মানুষ কেন আসে?
প্রকৃতি, প্রশান্তি আর পর্যটনের টানে সাগরকন্যায় ভিকুয়াকাটাড়
এইচ এস হাসিব ইসলাম।
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত পর্যটন নগরী কুয়াকাটা দিন দিন দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। একদিকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অনন্য দৃশ্য, অন্যদিকে শান্ত সমুদ্র পরিবেশ—সব মিলিয়ে কুয়াকাটা এখন ভ্রমণপিপাসু মানুষের অন্যতম প্রথম পছন্দ।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, কুয়াকাটার প্রধান আকর্ষণ হলো একই স্থান থেকে সূর্যের ওঠা ও ডোবা দেখার বিরল সুযোগ। ভোরবেলা সূর্যোদয়ের নরম আলো এবং বিকেলে সূর্যাস্তের রঙিন আকাশ পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
শহরের কোলাহল থেকে দূরে প্রশস্ত সৈকত ও শান্ত পরিবেশ মানসিক প্রশান্তি দেয়। পরিবার, দম্পতি ও তরুণ পর্যটকদের পাশাপাশি বয়স্ক দর্শনার্থীরাও কুয়াকাটাকে বেছে নিচ্ছেন নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য।
ধর্মীয় দিক থেকেও কুয়াকাটা গুরুত্বপূর্ণ। রাস পূজা, মাঘী পূর্ণিমাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের হাজারো মানুষ এখানে সমবেত হন। পাশাপাশি রাখাইন সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য পর্যটকদের বাড়তি আগ্রহ তৈরি করে।
স্থানীয়ভাবে জেলেদের জীবনযাপন, শুঁটকি পল্লী, সামুদ্রিক মাছের বাজার এবং সহজ-সরল মানুষের আতিথেয়তা কুয়াকাটাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
পর্যটকদের জন্য কুয়াকাটার আশপাশে রয়েছে ফাতরার চর, গঙ্গামতি, লেম্বুর বন ও রাখাইন পল্লীর মতো দর্শনীয় স্থান, যা ভ্রমণকে করে তোলে আরও উপভোগ্য।
একজন পর্যটক বলেন,
“কুয়াকাটার পরিবেশ খুব শান্ত। এখানে এসে সত্যিই মনে হয় প্রকৃতির খুব কাছে চলে এসেছি।”
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান,
“ছুটির সময় ও উৎসব মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়, এতে স্থানীয় অর্থনীতিও চাঙা হয়।”
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ধর্মীয় গুরুত্ব, কম খরচে ভ্রমণ সুবিধা ও নিরাপদ পরিবেশ—সব মিলিয়ে কুয়াকাটা এখন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র। তাই মানুষ বারবার ছুটে আসে এই সাগরকন্যার কাছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক:আবছার উদ্দিন
উপ-সম্পাদক: সাইফুল ইসলাম ফাহাদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: চান্দিনা রোড,নিউ-মার্কেট,দেবিদ্বার, কুমিল্লা।
All rights reserved © 2025