
আজ তফসিল ঘোষণার পর বেআইনি জনসমাবেশ–আন্দোলন থেকে বিরত থাকার আহ্বান
মো. আবু বক্কর আতাউর
স্টাফ রিপোর্টার
আজ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সারাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে অতীতের যেকোনো অস্থিতিশীলতা এড়াতে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা বিশেষভাবে সতর্ক থাকার কথা জানায়।
তফসিল ঘোষণার পরই নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানায়, গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষায় বিরোধী রাজনৈতিক কার্যক্রম চলতে পারে, তবে কোনো অবস্থাতেই বেআইনি জনসমাবেশ, মিছিল–মিটিং, সড়ক অবরোধ কিংবা সহিংস আন্দোলন গ্রহণযোগ্য হবে না। তারা বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া যেন সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্ন থাকে এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিঘ্ন না ঘটে—এটাই সবার আগে নিশ্চিত করা জরুরি।
অপরদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও একই সতর্কতা জারি করে জানায়, তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনুমতি ছাড়া কোনো সমাবেশ, শোডাউন বা রাস্তাঘাট দখল করে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। তাদের মতে, দেশজুড়ে একটি শান্ত ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন প্রধান দায়িত্ব।
নির্বাচনকালীন সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত, অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন, সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং সব ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে বলেও একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। পাশাপাশি জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, গুজব, উসকানি বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সকল পক্ষ আইন মেনে চললে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া সম্ভব। তারা বলেন, গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখতে শৃঙ্খলা ও সহনশীলতা বজায় রাখা এখন অত্যন্ত জরুরি।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সকল পক্ষের সহযোগিতা পেলে দেশ একটি অংশগ্রহণমূলক, প্রতিযোগিতামূলক এবং শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন পাবে।

