ব্রাহ্মণপাড়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মালাপাড়া ইউনিয়নের আসাদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে প্রায় তিন শতক সরকারি জমি দখল করে ভবন নির্মাণ করছেন একই এলাকার মৃত সামছুল হক ভূঁইয়ার ছেলে গ্রাম্য চিকিৎসক খলিলুর রহমান। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সীমানা ঘেঁষে নির্মাণকাজ চলছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, নির্মাণাধীন বাড়ির একটি বড় অংশ বিদ্যালয়ের জমির ওপর পড়েছে। বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসাদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯৭০ সালে ৩৩ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। ৮ জুলাই ১৯৭০ সালের ৯৮৭৪ নম্বর দলিলের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের জন্য জমি দান করা হয়। দলিলের গ্রহীতা ছিলেন তৎকালীন কুমিল্লার ডেপুটি কমিশনার। বিভিন্ন দাতার কাছ থেকে প্রাপ্ত জমির সমন্বয়ে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৬২ সালে গ্রামের ঈদগাহ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে বাবরী মিয়া ও তাঁর ছেলে সোনা মিয়া সিএস ৬৪৮ দাগের ১০ শতাংশ জমি ওয়াকফ করেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই ভূমিতে বিদ্যালয় ও ঈদগাহ উভয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমান বিএস জরিপে বিদ্যালয়ের নামে ১৮ শতাংশ জমি (বিএস দাগ ৬০৯) এবং ঈদগাহের নামে ১০ শতাংশ জমি (বিএস দাগ ৬০৭) রেকর্ডভুক্ত হয়। অর্থাৎ মোট ২৮ শতাংশ জমি খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অবশিষ্ট ৫ শতাংশ জমি রেকর্ডভুক্ত হয়নি এবং তা বর্তমান বিএস দাগ ৬০৮, ৬১০, ৬১১, ৬১২ ও ৬১৩ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ২০১৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর দানপত্রের মাধ্যমে আরও ৪ শতাংশ জমি যুক্ত করা হয়। সে হিসাবে বিদ্যালয়ের মোট জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৭ শতাংশ। তবে বর্তমানে বিদ্যালয়ের দখলে ওই পরিমাণ জমি নেই বলে অভিযোগ রয়েছে৷ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে খলিলুর রহমান বলেন, আমি ২০১৫ সালে জায়গাটি কিনেছি। জায়গা কিনে ভরাট করে বাড়ি নির্মাণ করছি। আমি বিদ্যালয়ের জমিতে বাড়ি করিনি। এখানে আমার ছয় শতক জমি রয়েছে। যদি কোনো অংশ বিদ্যালয়ের হয়, তাহলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যার কাছ থেকে আমি জমি কিনেছি, তার সঙ্গে কথা বলুক। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে কিছু কাগজপত্রগত জটিলতা রয়েছে। বিদ্যালয়ের যে পরিমাণ জমি থাকার কথা, বর্তমানে তা নেই। বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আসাদনগর গ্রামের একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের জমিতে বাড়ি নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে এলাকার কিছু ব্যক্তি খলিলুর রহমানের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়েছেন। তাঁদের দাবি, এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকও জড়িত থাকতে পারেন। তবে এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা কাদির ভূঁইয়া বলেন, খলিল জায়গা কিনেই বাড়ি করছেন। আমার জানা মতে সেখানে বিদ্যালয়ের কোনো জমি নেই। মালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আহসান হাবিব সোহাগ বলেন, বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে কিছু জটিলতা রয়েছে। বিদ্যালয় আমাদের সবার সম্পদ। কেউ চাইলে বিদ্যালয়ের জমি দখল করতে পারবে না। আমরা চাই বিষয়টির সঠিক সমাধান হোক এবং আইনগতভাবে নির্মাণকাজ পরিচালিত হোক। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দা সায়েমা হালিমা পারভীন বলেন, বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে জটিলতার কথা শুনেছি। তবে সেখানে বাড়ি নির্মাণ হচ্ছে, এমন তথ্য আমার জানা ছিল না। এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা জাহান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক:আবছার উদ্দিন
উপ-সম্পাদক: সাইফুল ইসলাম ফাহাদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: চান্দিনা রোড,নিউ-মার্কেট,দেবিদ্বার, কুমিল্লা।
All rights reserved © 2025