সীমান্ত হত্যা: নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ
চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যুরো:
বৃহস্পতিবার ১৪ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সকালে লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উয়পজেলার আমচল এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে মোঃ খালিদ নামক এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ। আজ বৃহস্পতিবার বিকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়ক মোঃ মোস্তফা আল ইহযায এ নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ০৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত সীমান্তে প্রায় ৫০ জন বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ডের গটিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তারা ২০২১ সালে ১৮ জন, ২০২২ সালে ২৩ জন, ২০২৩ সালে ৩১ জন, ২০২৪ সালে প্রায় ৩০ জন এবং ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে প্রায় ৩৪ জন বাংলাদেশি নাগরিকও কৃষক শ্রমিক হত্যা করেছে । সর্বশেষ ১০ দিনের ব্যবধানে লালমনিরহাট পাটগ্রাম ও হাতিবান্ধা,ব্রাহ্মণবাড়িয়ার (কসবা)সহ বিভিন্ন স্থানে মিলিয়ে ৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা করেছে,যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের ভয়ংকর প্রবণতা নির্দেশ করে। এসব ঘটনার অধিকাংশই নিরস্ত্র সাধারণ নাগরিকদের ওপর সংঘটিত,যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও সীমান্ত আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বিএসএফ-এর গুলি ও নির্যাতনে অন্তত ৬০৭ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে প্রায় ৮০০ জন বাংলাদেশি নিহত এবং ৭৬১ জন আহত হয়েছেন। এ ধরনের ঘটনা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পরিপন্থী এবং সীমান্তে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।
সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ মনে করে,সীমান্তে হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জোরালোভাবে আহ্বান জানাচ্ছি, এসব হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আদালতে বিষয়টি উপস্থাপনের জন্য কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। একইসঙ্গে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে আমাদের প্রস্তাবনা:
বিবৃতিতে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে সর্বদা সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে থাকার আহ্বান জানায়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের সীমান্ত বর্তমানে কোনোরূপ সুরক্ষিত নয়। তাই সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি করে ২৪ ঘণ্টা পাহারা নিশ্চিত করার জন্য অনতিবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। এ লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দৃষ্টি আকর্ষণ কেরে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ ৫টি প্রস্তাবনা প্রদান করা হয়—
১) বিজিবির সদস্যসংখ্যা বর্তমান ৫৯,৭৩৫ জন থেকে বৃদ্ধি করে ১ লাখ ২০ হাজারে উন্নীত করা এবং কমপক্ষে ১২৫টি ব্যাটালিয়ন স্থাপন করা। ২) সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার (সিসিটিভি, ড্রোন নজরদারি) বৃদ্ধি করা। ৩) কূটনৈতিক পর্যায়ে নিয়মিত বৈঠক এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত নিরাপত্তা আইন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমন ও পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি করা। ৪) সীমান্তবর্তী জনগণের জন্য সচেতনতা ও নিরাপত্তা নির্দেশনামূলক কার্যক্রম চালু করা এবং নিয়মিত সভা-সেমিনারের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। ৫) বাংলাদেশ অংশে অনতিবিলম্বে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা।
আমরা আবারও স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো ধরনের অবহেলা বরদাশত করা হবে না। সীমান্তে প্রতিটি প্রাণহানির সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও দৃঢ় ও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক:আবছার উদ্দিন
উপ-সম্পাদক: সাইফুল ইসলাম ফাহাদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: চান্দিনা রোড,নিউ-মার্কেট,দেবিদ্বার, কুমিল্লা।
All rights reserved © 2025