মাইনাস হাসিনা’ ফর্মুলায় ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ চায় আমেরিকা, মানতে নারাজ নেতারা
24hrstvbd
ডেস্ক:
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ বা সংস্কারকৃত আওয়ামী লীগ গঠনের আলোচনা ফের জোরালো হয়েছে। জানা গেছে, শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নেতৃত্ব থেকে বাদ দিয়ে একটি ‘পুতুল’ বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরাতে চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে দলের ভেতর থেকে ‘মাইনাস হাসিনা’ ফর্মুলায় কেউ সাড়া না দেওয়ায় আমেরিকার এই উদ্যোগ আপাতত থমকে আছে।
কী এই রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ?
‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ ধারণাটি প্রথম সামনে আনেন এনসিপি হাসনাত আব্দুল্লাহ। সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে এক বৈঠকের পর তিনি এ কথা জানিয়েছিলেন। গত বছর সেনাপ্রধান তার আমেরিকা সফরের পর দেশে ফিরে সেনা সদরে এক বৈঠকে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের স্বার্থে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতাদের নিয়ে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরানোর কথা বলেন। সূত্র বলছে, এটি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরই একটি চিন্তাভাবনা ও প্রজেক্ট।
আমেরিকার মূল শর্ত হলো— শেখ হাসিনা, তার পরিবারের সদস্য এবং ঘনিষ্ঠরা দলের সভাপতি বা কোনো শীর্ষ পদে থাকতে পারবেন না। নতুন নেতৃত্ব কারা দেবেন, তার একটি সম্ভাব্য তালিকাও ওয়াশিংটন থেকে দেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে। আমেরিকা চায় এমন এক নেতৃত্ব আসুক, যারা ভবিষ্যৎ সরকার বা মার্কিন নীতির সঙ্গে কোনো চরম বিরোধিতায় জড়াবে না।
নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনা ও বাস্তবতা
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা সাবের হোসেন চৌধুরী এবং শিরীন শারমিন চৌধুরীর নাম আলোচনায় আসে। একাধিক মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পরও অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তাদের জামিন ও কারামুক্তির ঘটনা এই গুঞ্জনকে আরও উসকে দেয়।
তবে দলের ভেতরের খবর হলো, আমেরিকার পছন্দের তালিকায় থাকা এই নেতারাও বুঝতে পারছেন যে, শেখ হাসিনা ও শেখ পরিবারকে ছাড়া আওয়ামী লীগ পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব। তাই তারাও যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাবে চূড়ান্ত সায় দিতে পারছেন না। দলে বিভিন্ন উপদল বা বিভাজন থাকলেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশ্নে সবাই এখনো ঐক্যবদ্ধ।
সজীব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্য
এর আগে শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় বিদেশি গণমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তার মায়ের বয়স হয়েছে এবং তিনি আর রাজনীতি করবেন না বা দেশে ফিরলেও শীর্ষ পদে থাকবেন না। শেখ পরিবারের কেউ দলের নেতৃত্বে আসতে চান না বলেও তিনি উল্লেখ করেছিলেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পরই জয় এমন বার্তা দিয়েছিলেন বলে মনে করা হয়। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় এর কোনো প্রতিফলন এখনো দেখা যায়নি।
সরকার ও বিএনপির অবস্থান
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের প্রতি কঠোর অবস্থান নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বিএনপি। সম্প্রতি রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম সীমিত বা কঠোর সাজার বিধান রেখে যে অধ্যাদেশটি পাস করা হয়েছে, সেটি তাড়াহুড়ো করে পাসের পেছনে ভূ-রাজনৈতিক কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অধ্যাদেশ পাসের দিনই সন্ধ্যায় বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের প্রতিনিধি খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফরে যান। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভারত সরকারকে এই বার্তা দেওয়াই উদ্দেশ্য ছিল যে— আওয়ামী লীগের প্রতি সরকার কোনো নমনীয়তা দেখাবে না, তবে একইসঙ্গে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতেও তারা আগ্রহী।
থমকে আছে মার্কিন প্রজেক্ট
সার্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক জটিল সমীকরণ তৈরি হয়েছে। আমেরিকা চায় তাদের শর্ত মেনে ‘রিফাইন্ড’ আওয়ামী লীগ মাঠে ফিরুক, কিন্তু শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়ে কেউ দলের হাল ধরতে রাজি না হওয়ায় মার্কিন প্রজেক্ট আপাতত সাফল্যের মুখ দেখছে না। আওয়ামী লীগ যদি আমেরিকার শর্ত মেনে নিত, তবে হয়তো এতদিনে তারা রাজনীতির মাঠে বৈধতা নিয়ে ফিরতে পারত। কিন্তু শেখ হাসিনার প্রশ্নে আপোষ না করায় পুরো প্রক্রিয়াটিই এখন একটি অচলাবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক:আবছার উদ্দিন
উপ-সম্পাদক: সাইফুল ইসলাম ফাহাদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: চান্দিনা রোড,নিউ-মার্কেট,দেবিদ্বার, কুমিল্লা।
All rights reserved © 2025