আবেদনের অযোগ্য থেকেও ২৯ বছর যাবত অধ্যক্ষঃ
মোঃ রেজাউল করিম ,
স্টাফ রিপোর্টারঃ-
গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত পিয়ার আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম আবুল খায়ের এর নিয়োগ প্রক্রিয়া ছিল অবৈধ। এছাড়াও তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজের খেয়ালখুশি মতো কলেজ পরিচালনা করে আসছেন। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে কমপক্ষে দুটি দ্বিতীয় বিভাগ থাকতে হবে। দুটিতেই তার ছিলো তৃতীয় বিভাগ, এ কারণে সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী তিনি ছিলেন আবেদনের অযোগ্য।
আবুল খায়ের ইংরেজি প্রভাষক হিসেবে ১৯৯৩ সালে নিয়োগ পান। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিলো স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে কমপক্ষে দুটি দ্বিতীয় বিভাগ থাকতে হবে। কিন্তু স্নাতক ও স্নাতকোত্তর দুটিতেই ছিলো তার তৃতীয় বিভাগ। সরকারি বিধি মোতাবেক তিনি ছিলেন আবেদন করার অযোগ্য। তার শিক্ষা-সনদেও তাই দেখা যায়, এসএসসি প্রথম বিভাগ (১৯৮২), এইচএসসি দ্বিতীয় বিভাগ (১৯৮৪) স্নাতক তৃতীয় বিভাগ (১৯৮৬), স্নাতকোত্তর তৃতীয় বিভাগ (১৯৮৮), বিষয় ইংরেজি। প্রকৃতপক্ষে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন কলিম উদ্দিন মাস্টার। তারপর নিয়োগ পান শাহ আহসান। কিন্তু প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষদ্বয়ের নাম মুছে দিয়ে একেএম আবুল খায়েরকে ১৯৯৩ সাল থেকে কাগজে-কলমে প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ দেখানো হয়। যেহেতু তিনি ১৯৯৩ সালে ইংরেজি প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন তাহলে কীভাবে তিনি প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হন ? এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি!
তার শিক্ষাগত জীবনে দুটি তৃতীয় বিভাগ থাকায় ১৯৯৭ সালে এমপিও ভুক্তি থেকে আইনগতভাবে তার নাম বাদ পড়ে। কিন্তু তৎকালীন কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি, গাজীপুর-১ আসনের সাংসদ অ্যাড.রহমত আলী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের সাংসদ, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবিএম তাজুল ইসলামের জোর সুপারিশে তার নাম এমপিও ভুক্ত হয়।
তিনি সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত, বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত।
তিনি কলেজ ফান্ড পরিচালনা পরিষদ যোগসাজেশে যথেচ্ছা ব্যবহার করে আসছেন। বিগত ১৭ বছর যাবত এই কলেজে অডিট হয় না, মন্ত্রীদের প্রভাব খাটিয়ে সবই ধামাচাপা দিয়ে আসছেন। তার বিরুদ্ধে কলেজ ফান্ড থেকে কয়েক কোটি টাকা তসরুপের অভিযোগ রয়েছে। বিজ্ঞ মহল অবিলম্বে কলেজটি যেন অডিট করা হয় এমন দাবি করে আসছেন।
ওই কলেজে বৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া পরিসংখ্যান শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক বের করে দেন। তিনি ১৭ বছর যাবত বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত এবং পরিসংখ্যান বিষয়টা কলেজের পাঠদান থেকে বাদ দেওয়া হয়। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় যে রফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি'র অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা'র (জাসাস) উপজেলার সভাপতি। কলেজের শিক্ষার মানোন্নয়নে তার কোন আগ্রহ নেই। দলীয় আধিপত্য আর স্বজনপ্রীতির ফলে দিন দিন শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছেন তিনি।
এ বিষয়ে পিয়ার আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম আবুল খায়ের বলেন, 'আমাদের নিয়মিত অডিট হয়, এই কলেজে কোন অনিয়ম নেই। আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি পদে ছিলাম, কিন্তু কলেজে রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে কোনো অনিয়মে যুক্ত ছিলাম না। ১৯৯৩ সালে আমার নিয়োগ হয়, তখন কলেজটি ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ছিল, আমার যেহেতু ইংরেজি বিভাগ ছিল, এ ক্ষেত্রে যোগ্যতা কিছুটা শিথিল ছিল। আমার নিয়োগ অবৈধ নয়'।
এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহজাহান বলেন, 'এসব বিষয়ে আমার কিছু-ই জানা নেই তবে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে' বলে তিনি জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশক:আবছার উদ্দিন
উপ-সম্পাদক: সাইফুল ইসলাম ফাহাদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: চান্দিনা রোড,নিউ-মার্কেট,দেবিদ্বার, কুমিল্লা।
All rights reserved © 2025