
বাগেরহাটের দশানী – মংলা – রামপাল এ সড়কের কাজ বেহাল দশা তৈরি হয়েছে
জেনিভা প্রিয়ানা বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি
বাগেরহাটে নির্মাণ কাজের ধীরগতির কারণে দশানী-রামপাল-মোংলা সড়কের বেহালদশা তৈরি হয়েছে। সংস্কারের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি, রাস্তার ওপরে এলোমেলো খোয়া, কিছুদূর পরপর বড় বড় গর্তে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে জেলার গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি। অতিদ্রুত নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে জনভোগান্তি নিরসনের দাবি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বুধবার (২৫ জুন) দুপুরে বাগেরহাট শহরের দশানী ট্রাফিক মোড় এলাকায় জড়ো হয়ে তারা মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধনকারীরা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মাহবুব ব্রাদার্সের কার্যাদেশ বাতিল করে, নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে অতিদ্রুত কাজ সমাপ্তের দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় পারভেজ গাজী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। রাস্তা দিয়ে চলাচলের কোনো উপায় নেই। যখন তখন দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের স্বস্তিতে রাখতে অতিদ্রুত সড়কটি সংস্কার করা দরকার।’
সাইফুল ইসলাম নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘কোনো রোগীও রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে পারে না। শুকনোর সময় বাড়িঘর ধুলোয় ভরে যায়, বৃষ্টির সময় কাদা পানিতে আমাদের জীবন যায়। এ অবস্থায় এলাকাবাসীকে বাঁচাতে হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও বাগেরহাট সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে আইনের আওতায় আনতে হবে।’
এক সপ্তাহের মধ্যে যদি নতুন করে কাজ শুরু না হয়, তাহলে আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন মানববন্ধনকারীরা।
সড়ক বিভাগ সূত্রে জানাযায়, ৩৩ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বাগেরহাট-রামপাল-মোংলা আঞ্চলিক মহাসসড়কটি প্রশস্তকরণ, সম্প্রসারণ ও সংস্কারের জন্য ৪টি প্যাকেজে ৩টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২০২২ সালের আগষ্ট মাসে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ৮ ব্রিজ, ২১ টি কালভার্ড ও জমি অধিগ্রহণসহ যার নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬৭ কোটি টাকা। প্রথম প্যাকেজে দশানী থেকে হেলাতলা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়কের কাজ করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মাহাবুব ব্রাদার্স। দুই দফা সময় বাড়ানো হলেও প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ১৫ শতাংশ কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার। অবশেষে ২২ মে ঠিকাদারের সাথে চুক্তি বাতিল করেছে সড়ক বিভাগ।নতুন ঠিকাদার নিয়োগের জন্য কাজ চলছে বলে জানান সড়ক বিভাগ, বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম, সড়ক বিভাগ, বাগেরহাট।
তিনি বলেন, ‘এই সড়কের ৪টি প্যাকেজের তিনটি প্যাকেজের কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে। কিন্তু প্রথম প্যাকেজের কাজ দুই দফায় সময় বাড়িয়েও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহবুব ব্রাদার্স। যার কারণে আমরা ওই ঠিকাদারের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। আমরা অতিদ্রুত নতুন করে দরপত্র আহ্বান করব। এজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে।’

