ফেসবুকে অপপ্রচারের জেরে কুমিল্লার আদালতে সাংবাদিকের ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা
এ.কে পালাশ কুমিল্লা প্রতিনিধি।।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার, হুমকি এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে হামলার অভিযোগে কুমিল্লার একটি আদালতে ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেছেন সাপ্তাহিক ‘লাকসাম বার্তা’র সম্পাদক ও প্রকাশক শহীদুল্লাহ ভূঁইয়া।
মামলাটি আমলে নিয়ে বিবাদীদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) বিবাদীদের সশরীরে বা আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে উপস্থিত হয়ে জবাব দেওয়ার দিন ধার্য ছিলো। কিন্তু কেউই হাজির হয়নি বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী সামছুল আলম।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লার ৩য় যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ১৮ জনকে বিবাদী করে এই মোকদ্দমাটি দায়ের করেন শহীদুল্লাহ ভূঁইয়া। তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিক।
মামলার বিবাদীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—মনোহরগঞ্জ উপজেলার বাইশগাঁও ইউনিয়নের কেয়ারী গ্রামের আল আমিন ভূঁইয়া (নিকল), মিজানুর রহমান ও গোলাম সরওয়ার।
শহীদুল্লাহ ভূঁইয়াও কেয়ারী গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর সম্পাদিত সরকারি মিডিয়াভুক্ত সাপ্তাহিক ‘লাকসাম বার্তা’ প্রায় তিন দশক ধরে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে।
মামলায় স্থানীয় বা ঘটনায় জড়িত ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এর বাইরে মানহানিকর কনটেন্ট অপসারণের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সী এবং ফেসবুকের (মেটা প্ল্যাটফর্মস ইনকর্পোরেটেড) বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পার্টনার ‘রোয়ার গ্লোবাল’-কেও পক্ষভুক্ত করা হয়েছে।
মামলার আরজিতে বাদী উল্লেখ করেন, তিনি দ্বৈত নাগরিকের কারণে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন। যেটি নিয়ম অনুযায়ী জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে অবগত করেন তিনি। গত বছরের ২১ এপ্রিল তিনি মনোহরগঞ্জ উপজেলার কেয়ারী গ্রামে তার পৈতৃক ভিটার সীমানা প্রাচীর সংস্কার করতে গেলে বিবাদীরা দলবল নিয়ে তার ওপর চড়াও হন। এ সময় বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সীমানা খুঁটি উপড়ে ফেলেন এবং নির্মাণ সামগ্রী ভাঙচুর করেন।
ঘটনার একপর্যায়ে প্রধান বিবাদী আল আমিন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে বাদী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ, মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করেন। এই ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে দেশে ও প্রবাসে বাদীর সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
বাদী শহীদুল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, 'বিবাদীরা পরিকল্পিতভাবে লাইভে এসে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে আমার ৪০ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের অর্জিত সম্মান ধূলিসাৎ করেছে। এ কারণে আমি আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছি। আমি ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছি।'
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সামছুল আলম বলেন, 'ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সম্মানহানি করা প্রচলিত আইনের পরিপন্থী। বাদীর অপূরণীয় ক্ষতি বিবেচনায় আমরা ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের ডিক্রি প্রার্থনা করেছি। আদালত আরজি গ্রহণ করে বিবাদীদের প্রতি সমন জারির আদেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা কেউই গতকাল সোমবার আদালতে হাজির হয়নি। এমনকি আইনজীবীর মাধ্যমেও তারা হাজিরা দেয়নি।'
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার ১ নম্বর বিবাদী আল আমিন ভূঁইয়া (নিকল) বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মূলত তাদের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছে। ঘটনার দিন উনার ড্রাইভার আমাদের ওপর আক্রমণের চেষ্টা করে। তখন আমরা আত্মরক্ষার জন্য ফেসবুক লাইভে যাই। এটাই প্রকৃত ঘটনা না।
সম্পাদক ও প্রকাশক:আবছার উদ্দিন
উপ-সম্পাদক: সাইফুল ইসলাম ফাহাদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: চান্দিনা রোড,নিউ-মার্কেট,দেবিদ্বার, কুমিল্লা।
All rights reserved © 2025