
ভাষার ভূ-রাজনীতি ও নেতৃত্বের বহুমাত্রিকতা: শহীদ জিয়ার ভাষাজ্ঞান ও বিশ্ব অর্থনীতির নতুন মানচিত্র।
মোঃ সহিদুল ইসলাম সুমন
ইতিহাসের ধূলিমলিন পাতায় যখন আমরা কোনো রাষ্ট্রনায়কের অবয়ব খুঁজি, তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাঁর সামরিক বা রাজনৈতিক পরিচয়টিই প্রধান হয়ে ওঠে। কিন্তু একজন প্রকৃত নেতার মনস্তত্ত্ব ও তাঁর দূরদর্শিতা বোঝার জন্য তাঁর ভাষাগত দক্ষতার গভীরতা পরিমাপ করা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশের আধুনিক ইতিহাসের নির্মাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন এমনই একজন মানুষ, যাঁর ব্যক্তিত্বের পরতে পরতে লুকিয়ে ছিল বহুভাষিক এক অনন্য সত্তা। তিনি কেবল যুদ্ধের ময়দানে বীরত্বের পরিচয় দেননি, বরং বিশ্ব রাজনীতির জটিল দাবার গুটিতে নিজের অবস্থান সুসংহত করতে ভাষাকে ব্যবহার করেছেন এক শাণিত হাতিয়ার হিসেবে। আমরা জানি, জিয়াউর রহমান বাংলা ও ইংরেজির মতো প্রথাগত শিক্ষিত সমাজের ভাষার বাইরেও উর্দু ও পাঞ্জাবি ভাষায় ছিলেন দারুণ সাবলীল। আপাতদৃষ্টিতে এটি সাধারণ মনে হতে পারে, কিন্তু সেই সময়ের দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতি এবং আজকের বিশ্ব অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে এই ভাষাগত দক্ষতার গুরুত্ব অপরিসীম। একজন নেতা যখন প্রতিপক্ষের বা মিত্রের ভাষায় কথা বলতে পারেন, তখন তিনি কেবল শব্দ বিনিময় করেন না, বরং সংস্কৃতির গহীনে প্রবেশ করার একটি গোপন চাবিকাঠি পেয়ে যান। জিয়ার এই ভাষাগত বৈচিত্র্য তাঁকে কেবল একজন দক্ষ সমরনায়ক হিসেবে নয়, বরং একজন দূরদর্শী কূটনীতিক হিসেবেও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে স্বাধীনতোত্তর বাংলাদেশে যখন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রয়োজন ছিল, তখন তাঁর এই ভাষাজ্ঞান অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল।
বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক ও ভাষাগত মানচিত্রের দিকে তাকালে আমরা এক বিস্ময়কর সত্যের মুখোমুখি হই। ভাষা এখন আর কেবল ভাব প্রকাশের মাধ্যম নয়, বরং এটি একটি বিশাল অর্থনৈতিক পুঁজি। বিশ্বের ভাষাগত মানচিত্রের শীর্ষস্থানটি এখন দখল করে আছে ইংরেজি। প্রায় ১.৫৩ বিলিয়ন মানুষের ব্যবহারে ইংরেজি আজ কেবল যোগাযোগের ভাষা নয়, বরং ব্যবসা, প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞানের প্রধান বৈশ্বিক মেরুদণ্ড। জিয়ার ইংরেজি ভাষায় অগাধ পাণ্ডিত্য তাঁকে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের দাবিগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরতে সাহায্য করেছিল। এরপরই আমরা দেখি মান্দারিন চীনা ভাষার দাপট। প্রায় ১.১৮ বিলিয়ন বক্তা নিয়ে এটি মাতৃভাষা হিসেবে বিশ্বের বৃহত্তম। চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক আধিপত্য আজ এই ভাষাকে বিশ্ব বাণিজ্যের এক অপরিহার্য অনুষঙ্গে পরিণত করেছে। ঠিক এই জায়গাতেই জিয়াউর রহমানের দূরদর্শিতার কথা মনে পড়ে, যিনি ‘লুক ইস্ট’ পলিসির মাধ্যমে চীনের সাথে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন। তিনি জানতেন, ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক যুদ্ধ জয় করতে হলে ভাষাগত এবং সাংস্কৃতিক বাধা টপকে সম্পর্কের সেতু গড়তে হবে। ভারতের বিশাল জনসংখ্যা ও ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক প্রভাবে ৬০৯ মিলিয়ন মানুষের ভাষা হিন্দি তালিকার তিনে রয়েছে। আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে দরকষাকষিতে কিংবা আঞ্চলিক রাজনীতিতে এই ভাষাগত নৈকট্য সবসময়ই একটি মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা দেয়। জিয়ার উর্দু ও পাঞ্জাবি ভাষায় সাবলীলতা সেই সময়ে পাকিস্তানের সাথে অমীমাংসিত ইস্যুগুলো সমাধান এবং ওআইসি সম্মেলনে মুসলিম দেশগুলোর সাথে একাত্ম হতে তাঁকে এক বিশেষ সুবিধা দিয়েছিল।
ইউরোপ ও আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ৫৫৮ মিলিয়ন বক্তা নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে স্পেনীয় বা স্প্যানিশ ভাষা। বিশ্ব অর্থনীতির এক বিশাল অংশ এই ভাষার ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার প্রধান সংযোগকারী ভাষা হিসেবে ৩৩৫ মিলিয়ন মানুষের আরবির অবস্থান পঞ্চম। জিয়াউর রহমানের আমলে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির যে দুয়ার খুলেছিল, তার মূলে ছিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। আরবির অর্থনৈতিক গুরুত্ব আজ কেবল তেলের বাজারে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি বিশ্ব বিনিয়োগের এক বড় মাধ্যম। জিয়াউর রহমান তাঁর জীবদ্দশায় মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সাথে যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছিলেন, তার পেছনে ছিল তাঁর ভাষাগত সংবেদনশীলতা এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা ফরাসি ভাষা বর্তমানে ৩১২ মিলিয়ন মানুষের মুখে উচ্চারিত হয়, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বিশেষ করে আফ্রিকার উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে শক্তিশালী প্রভাব ধরে রেখেছে। এই বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আমাদের গর্বের বাংলা ভাষা বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ মিলিয়ে ২৮৪ মিলিয়ন বক্তা নিয়ে সপ্তম স্থানে অবস্থান করছে। বাংলা কেবল আমাদের আবেগ নয়, এটি এখন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভোক্তা বাজারের ভাষা। জিয়ার রাজনীতিতে যে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন ছিল, তার মূল ভিত্তি ছিল এই বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে সগৌরবে প্রতিষ্ঠিত করা। তাঁর সময়েই বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত করার নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যার সুফল আমরা আজ ভোগ করছি।
তালিকার অষ্টম স্থানে থাকা পর্তুগিজ ভাষা ২৬৭ মিলিয়ন বক্তা নিয়ে মূলত ব্রাজিল ও পর্তুগালে প্রচলিত, যা দক্ষিণ আমেরিকার অর্থনৈতিক উত্থানের প্রতীক। এরপর ২৫৩ মিলিয়ন বক্তা নিয়ে নবম স্থানে রয়েছে রুশ ভাষা, যা রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপের বিশাল অঞ্চলে আধিপত্য বজায় রেখেছে। জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা অর্থনীতিতে রুশ ভাষার গুরুত্ব আজও অনস্বীকার্য। তালিকার দশম স্থানে রয়েছে ২৫২ মিলিয়ন বক্তা নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাষা ইন্দোনেশীয়। এই দশটি ভাষা বিশ্বের মোট জিডিপি এবং বাণিজ্যের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করে। জিয়াউর রহমানের ভাষাগত দক্ষতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি কেবল নিজের মাতৃভাষায় দক্ষ ছিলেন না, বরং সমকালীন প্রভাবশালী ভাষাগুলোর ওপর তাঁর দখল তাঁকে একজন গ্লোবাল সিটিজেন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। তিনি যখন উর্দুতে কথা বলতেন, তখন তিনি পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারতেন; যখন পাঞ্জাবিতে কথা বলতেন, তখন সামরিক আমলাতন্ত্রের মনস্তত্ত্ব বুঝতে পারতেন। আর ইংরেজিতে তাঁর দক্ষতা তো তাঁকে বিশ্বনেতাদের কাতারে নিয়ে গিয়েছিল অনায়াসেই। একজন নেতার ভাষাগত বৈচিত্র্য আসলে তাঁর চিন্তার প্রশস্ততারই প্রতিফলন। আজকের দিনে আমরা যখন গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন বা ডিজিটাল ইকোনমির কথা বলি, তখন ভাষা হয়ে ওঠে সবথেকে বড় কানেক্টর।
অর্থনৈতিকভাবে বিচার করলে, একটি দেশের নেতার ভাষাগত জ্ঞান সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই আকৃষ্ট করতে ভূমিকা রাখে। যখন কোনো রাষ্ট্রপ্রধান অন্য দেশের প্রতিনিধিদের সাথে তাঁদের ভাষায় বা অত্যন্ত প্রাঞ্জল আন্তর্জাতিক ভাষায় সাবলীলভাবে মতবিনিময় করেন, তখন আস্থার জায়গাটি অনেক দৃঢ় হয়। জিয়াউর রহমান তাঁর রাষ্ট্র পরিচালনার সংক্ষিপ্ত সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে যে পরিমাণ সহায়তা ও বিনিয়োগ আনতে সক্ষম হয়েছিলেন, তার পেছনে তাঁর ব্যক্তিত্ত্ব ও সাবলীল যোগাযোগ দক্ষতা ছিল প্রধান কারণ। তিনি জানতেন, যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে গড়ে তুলতে হলে কেবল আবেগ দিয়ে কাজ হবে না, চাই পেশাদারিত্ব ও বৈশ্বিক যোগাযোগ। এই পেশাদারিত্বের একটি বড় অংশ হলো ভাষা। বর্তমানে বিশ্বের যে ১০টি প্রধান ভাষার কথা আমরা বলছি, তার প্রতিটিরই একেকটি নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক চরিত্র রয়েছে। ইংরেজি যদি হয় ফিন্যান্সের ভাষা, তবে মান্দারিন হলো ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের ভাষা। আবার আরবি যদি হয় এনার্জি বা জ্বালানির ভাষা, তবে ফরাসি ও স্প্যানিশ হলো সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক আইনের ভাষা। এই জটিল সমীকরণে বাংলাদেশের অবস্থানকে সুদৃঢ় করতে হলে আমাদের বর্তমান প্রজন্মের মধ্যেও এই বহুভাষিক দক্ষতার বিকাশ ঘটাতে হবে, যেমনটা জিয়ার চরিত্রে দেখা গিয়েছিল।
জিয়ার ভাষাগত দক্ষতার আরেকটি দিক ছিল তাঁর অসম্ভব ধীশক্তি ও অভিযোজন ক্ষমতা। একজন মানুষ একইসাথে রণাঙ্গনের বীর, আবার তিনিই যখন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সুচিন্তিত বক্তব্য রাখেন, তখন অবাক হতে হয়। তাঁর সময়কালে সার্ক (SAARC) গঠনের যে বীজ বপন করা হয়েছিল, তার মূলে ছিল আঞ্চলিক সংহতি। আর এই সংহতি অর্জনের জন্য দক্ষিণ এশিয়ার ভাষা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন জরুরি ছিল। হিন্দি, উর্দু, বাংলা ও পাঞ্জাবি—এই ভাষাগুলোর মধ্যে যে যোগসূত্র রয়েছে, তা জিয়া চমৎকারভাবে কাজে লাগিয়েছিলেন। আজকের বিশ্বে ২৮৪ মিলিয়ন বাংলাভাষী মানুষের যে বাজার, তা যদি আমরা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে চাই, তবে আমাদের অর্থনীতিকে অবশ্যই ভাষাকেন্দ্রিক বা ‘লিঙ্গুয়িস্টিক ক্যাপিটালিজম’-এর আওতায় আনতে হবে। অর্থাৎ, আমাদের ভাষা ব্যবহারের মাধ্যমেই আমাদের ব্র্যান্ডিং নিশ্চিত করতে হবে। জিয়াউর রহমানের দূরদর্শিতা এখানেই ছিল যে, তিনি বাংলাদেশকে একটি বদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে না রেখে বিশ্বের কাছে উন্মুক্ত করতে চেয়েছিলেন। তাঁর এই উন্মুক্তকরণের চাবিকাঠি ছিল শিক্ষা ও সংস্কৃতি, যেখানে ভাষাজ্ঞান ছিল অগ্রাধিকার।
আমরা যদি বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির পরিসংখ্যানগুলো বিশ্লেষণ করি, তবে দেখব যে দেশগুলো ভাষাগতভাবে যত বেশি বৈচিত্র্যপূর্ণ, তাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতাও তত বেশি। রাশিয়ার ২৫৩ মিলিয়ন মানুষের রুশ ভাষা কেবল সাহিত্য বা বিজ্ঞানের ভাষা নয়, এটি মহাকাশ গবেষণা ও সাইবার প্রযুক্তির এক শক্তিশালী মাধ্যম। অন্যদিকে ইন্দোনেশীয় ভাষা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় যে নতুন অর্থনৈতিক বলয় তৈরি করছে, তা বাংলাদেশের জন্য এক বড় সুযোগ হতে পারে। জিয়াউর রহমান যদি আজ বেঁচে থাকতেন, তবে হয়তো তিনি আমাদের তরুণদের এই ১০টি প্রধান ভাষা শেখার ওপর জোর দিতেন। তিনি হয়তো বলতেন, কেবল বাংলা দিয়ে আমাদের আবেগ মিটবে, কিন্তু পেট ভরতে হলে এবং বিশ্বের সাথে পাল্লা দিতে হলে আমাদের বহুভাষিক হতেই হবে। তাঁর নিজের জীবনে তিনি এই সত্যটি ধারণ করেছিলেন। একজন সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর পেশাগত জীবন তাঁকে পাঞ্জাবি ও উর্দু শিখতে সাহায্য করেছিল ঠিকই, কিন্তু একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি সেগুলোকে কূটনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছিলেন। এটিই হলো একজন প্রকৃত বুদ্ধিজীবী নেতার লক্ষণ।
পরিশেষে বলা যায়, শহীদ জিয়াউর রহমানের চার ভাষায় পারদর্শিতা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন ছিল না, বরং তা ছিল একটি নবজাত রাষ্ট্রের টিকে থাকার লড়াইয়ের অন্যতম অনুষঙ্গ। বর্তমান বিশ্বের ভাষাগত ও অর্থনৈতিক মানচিত্র যখন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, যখন ইংরেজি ও মান্দারিনের পাশাপাশি হিন্দি, স্প্যানিশ বা আরবির গুরুত্ব বাড়ছে, তখন আমাদের জাতীয় নেতৃত্বকেও সেই জিয়াউর রহমানের মতো বহুভাষিক ও বহুমাত্রিক হতে হবে। ভাষা কোনো জড় বস্তু নয়। এটি একটি জীবন্ত অর্থনৈতিক শক্তি। জিয়ার জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্মকে যদি আমরা বিশ্বের শীর্ষ ১০টি ভাষার সাথে পরিচিত করতে পারি, তবেই আমাদের অর্থনীতি সত্যিকারের বৈশ্বিক রূপ পাবে। বাংলা ভাষার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখেই আমাদের হয়ে উঠতে হবে বিশ্বনাগরিক। জিয়াউর রহমানের সেই ৪টি ভাষা জানার বিষয়টি আজ আমাদের কাছে এক বিশাল অনুপ্রেরণা। তিনি দেখিয়ে গেছেন যে, শিকড়কে আঁকড়ে ধরেও কীভাবে আকাশের বিশালতাকে স্পর্শ করা যায়। তাঁর সেই ভাষাগত প্রজ্ঞা ও অর্থনৈতিক দূরদর্শিতা আজও বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রতিটি পদক্ষেপে প্রাসঙ্গিক। ভাষা হোক আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তির হাতিয়ার, যেমনটা ছিল শহিদ জিয়ার জীবনের অন্যতম দর্শন। বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং জনমিতিক লভ্যাংশ বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে হলে আমাদের অবশ্যই এই ভাষাগত মানচিত্রের সুবিধাগুলো নিতে হবে। প্রতিটি ভাষা একটি নতুন বাজার, একটি নতুন সম্ভাবনা। আর সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সাহস ও দক্ষতা জিয়াউর রহমানের মতো নেতাদের কাছ থেকেই আমাদের শিখতে হবে। আমাদের জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এই বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি লালন করাই হবে প্রতি প্রকৃত দেশপ্রেম।
লেখক : অর্থনীতি বিশ্লেষক, কলামিস্ট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গবেষক।
E-mail: msislam.sumon@gmail.com

