
সাতকানিয়া থানার প্রধান ফটকের সামনে
ওসির বিরুদ্ধে মানববন্ধন জুলাই যোদ্ধাদের ।
সাতকানিয়া চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় জুলাই যোদ্ধা সানজিদকে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে প্রেরণ করার অভিযোগে সাতকানিয়া থানার ওসি মঞ্জুরুল হক এর বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বুধবার (২১জানুয়ারি) দুপুরে থানার প্রধান ফটকের সামনে ভুক্তভোগী পরিবার ও ছাত্র জনতার ব্যানারে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।মানববন্ধনে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ রাব্বি,সাইয়েদ হোসেন মানিক,সানজিদের মা আয়েশা আক্তার ও বোন সাফিয়া জান্নাত বক্তব্য রাখেন।বক্তব্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক মোঃ রাব্বি বলেন,সানজিদ জুলাই অভ্যুত্থানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। সাতকানিয়া থানার ওসি ও কিছু এসআই জুলাই যোদ্ধা সানজিদকে অন্যায়ভাবে আওয়ামী লীগের টাকায় প্রভাবিত হয়ে মিথ্যা হত্যা মামলা দিয়ে আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সাথে ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে সাতকানিয়া থানার ওসির প্রত্যাহার এবং সানজিদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। আমাদের দাবি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদায় না হলে আমরা থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিতে বাধ্য হব।সাইয়েদ হোসেন মানিক বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে সানজিদ আর আমি একসঙ্গে কেরানীহাট এলাকায় আন্দোলনে অংশ নিয়েছি।আন্দোলন পরবর্তী সময়ে এলাকায় মাদক,সন্ত্রাস ও সামাজিক অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় একটি মহল তাকে দমন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।তারই প্রেক্ষিতে প্রশাসনের সঙ্গে আঁতাত করে ওই স্বার্থন্বেষী মহলটি তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে।ঘটনাটি তদন্তপূর্বক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও সানজিদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।গ্রেপ্তার সানজিদের মা আয়েশা আক্তার বলেন,আমার ছেলে সানজিদ দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রোষানলের শিকার এবং জুলাই আন্দোলনের অগ্রণী ভূমিকা রাখার কারণে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছে।সে একটি মিথ্যা মামলায় জামিন নিতে গিয়ে আরও দুটি মিথ্যা মামলায় অন্যায়ভাবে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে,একটা মানুষ কারাগারে থাকাকালীন সময়ে কিভাবে একটি হত্যা মামলার অজ্ঞাত আসামি হয়? সাতকানিয়া থানার ওসি এবং এসআইসহ তদন্ত কর্মকর্তা যারা আছেন তাদের ইশারা ছাড়া এটা কোনভাবেই সম্ভব নয়।আমি প্রশাসনের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী লীগের এজেন্টদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি ও আমার ছেলের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।সানজিদের বোন সাফিয়া জান্নাত বলেন,আমার ভাই বর্তমানে কারাগারে আছেন। মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে প্রেরণের মতো নেক্কারজনক ঘটনা আমরা আওয়ামী লীগের আমলেই দেখেছিলাম। পরবর্তীতে এই ধরনের কর্মকাণ্ড যাতে কেউ করার সাহস না করতে পারে সেজন্য যে সমস্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদেরকে অপসারণ করে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত এবং আমার ভাইয়ের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।এর আগে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা প্রথমে বিক্ষোভ মিছিল সহকারে থানার প্রধান ফটকে আসেন।পরে তারা থানার উঠানে প্রবেশের চেষ্টা করেন।এ সময় সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা প্রধান ফটক বন্ধ করে দেন। পরে পুলিশ সদস্যরা তাদেরকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার সময় হুড়োহুড়িতে প্রধান ফটকে থাকা উত্তর পাশের ষ্টীলের গেইটটির কবজা ভেঙে যায়। পরে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি টিম এসে থানার প্রধান ফটকে অবস্থান নেন।সাতকানিয়া আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন এস এম সাকিবুজ্জামান শামীম পারভেজ বলেন,থানার প্রধান ফটকে মানববন্ধনের খবর পেয়ে আমরা সেখানে গিয়ে হাজির হই।পরে তারা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন শেষ করে তারা চলে যান।পরে আগামীতে থানার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের কর্মসূচি পালন না করার জন্য তাদেরকে সতর্ক করা হয়।সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক বলেন,সানজিদের বিরুদ্ধে থানায় অস্ত্রসহ বিভিন্ন আইনে পাঁচটি মামলা রয়েছে।ওসির অপসারণের বিরুদ্ধে জানতে চাইলে তিনি (ওসি) বলেন, এটাতো আমার বিষয় না,কেন মানববন্ধন করেছে সেটা তারাই ভালো জানেন।

