মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে উক্ত সরকারি সম্পত্তির রেকর্ড দিয়ে দেন ব্যক্তি মালিকদের।
জেলার সদর উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়নের জাহানাবাদ মৌজার সিএস ১৮৬ দাগের ১৫ একর ২২ শতাংশ খাসজমি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দাপুটে সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা নিমাই চাঁদ দেবনাথ তার কলমের এক খোঁচায় ব্যক্তি মালিকানা খতিয়ান তৈরি করে দিয়েছেন বলে নানা তথ্যসূত্রে জানা যায়।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, সরকার সদর উপজেলার ১১নং নেয়াজপুর ইউনিয়নের জাহানাবাদ মৌজার জেলা জরিপী জেএল নং-১১৫-এর ১৮৬ দাগের ১৫ একর ২২ শতক জমি চলে গেল ব্যক্তি মালিকানায়।
অভিযোগ রয়েছে তিনি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে উক্ত সরকারি সম্পত্তির রেকর্ড দিয়ে দেন ব্যক্তি মালিকদের।
প্রাপ্ত তথ্য থেকে আরো জানা যায়, জেএল নং-১১৫ জাহানাবাদ মৌজার সাবেক জেলা জরিপী ১৮৬ দাগের ১৫.২২ একর ভূমি জরিপের মাঠ ও গুজারত পর্চায় কিছু ভূমিগ্রাসী নিজেদের নামে বেআইনিভাবে খতিয়ান প্রস্তুত করায় মিদ্দারহাট ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা বাদী হয়ে উক্ত রেকর্ড বাতিলের জন্য মিস কেস নং-৭১৪/২০ দায়ের করে ৬ জনের বিরুদ্ধে প্রজাতন্ত্র আইনের ৪২(ক) বিধান মতে।
নালিসী সিএস ১৮৬ দাগে ১৫.২২ শতক জমি সরকারি সম্পত্তি মর্মে রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা, সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস, এসি ল্যান্ডসহ বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রতিবেদন দেয়া হলেও জরিপ কর্মকর্তা নিমাই চাঁদ আর্থিকভাবে সুবিধা নিয়ে সরকারের কয়েক কোটি টাকার ভূমি অবৈধভাবে গুটিকয়েক ব্যক্তির নামে ২৩ জানুয়ারি ২০২২ সালে রেকর্ড দেয়ার আদেশ দেন।
প্রকাশ থাকে যে, যাদের নামে রেকর্ড দেয়া হয় তারা কেউ কোনোভাবেই উক্ত ভূমির মালিক না থাকা সত্ত্বেও তাদের নামে রেকর্ড দেয়া হয়। অবৈধ রেকর্ডধারীরা ভুয়া মামলার ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে জরিপ কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে এ ঘটনা ঘটায়। মামলায় সরকারকে পক্ষ করা হয়নি। উক্ত ভূমি বাবদ ব্যক্তিবিশেষ জোরপূর্বক খাজনা দাখিলা হাসিলের ঘটনা করলেও জেলা প্রশাসক উক্ত দাখিলাসমূহ বিগত ১১ আগস্ট ২০২২ সালে বাতিল করেন। তারপরও নিমাই চাঁদ ৪২টি খতিয়ান ব্যক্তি মালিকদের নামে সৃজনের ঘটনা করে অন্যায়ভাবে লাভবান হন।
বিষয়টি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তদন্তক্রমে খতিয়ানগুলো বাতিল এবং নিমাই চাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার গ্রহণের দাবি জানান সচেতন নাগরিক সমাজ।
এই বিষয়ে নিমাই চাঁদের মুঠোফোনে ফোন দিয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অফিসে এসে বিস্তারিত জানুন। এ বিষয়ে অনেক কিছু হয়েছে। আমরা তাকে নিউজ সংক্রান্ত বিষয়ে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরের নির্দেশনা ও প্রতিবেদনের কথা বললে তিনি বলেন, আপনি নিউজ করে দিন।
এ ব্যাপারে ভূমি জরিপ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহ. মনিরুজ্জামান, জোনাল সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা মো. সামছুল আলম, জেলা প্রশাসক মো. খুরশিদ আলম খান, সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া, মিদ্দারহাট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্তকর্তা ফারুক হোসেন, এসিল্যান্ডের কানুনগো মিলন কান্তি চাকমা, সদর উপজেলা সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা মো. আবদুর রফিকসহ আরো কয়েকজন কর্মকর্তার বিস্তারিত প্রতিবেদন আগামী সংখ্যায় স্মারক নম্বারসহ ছাপা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক:আবছার উদ্দিন
উপ-সম্পাদক: সাইফুল ইসলাম ফাহাদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: চান্দিনা রোড,নিউ-মার্কেট,দেবিদ্বার, কুমিল্লা।
All rights reserved © 2025