারের জন্য তাদের প্রস্তুত করার লক্ষ্য নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটিতে ভবিষ্যত নেতাদের গঠনের জন্য নিবেদিত যারা শুধুমাত্র দক্ষ পেশাদারই নয় বরং নৈতিক এবং সহানুভূতিশীল ব্যক্তিরাও বিশ্বে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে প্রস্তুত।
চলমান প্রযুক্তিগত বিপ্লব ভবিষ্যৎ স্নাতকদের চাকরির বাজারে প্রবেশের জন্য উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। এই নতুন যুগে উচ্চশিক্ষা উচ্চতর জবাবদিহিতা এবং প্রদর্শনযোগ্য ইতিবাচক ফলাফলের দাবি রাখে।
ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, প্রযুক্তির উদীয়মান প্রবণতা এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ক্রমবর্ধমান কাজের ল্যান্ডস্কেপের সাথে গভীরভাবে আবদ্ধ। স্নাতকদের একটি উন্নত স্তরে লক্ষ্যযুক্ত ফলাফল অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতার সাথে সজ্জিত করতে নিবেদিত।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেন আমাদের বিশিষ্ট ফ্যাকাল্টি সদস্যরা, মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত, আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাপক শিক্ষাদান এবং গবেষণার দক্ষতা নিয়ে আসে। আমরা প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সমান সুযোগ দিতে, তাদের সহজাত ক্ষমতাকে লালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের শক্তিশালী শিল্প অংশীদারিত্ব এই সুযোগগুলিকে আরও উন্নত করে, চাকরির নিয়োগ এবং ক্যারিয়ারের অগ্রগতির সুবিধা দেয়।

ইউনিভার্সিটি দক্ষিণ বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় তৃতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে, উচ্চ শিক্ষায় একটি মানদণ্ড স্থাপন করে এবং প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক পরিবেশে দক্ষতা অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
– — সাংবাদিক কামাল ভাইয়ের বিবাহ বার্ষিকী রিপোর্ট ঃ আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিক ও লেখক কামাল ভাইয়ের অনলাইন থেকে নেওয়া আজ আমার বিবাহ বার্ষীকিঃ “”আমার বিয়ের দিনের কথাঃ “নীরব ভালোবাসার মহাকাব্য : সেলিনার পাশে হাঁটা আমার জীবন- “”নাতনিকে বসে আছে -এই মহিলার সাথেই আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধনটি গাঁথা হয়েছিল।আজ থেকে ঠিক ৩২ বছর আগে—২৪শে জানুয়ারি ৯৪ সালে কনকনে ঠান্ডা শীতের রাতে- সময় পেরিয়েছে, চুলে রুপালি রেখা নেমেছে, জীবনের পথে এসেছে সুখ–দুঃখ, হাসি–অশ্রু— তবু সম্পর্কের মূলটুকু রয়ে গেছে অটুট, বিশ্বাস আর মমতায় বাঁধা। ৩২ বছরের দাম্পত্য শুধু একটি তারিখ নয়, এটা স্মৃতি, দায়িত্ব আর নিরব ভালোবাসার দীর্ঘ এক যাত্রা।মনে হয়, এই তো সেদিনই সেলিনা নামের এক ভদ্রমহিলাকে আমি বিয়ে করেছি। সময়টা এমন দ্রুত ছুটে যাচ্ছে—যেন ক্যালেন্ডারও আমাদের সংসারের চাপ নিতে না পেরে পাতা উল্টাতে ভুলে যাচ্ছে! বিয়ে করে যে এত কষ্ট হয়, এটা আগে জানলে—শপথ করে বলছি—আমি বিয়ে করতাম না। অন্তত দুইবার ভাবতাম। তিনবার ভাবার সময় পেলে হয়তো পালিয়েই যেতাম! এই কষ্টের মাঝেই হঠাৎ একটা মহামূল্যবান পারিবারিক উপদেশ মনে পড়ে গেল। একদিন এক বাবা, একেবারে সিনেমার দৃশ্যের মতো, ছেলেকে কানে কানে বলছেন “বাবা, মন দিয়ে শোন। আমি তোকে একটা কথা বলছি। মনে রাখবি।” ছেলে আবেগে গদগদ “হ্যাঁ বাবা, বলো।” বাবা গম্ভীর কণ্ঠে বললেন “আমার অনুরোধ, তুই জীবনে বিয়ে করিস না।” ছেলে মাথা নেড়ে বলল “ঠিক আছে বাবা।” কিন্তু গল্প এখানেই শেষ না। ছেলেটা মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল “এই পরামর্শটা আমি বাবার মতো করেই আমার ছেলেকেও দিয়ে যাব।” দেখেন মুসকিলের কথা! বিয়ে কেউ করতে মানা করে না, আবার না-করার উপদেশও বংশপরম্পরায় চলতে থাকে। ফলে যা হয় সবাই বিয়ে করে, সবাই কষ্ট পায়, আর সবাই গোপনে বলে ‘আগে জানলে বিয়ে করতাম না!’ এই হলো সংসারের অমোঘ চক্র ভাত আছে, তরকারি আছে, ভালোবাসা আছে, কিন্তু শান্তি? সে সম্ভবত শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গেছে! বছর ঘুরে বিবাহ বার্ষিকী এলেই মনে হয়—জীবনের অগণিত দিনের ভিড়ের মধ্য থেকে একটি নির্দিষ্ট দিন হঠাৎ আলাদা হয়ে দাঁড়ায়। সে দিনটি আর শুধু তারিখ থাকে না, হয়ে ওঠে স্মৃতির দরজা। ২৪ জানুয়ারি—এই দিনটি আমার জীবনে এমনই এক দরজা, যেখানে দাঁড়ালেই পেছনের দিকে তাকাতে ইচ্ছে করে, আবার সামনের পথের জন্য বুক ভরে সাহস নিতে মন চায়। এই দিনটি আমার আর সেলিনার একসাথে পথচলার শপথের দিন। আনন্দ ছিল, ভয়ও ছিল। কারণ বিয়ে মানেই শুধু ফুল, আলো আর হাসি নয়—বিয়ে মানে অজানার দিকে দু’জন মানুষের একসাথে এগিয়ে যাওয়া। জানতাম না, সামনে কী অপেক্ষা করছে। শুধু জানতাম—পাশে একজন মানুষ থাকবে। ফেসবুক আজকাল বড় নিষ্ঠুর—হঠাৎ করে পুরোনো ছবি দেখিয়ে দেয়, পুরোনো ক্ষত ছুঁয়ে দেয়, আবার পুরোনো আনন্দও ফিরিয়ে আনে। এবারের বার্ষিকীতে চার বছর আগের একটি ছবি সামনে এল—নাতি কাশিবকে নিয়ে। সাদা-কালোর সেই মুহূর্তগুলো আমার চোখের সামনে রঙিন হয়ে উঠল। বুঝলাম, সময় চলে যায় ঠিকই, কিন্তু ভালোবাসা থেকে যায়—রূপ বদলে, চরিত্র বদলে। আমি মনে মনে নিজেকেই প্রশ্ন করলাম—এই বিয়ে না হলে কি এই দৃশ্যগুলো দেখতাম? এই পরিপূর্ণতা কি আসত? মানুষের জীবন এক মহাসমুদ্র। কখনো ঢেউ আছড়ে পড়ে, কখনো জল থমকে দাঁড়ায়। আমার জীবনও তেমনই—সংঘর্ষে ভরা, ঝুঁকিতে ভরা, প্রশ্নে ভরা। কিন্তু এই সমুদ্রে আমার একটি নির্ভরযোগ্য নোঙর ছিল—সেলিনা। আমি কামাল উদ্দিন—পেশায় সাংবাদিক, লেখক। একসময় অপরাধ সাংবাদিকতা ছিল আমার নেশা। রাত-দিন ছুটে বেড়ানো, ঝুঁকি, হুমকি, অনিশ্চয়তা—এসবই ছিল আমার নিত্যসঙ্গী। পেশার এই কঠিন পথে হাঁটার শক্তিটা আমি একা পাইনি। পেয়েছি ঘরের ভেতর থেকে। ১৯৯৪ সালের এক সাধারণ দিনে আমাদের বিয়ে। তখন আমি জীবনের দৌড়ে একা ছুটছিলাম। স্বপ্ন ছিল, কিন্তু স্থিরতা ছিল না। সেলিনা সেই অস্থির জীবনে স্থিরতার প্রথম নাম। সে আমার শূন্য ঘরকে ঘর বানিয়েছে, আমার অগোছালো জীবনকে ছন্দ দিয়েছে। সংসারের শুরুটা ছিল টক-ঝাল। অর্থকষ্ট ছিল, সময়ের অভাব ছিল, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা ছিল। আমি কাজ নিয়ে ব্যস্ত, সে অপেক্ষায়। আমি বাইরে যুদ্ধ করছি, সে ঘরে শান্তি রক্ষা করছে। কখনো সে বুঝিয়েছে, কখনো চুপ করে থেকেছে। সেই চুপ করে থাকা ছিল সবচেয়ে বড় ত্যাগ। আমাদের সংসারে মিষ্টিও এসেছে—সন্তানদের হাসিতে। সাকিব, কাশপি আর সাইকি—তাদের বড় করে তোলার প্রতিটি ধাপে সেলিনার শ্রম, ধৈর্য আর ভালোবাসা জড়িয়ে আছে। আমি অনেক সময় পাশে থাকতে পারিনি, সে একাই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে। মান-অভিমান এসেছে—এসেছে বলেই তো সম্পর্ক মানুষ হয়েছে। আমি ভুল করেছি, তার জন্মদিন ভুলে গেছি। সে রাগ করেনি—নীরব ছিল। সেই নীরবতা আমাকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। ছোট একটি উপহার আর গভীর অনুতাপে তার চোখে যে আলো দেখেছিলাম, তা আমাকে শিখিয়েছে—ভালোবাসা কখনো দাবি করে না, শুধু বুঝে নিতে চায়। আমার জীবনের অনেক কষ্ট আমি কখনো বলিনি। লেখক হয়েও নিজের দুঃখ লিখিনি। পেশার চাপ, লড়াই, ক্লান্তি—এসব সে চুপচাপ ভাগ করে নিয়েছে। রাত জেগে অপেক্ষা করেছে, দেরিতে ফেরা স্বামীর দরজা খুলে দিয়েছে, প্রশ্ন না করেই। আজ আমাদের সন্তানরা বড়। আমাদের জীবনে নাতি-নাতনিরা এসেছে—কাশিব, কায়ান, কাইয়া। তাদের হাসিতে আমাদের জীবনের ক্লান্তি গলে যায়। বুঝি, সময় সবকিছু কেড়ে নেয় না—কিছু ফেরতও দেয়, আরও সুন্দর করে। এই দীর্ঘ ৩২ বছরের পথচলা আমাকে শিখিয়েছে—সংসার মানে নিখুঁত মানুষ হওয়া নয়, সংসার মানে অপূর্ণ মানুষ হয়ে একসাথে টিকে থাকা। সেলিনা শুধু আমার স্ত্রী নয়—সে আমার পথচলার সাহস, আমার এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা, আমার জীবনের নীরব নায়ক। এই বিবাহ বার্ষিকীতে আমি কোনো উপহার দিতে পারি না, শুধু কৃতজ্ঞতা দিতে পারি। ধন্যবাদ সেলিনা—আমার জীবনের প্রতিটি ঝড়, প্রতিটি রোদ, প্রতিটি নীরব রাতে আমার পাশে থাকার জন্য। এই গল্প শুধু আমার নয়। এটি সেলিনার গল্প। এটি আমাদের ভালোবাসার গল্প। এটি আমাদের জীবনের গল্প।
– — সাংবাদিক কামাল ভাইয়ের বিবাহ বার্ষিকী রিপোর্ট ঃ আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিক ও লেখক কামাল ভাইয়ের অনলাইন থেকে নেওয়া আজ আমার বিবাহ বার্ষীকিঃ “”আমার বিয়ের দিনের কথাঃ “নীরব ভালোবাসার মহাকাব্য : সেলিনার পাশে হাঁটা আমার জীবন- “”নাতনিকে বসে আছে -এই মহিলার সাথেই আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধনটি গাঁথা হয়েছিল।আজ থেকে ঠিক ৩২ বছর আগে—২৪শে জানুয়ারি ৯৪ সালে কনকনে ঠান্ডা শীতের রাতে- সময় পেরিয়েছে, চুলে রুপালি রেখা নেমেছে, জীবনের পথে এসেছে সুখ–দুঃখ, হাসি–অশ্রু— তবু সম্পর্কের মূলটুকু রয়ে গেছে অটুট, বিশ্বাস আর মমতায় বাঁধা। ৩২ বছরের দাম্পত্য শুধু একটি তারিখ নয়, এটা স্মৃতি, দায়িত্ব আর নিরব ভালোবাসার দীর্ঘ এক যাত্রা।মনে হয়, এই তো সেদিনই সেলিনা নামের এক ভদ্রমহিলাকে আমি বিয়ে করেছি। সময়টা এমন দ্রুত ছুটে যাচ্ছে—যেন ক্যালেন্ডারও আমাদের সংসারের চাপ নিতে না পেরে পাতা উল্টাতে ভুলে যাচ্ছে! বিয়ে করে যে এত কষ্ট হয়, এটা আগে জানলে—শপথ করে বলছি—আমি বিয়ে করতাম না। অন্তত দুইবার ভাবতাম। তিনবার ভাবার সময় পেলে হয়তো পালিয়েই যেতাম! এই কষ্টের মাঝেই হঠাৎ একটা মহামূল্যবান পারিবারিক উপদেশ মনে পড়ে গেল। একদিন এক বাবা, একেবারে সিনেমার দৃশ্যের মতো, ছেলেকে কানে কানে বলছেন “বাবা, মন দিয়ে শোন। আমি তোকে একটা কথা বলছি। মনে রাখবি।” ছেলে আবেগে গদগদ “হ্যাঁ বাবা, বলো।” বাবা গম্ভীর কণ্ঠে বললেন “আমার অনুরোধ, তুই জীবনে বিয়ে করিস না।” ছেলে মাথা নেড়ে বলল “ঠিক আছে বাবা।” কিন্তু গল্প এখানেই শেষ না। ছেলেটা মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল “এই পরামর্শটা আমি বাবার মতো করেই আমার ছেলেকেও দিয়ে যাব।” দেখেন মুসকিলের কথা! বিয়ে কেউ করতে মানা করে না, আবার না-করার উপদেশও বংশপরম্পরায় চলতে থাকে। ফলে যা হয় সবাই বিয়ে করে, সবাই কষ্ট পায়, আর সবাই গোপনে বলে ‘আগে জানলে বিয়ে করতাম না!’ এই হলো সংসারের অমোঘ চক্র ভাত আছে, তরকারি আছে, ভালোবাসা আছে, কিন্তু শান্তি? সে সম্ভবত শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গেছে! বছর ঘুরে বিবাহ বার্ষিকী এলেই মনে হয়—জীবনের অগণিত দিনের ভিড়ের মধ্য থেকে একটি নির্দিষ্ট দিন হঠাৎ আলাদা হয়ে দাঁড়ায়। সে দিনটি আর শুধু তারিখ থাকে না, হয়ে ওঠে স্মৃতির দরজা। ২৪ জানুয়ারি—এই দিনটি আমার জীবনে এমনই এক দরজা, যেখানে দাঁড়ালেই পেছনের দিকে তাকাতে ইচ্ছে করে, আবার সামনের পথের জন্য বুক ভরে সাহস নিতে মন চায়। এই দিনটি আমার আর সেলিনার একসাথে পথচলার শপথের দিন। আনন্দ ছিল, ভয়ও ছিল। কারণ বিয়ে মানেই শুধু ফুল, আলো আর হাসি নয়—বিয়ে মানে অজানার দিকে দু’জন মানুষের একসাথে এগিয়ে যাওয়া। জানতাম না, সামনে কী অপেক্ষা করছে। শুধু জানতাম—পাশে একজন মানুষ থাকবে। ফেসবুক আজকাল বড় নিষ্ঠুর—হঠাৎ করে পুরোনো ছবি দেখিয়ে দেয়, পুরোনো ক্ষত ছুঁয়ে দেয়, আবার পুরোনো আনন্দও ফিরিয়ে আনে। এবারের বার্ষিকীতে চার বছর আগের একটি ছবি সামনে এল—নাতি কাশিবকে নিয়ে। সাদা-কালোর সেই মুহূর্তগুলো আমার চোখের সামনে রঙিন হয়ে উঠল। বুঝলাম, সময় চলে যায় ঠিকই, কিন্তু ভালোবাসা থেকে যায়—রূপ বদলে, চরিত্র বদলে। আমি মনে মনে নিজেকেই প্রশ্ন করলাম—এই বিয়ে না হলে কি এই দৃশ্যগুলো দেখতাম? এই পরিপূর্ণতা কি আসত? মানুষের জীবন এক মহাসমুদ্র। কখনো ঢেউ আছড়ে পড়ে, কখনো জল থমকে দাঁড়ায়। আমার জীবনও তেমনই—সংঘর্ষে ভরা, ঝুঁকিতে ভরা, প্রশ্নে ভরা। কিন্তু এই সমুদ্রে আমার একটি নির্ভরযোগ্য নোঙর ছিল—সেলিনা। আমি কামাল উদ্দিন—পেশায় সাংবাদিক, লেখক। একসময় অপরাধ সাংবাদিকতা ছিল আমার নেশা। রাত-দিন ছুটে বেড়ানো, ঝুঁকি, হুমকি, অনিশ্চয়তা—এসবই ছিল আমার নিত্যসঙ্গী। পেশার এই কঠিন পথে হাঁটার শক্তিটা আমি একা পাইনি। পেয়েছি ঘরের ভেতর থেকে। ১৯৯৪ সালের এক সাধারণ দিনে আমাদের বিয়ে। তখন আমি জীবনের দৌড়ে একা ছুটছিলাম। স্বপ্ন ছিল, কিন্তু স্থিরতা ছিল না। সেলিনা সেই অস্থির জীবনে স্থিরতার প্রথম নাম। সে আমার শূন্য ঘরকে ঘর বানিয়েছে, আমার অগোছালো জীবনকে ছন্দ দিয়েছে। সংসারের শুরুটা ছিল টক-ঝাল। অর্থকষ্ট ছিল, সময়ের অভাব ছিল, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা ছিল। আমি কাজ নিয়ে ব্যস্ত, সে অপেক্ষায়। আমি বাইরে যুদ্ধ করছি, সে ঘরে শান্তি রক্ষা করছে। কখনো সে বুঝিয়েছে, কখনো চুপ করে থেকেছে। সেই চুপ করে থাকা ছিল সবচেয়ে বড় ত্যাগ। আমাদের সংসারে মিষ্টিও এসেছে—সন্তানদের হাসিতে। সাকিব, কাশপি আর সাইকি—তাদের বড় করে তোলার প্রতিটি ধাপে সেলিনার শ্রম, ধৈর্য আর ভালোবাসা জড়িয়ে আছে। আমি অনেক সময় পাশে থাকতে পারিনি, সে একাই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে। মান-অভিমান এসেছে—এসেছে বলেই তো সম্পর্ক মানুষ হয়েছে। আমি ভুল করেছি, তার জন্মদিন ভুলে গেছি। সে রাগ করেনি—নীরব ছিল। সেই নীরবতা আমাকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। ছোট একটি উপহার আর গভীর অনুতাপে তার চোখে যে আলো দেখেছিলাম, তা আমাকে শিখিয়েছে—ভালোবাসা কখনো দাবি করে না, শুধু বুঝে নিতে চায়। আমার জীবনের অনেক কষ্ট আমি কখনো বলিনি। লেখক হয়েও নিজের দুঃখ লিখিনি। পেশার চাপ, লড়াই, ক্লান্তি—এসব সে চুপচাপ ভাগ করে নিয়েছে। রাত জেগে অপেক্ষা করেছে, দেরিতে ফেরা স্বামীর দরজা খুলে দিয়েছে, প্রশ্ন না করেই। আজ আমাদের সন্তানরা বড়। আমাদের জীবনে নাতি-নাতনিরা এসেছে—কাশিব, কায়ান, কাইয়া। তাদের হাসিতে আমাদের জীবনের ক্লান্তি গলে যায়। বুঝি, সময় সবকিছু কেড়ে নেয় না—কিছু ফেরতও দেয়, আরও সুন্দর করে। এই দীর্ঘ ৩২ বছরের পথচলা আমাকে শিখিয়েছে—সংসার মানে নিখুঁত মানুষ হওয়া নয়, সংসার মানে অপূর্ণ মানুষ হয়ে একসাথে টিকে থাকা। সেলিনা শুধু আমার স্ত্রী নয়—সে আমার পথচলার সাহস, আমার এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা, আমার জীবনের নীরব নায়ক। এই বিবাহ বার্ষিকীতে আমি কোনো উপহার দিতে পারি না, শুধু কৃতজ্ঞতা দিতে পারি। ধন্যবাদ সেলিনা—আমার জীবনের প্রতিটি ঝড়, প্রতিটি রোদ, প্রতিটি নীরব রাতে আমার পাশে থাকার জন্য। এই গল্প শুধু আমার নয়। এটি সেলিনার গল্প। এটি আমাদের ভালোবাসার গল্প। এটি আমাদের জীবনের গল্প।
Our Like Page

Recent Posts