
নৌকার ঘাঁটি গোপালগঞ্জের ৩ আসনেই ধানের শীষের জয়
সাজিম মোল্যা গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের চূড়ান্ত ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো জেলার সবকটি আসনে জয় পেল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এর আগে ‘নৌকার ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জে কোনো নির্বাচনে দলটি কোনো আসন পায়নি।
মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীর একাংশ নিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জ–১ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১৩৮টি। সব কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিমুজ্জামান মোল্লা পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৮৬৭ ভোট এবং বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাক প্রতীকের কাবির মিয়া পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৯৬১ ভোট। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৬৭৩ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম শিমুল ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ২০ হাজার ৯৪৩ ভোট।
গোপালগঞ্জ সদর ও কাশিয়ানীর একাংশ নিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জ–২ আসনে মোট ১৫১টি কেন্দ্রের সবগুলোর ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী কে এম বাবর পেয়েছেন ৪০ হাজার ৪৮ ভোট এবং বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এইচ খান মঞ্জু হরিণ প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৩৯ ভোট।
এদিকে টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জ–৩ আসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেছেন। আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনেও এবার ধানের শীষের প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১০৮টি। সব কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এস এম জিলানী পেয়েছেন ৬০ হাজার ১৬৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী গোবিন্দচন্দ্র প্রামাণিক পেয়েছেন ৩৪ হাজার ১৬৭ ভোট।
জেলার তিনটি আসনেই ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের জয়কে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অতীতে গোপালগঞ্জে বিএনপি কোনো আসনে জয় পায়নি। এবারের ফলাফলের মধ্য দিয়ে জেলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলাফল ঘোষণার পর বিভিন্ন এলাকায় বিজয়ী প্রার্থীদের সমর্থকদের আনন্দ মিছিল করতে দেখা গেছে।
ফলাফল ঘোষণার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গোপালগঞ্জ–২ আসনের বিজয়ী কে এম বাবর বলেন, তিনি গোপালগঞ্জ–২ আসনের মানুষের সেবা দেওয়ার পাশাপাশি জেলাটিকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

