
মণিরামপুর সরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে গর্ভবতী মহিলাকে হয়রানির অভিযোগ
বিএম সাব্বির হাসান,মণিরামপুর(যশোর)প্রতিনিধি:-
যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে আসা রোগীরা দায়িত্বরত কর্মরত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, সেবা পেতে গিয়ে নানা হয়রানি ও কাঙ্খিত সেবা না পাওয়া। এখানকার নার্স ও আয়াদের রূঢ় ব্যবহারে হেনস্থার শিকার হয়ে সেবা না পেয়ে প্রতি নিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বলে গর্ভবতী মায়েদের অভিযোগ। অথচ মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দেয়ালে লেখা রয়েছে স্বাভাবিক প্রসব সেবা, সিজারিয়ান অপারেশন, গর্ভত্তোর পরিচর্যা,গর্ববতী মায়েদের প্রতিমাসে চেকাপ সেবা দেয়া হয়। কিন্তু রোগীদের অভিযোগ তারা সেবার নামে মানুষের দুর্ভোগের আর রোগীদের হেনস্থা করার দরজা খুলে বসেছে। তাদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেয়ার কেউ নেই। এদিকে সেবাগ্রহীতাদের সাথে দুর্ব্যবহার, নির্দিষ্ট ক্লিনিকে আলট্রাসোনোগ্রাম ও বিভিন্ন চেষ্ট করাতে বাধ্য করা, ডাক্তার ও প্রভাবশালী মহলের আত্মীয়-স্বজন ছাড়া, টাকা ছাড়া সিজার না করা, রাজস্ব খাতে জমা না করে উর্পাজিত অর্থ আত্মসাৎ, প্রতিবছর আসা সংস্কার বাজেটের কাজ না করে অর্থ ও গর্ভবতীদের জন্য আসা ওষুধ লোপাট করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। অবশ্য এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন যশোর জেলা সিভিল সার্জন ডা:মো: মাসুদ রানা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলে। প্রথমে নিচতলার ১২৬ নম্বর কক্ষে থাকা নার্স মুক্তি খাতুন ও তার সহযোগীর কাছ থেকে চেক আপ করে এখানকার মেডিকেল অফিসার ডা:রাফেজা খাতুনকাছে যেয়ে স্বাস্থ্য সেবা নিতে হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে তারা সেবা না দিয়ে এখানে বসে আড্ডাবাজিতে মেতে থাকেন। দুই ঘন্টায় দুজন রোগী দেখে। মঙ্গলবারের এক গর্ভবর্তী রোগী বলেন নার্স মুক্তি খাতুন জোরে আমার পেটে জাতা দিয়ে রূঢ় আচরণ করে আমাকে বলে তোমার কি হয়েছে দেখি। তখন আমি তাকে সব কিছু বলি। শুনার পর তারা তিন জনে মিলে ঘন্টা খানিক সময় খোশ গল্পে মেতে উঠেন। আমাকে চেক আপ কার্ড লিখে না দেয়ায় আমি এক পর্যায় সেখান থেকে চলে আসি। এসময় আপনাদের কাজ কি নার্স মুক্তি খাতুনকে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি জবাবে বলেন, আমাদের কাজ আসা আর যাওয়া। মন চাইলে বসে থাকেন আর না হয় চলে যান। তখন আমি চলে আসতে বাধ্য হই। তার পাশে থাকা আরেক গর্ভবতী রোগী বলেন, আমরা সকাল ৯ টা থেকে বসে আছি। সাড়ে ১২ টার পরেও তারা এখনো চেক আপ করে নাই। তার মাঝে আরেক নার্স আমার সাথে আসা বোনকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। তাদের সাথে কোন কথা বলা যায় না। তারা যেন এখানকার সর্বময় ক্ষমতাধর ব্যক্তি। এসময় নেহালপুর থেকে আসা এক গর্ভবতী মায়ের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা নিজেদেরকে অনেক বড় সরকারি কর্মচারী বলে মনে করেন। তাদের কেউ কিছু জিজ্ঞেস করতে পারে না। নার্স মুক্তি খাতুন ও তার আরেক নার্সে আমাদের সাথে দূর ব্যবহার করেন। প্রধানমন্ত্রী আসলেও তাদের কিছু করতে পারবে না বলে জানান নার্স মুক্তি খাতুন। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। যাতে করে তারা কষ্ট করে আসা রোগীদের সাথে দূর ব্যবহার করতে সাহস না পায়। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, সকল গর্ভবতীদের নিদিষ্ট কিছু কিছু ক্লিনিকে আলট্রাসোনোগ্রাম করতে পাঠানো হয়। অন্য কোথাও কেউ আলট্রাসোনোগ্রাম করে আসলে তাকে আবারো তাদের কমিশনকৃত ক্লিনিকে তা করতে বলা হয়। এমনকি অন্য কোথাও করে আসা রোগীর রিপোর্ট তেমন ভাবে দেখেন না। এছাড়াও গেটে থাকা দারোয়ানকে রোগীদের সেই নির্দিষ্ট ক্লিনিকে আলট্রাসোনোগ্রাম করতে যেতে বলতে বলেন তাদের কমিশনকৃত ল্যাবে। কোনাকোলা এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা এক গর্ভবতী নারী বলেন, এখানে সেবা নিতে এসে উল্টো হয়রানি হতে হয়। ঠিকমতো রোগী দেখেন না। এমনকি এখানকার নার্স, আয়া, দারোয়ানরাও খুব বাজে ব্যবহার করে। ডাক্তার এসে আড্ডায় মেতে যায়। কিছুক্ষন থেকে চলে যান। এক গর্ভবতী মহিলা বলেন, ওষুধ নিতে গেলে নাই বলে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এসব অনিয়ম, দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনার কারণে সরকারি হাসপাতালে গাইনী ডাক্তারের চেম্বার আছে কিন্তু রোগী নেই। অথচ সরকারি বরাদ্ধ ও খরচ হয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ দায়িত্বরত নার্স এবং কর্মকর্তা কর্মচারীদের মারাত্মক খারাপ আচরনের কারণে রোগীরা ডেলিভারী করতে আসেন না। সরকারি হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, নীচ তলায় কয়েকজন কোম্পানির মেডিকেল রিপেজেন্টিভ এবং অন্যান্য কর্মচারী বসে আছেন। কোন রোগী আসলে তারা সেবা পাচ্ছে না। এখানে দায়িত্বরত কর্মচারীরা যে যার মত চাকরি করছেন। এক গৃহবধূ জানালেন, আমি এক মাস আগে এখানে ডেলিভারি করেছি। পেটে একটু ব্যথাসহ অন্যান্য শারীরিক সমস্যা হওয়ায় আবার এসেছি। কিন্তু এই হাসপাতালে থাকা অবস্থায় দুর্বিষহ স্মৃতিগুলো মনে হলে, এসব নার্স ও ডাক্তারদের প্রতি ঘৃণাই আসে। এদিকে, দ্রুত সরকারি হাসপাতালের এই অনিয়ম দুর্নীতি বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান মণিরামপুরের সচেতনমহল। হাসপাতালে আগত গর্ভবতী নারীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এই হাসপাতালে ফ্রি তে চিকিৎসা দেয়। আমরা গরীবরা এই কারণেই এখানে আসি। কিন্তু কয়েকমাস ধরে সিজার হয়না। সিজার করতে অন্য হাসপাতালে হাজার হাজার টাকা খরচ করতে হয়। সরকারি হাসপাতালে গেলেও বাড়তি খরচ আছে। সরকারিতে ব্যবস্থা করতে না পাইরা, আমার প্রাইভেটে সিজার হইছে। কিন্তু এখানে খরচ হয়না বললেই চলে। বিনা পয়সায় চিকিৎসা পাইলে আমাগো মতো মানুষের উপকার হয়। মণিরামপুর হাসপাতালের এক মেডিকেল অফিসার বলেন, এখানে অনেক খাতাপত্র মেইনটেন করতে হয়। তাই একটু দেরি হয়। অথচ অভিযোগ রয়েছে দুই ঘন্টায় প্রায় বিশ জন রোগী দেখে শেষ করতে পারে না। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা:মো:ফাইয়াজ আহমেদ ফয়সাল এ বিষয়ে বলেন, ওদের বিষয় আমরা দেখতেছি। এদিকে হাসপাতালের একটি সূত্রটি বলছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফাইয়াজ আহমেদ যোগদানের পর থেকে এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার কাজ চলছে অনেকটা দায়সারা ভাবে। তিনি হাসপাতালের আরএমও হুমায়ুন রশিদের উপর ভরকরে হাসপাতাল চালাচ্ছেন। কোন চিকিৎসক কাজে যোগ দিয়েছেন কে কাজে যোগ দেননি, রোগীরা কেমন সেবা পাচ্ছেন এসবের কোন খবর রাখেন না তিনি। তিনি হাসপাতালে এসে বিভিন্ন সভা মিটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকছেন।

