

আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে কুষ্টিয়ার আদালত হত্যাচেষ্টা মামলার আরও এক আসামী কথিত সাংবাদিক মাহমুদ হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। তিনি ওই মামলার এজাহারভুক্ত ২৬ নম্বর আসামি।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের যুগিয়া সবজি ফার্ম পাড়ার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মাহমুদ কুষ্টিয়া পৌর সভার ১৪ নং ওয়ার্ড যুগিয়া সবজি ফার্ম পাড়ার বাসিন্দা মামুনর রশিদের ছেলে এবং কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের (আওয়ামী) সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। ফ্যাসিস্ট হাসিনার পালানোর পর থেকে কথিত এই সাংবাদিক নেতা আত্মগোপনে ছিলেন।
বুধবার সকালে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মোরাদুল ইসলাম।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২২ জুলাই আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কুমারখালী উপজেলার বানিয়াপাড়া গ্রামের মৃত জামিল হোসেন বাচ্চুর ছেলে ইয়াসির আরাফাত তুষারের দায়ের করা একটি মানহানি মামলার বিবাদী হিসেবে কুষ্টিয়ার আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। এ সময় এজাহার নামীয়দের নির্দেশে বাদীকে দিনভর আদালত ভবনে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আদালত চত্বরেই তার আমার দেশ সম্পাদকের ওপর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা করে এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনার ছয় বছর পর গত বছর ১০ অক্টোবর সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান বাদী হয়ে, ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুল আলম হানিফ, ফাসিস্টের সহযোগী সাবেক তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান ও কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি নাসির উদ্দিনসহ ৪৭ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ২০-৩০ জনের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি হত্যা চেষ্টার অভিযোগ দেন।
এজাহারে আরো বলা হয়েছে, কুষ্টিয়া আদালতের দায়িত্বরত কোর্ট ইন্সপেক্টর মনিরুজ্জামান বাদীকে পুলিশি প্রটেকশন দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং যশোর বিমান-বন্দরে পৌছে দেওয়ার জন্য একটি প্রাইভেট কার ভাড়া করার কথা জানান। তার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে বাদী আমার দেশ সম্পাদক আদালত এজলাস কক্ষ হতে বের হয়ে তার দুই সফর সঙ্গীসহ একটি সাদা রঙের প্রাইভেট কারে বসেন। গাড়ীতে বসার ২/১ মিনিটের মধ্যেই ১১ থেকে ৪৭ নং আসামি সহ আরও ১৫/২০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি অস্ত্র, রড, লাঠি-সোটা ও ইট-পাথর দিয়া উক্ত গাড়ীর সকল কাঁচ ভেঙ্গে ফেলে। লাঠি ও পাথর দিয়া আমার দেশ সম্পদককে উপর্যুপরি আঘাত করে। রক্তাক্ত জখম করে। হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দেয়া এজাহার কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা হিসেবে রেকর্ড করা