*ইস্কনের নামে রশিদ ছাপিয়ে অর্থ আদায় , টাকা ও জমি জালিয়াতির অভিযোগ*।
*খোকসায় ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ নামহট্ট সংঘে’র নামে জমি রেজিস্ট্রি, ইস্কন কর্তৃপক্ষ বলছে লিখিত অনুমতি নেই*।অনুসন্ধান পর্ব-১
বিশেষ প্রতিনিধি :-
কুষ্টিয়ার খোকসায় ইস্কন মন্দির নির্মাণের কথা বলে ভক্তদের কাছ থেকে অনুদান তুলে জালিয়াতির মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কলিমোহর মহা বিদ্যালয়ের ইংরেজি প্রভাষক শুভেন্দু বিকাশ সরকার ওরফে শুভর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আমেরিকা প্রবাসী উদ্যোক্তা ও কুষ্টিয়া জেলা ইস্কন কর্তৃপক্ষ।
ইস্কন খোকসা মন্দিরের উদ্যোক্তা ও আমেরিকা প্রবাসী নিধি গৌর দাস গত ১৮ আগস্ট তার ফেসবুক আইডি ‘Nidhi Das’ থেকে অভিযোগ করেন, মন্দির নির্মাণের কথা বলে অনুদান তোলা হয়। কিন্তু কোনো নিয়ম না মেনে মোট ১০ শতাংশের বেশি জমির মধ্যে মাত্র ২.২ শতাংশ জমি নিবন্ধনবিহীন সংগঠন ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ নামহট্ট সংঘ’ নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। ওই দলিলে শুভেন্দু বিকাশ সরকার নিজেই স্বাক্ষর করে ‘পরিচালক’ পদ দাবি করছেন বলে তিনি জানান।
নিধি গৌর দাসের দাবি, বাকি প্রায় ৮ শতাংশ জমি শুভর দুই সহযোগী ড. হরগোবিন্দ এবং শংকপানির নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় ইস্কনের অনুমোদন কিংবা সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর ছাড়াই এই জমি কেনা হয়েছে। ফলে আইনগতভাবে এই জমির সঙ্গে ইস্কনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এ বিষয়ে ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ নামহট্ট সংঘে’র কোষাধ্যক্ষ শংকপানী দাস দাবি করেন, ইসকন জেলা কমিটির সভাপতি বৈষ্ণবানন্দ দাস ব্রহ্মচারী সবকিছু জানেন এবং তার অনুমতিতেই এসব কাজ করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বৈষ্ণবানন্দ দাস ব্রহ্মচারী বলেন, “আমি কোনো অনুমতি দেওয়ার মালিক নই। সব বিষয়ে অনুমোদন দেওয়ার এখতিয়ার কেবল ঢাকা ইস্কন হেড অফিসের। হেড অফিসের কোনো লিখিত অনুমতিপত্র তাদের কাছে আছে কিনা আপনারা তাদের কাছে জানতে চান।”
পরে সাংবাদিকরা কোষাধ্যক্ষের কাছে ওই লিখিত অনুমতিপত্র দেখতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
ইস্কন কুষ্টিয়া মন্দিরের সভাপতি বৈষ্ণবানন্দ দাস ব্রহ্মচারী পুরো ঘটনাকে ‘প্রতারণা’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ইস্কনে ‘পরিচালক’ বলে কোনো পদ নেই। শুভ নিয়ম বহির্ভূতভাবে কারও অনুমতি ছাড়া নিজস্ব রশিদ ছাপিয়ে টাকা তুলেছেন। কেন্দ্রীয় কমিটি বা আমাকে না জানিয়ে গোপনে শ্রী শ্রী জগন্নাথ নামহট্ট সংঘে’র নামে জমিটি কেনা হয়, যেখানে ইস্কনের নামও রাখা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শুভ আমার সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করেন।”
অভিযোগের বিষয়ে শুভেন্দু বিকাশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে তিনি সাংবাদিকদের সামনে এলেও কাজের কথা বলে দ্রুত চলে যান। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। স্থানীয় কিছু মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
পরে শুভেন্দু বিকাশ সরকার ( শুভ) মুঠোফোনে সাংবাদিকদের পরের দিন সব প্রমাণপত্র দেবেন বলে জানান। কিন্তু নির্ধারিত দিনে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ ও তার এলাকায় গিয়েও তার সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
ধর্মীয় বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে অনুদানের অর্থ ও জমি নিয়ে এমন অনিয়মের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় ভক্ত ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
তারা বলছেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে প্রতারণা হলে শুধু অর্থই নয়, সাধারণ মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক:আবছার উদ্দিন
উপ-সম্পাদক: সাইফুল ইসলাম ফাহাদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: চান্দিনা রোড,নিউ-মার্কেট,দেবিদ্বার, কুমিল্লা।
All rights reserved © 2025