মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন
Headline
সীমানা পেরিয়ে আলোর ফেরিওয়ালা: ডিএসইউ’র ভিসি ড. আসিফ মিজান এবং একজন শিক্ষার্থীর হৃদয়ের অর্ঘ্য সরকারী কর্মকর্তাদের অফিস সময়সূচী মেনে চলতে হবে। কুমিল্লা বুড়িচং প্রেসক্লাবের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হামলাকারী ও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কুষ্টিয়ায় বিক্ষোভ সমাবেশ পঞ্চগড়ে ইউএনও’র বিরূদ্ধে চাকুরি দেওয়ার নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের হুমকি পেয়ে নিরাপত্তাহীনতায় নারী ধুনট পৌর এলাকায় রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন ‎ পঞ্চগড়ে ১ আসনের সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল হতে হত-দরিদ্রদের মাঝে অনুদান বিতরণ বঙ্গোপসাগরীয় ভূ-রাজনীতি, বিএমসিইসি এবং বাংলাদেশ নব গঠিত সাংবাদিক সংগঠন, অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের মন্তব্যের জের; বিএমএসএফ প্রতিনিধি দল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে
Headline
Wellcome to our website...
সীমানা পেরিয়ে আলোর ফেরিওয়ালা: ডিএসইউ’র ভিসি ড. আসিফ মিজান এবং একজন শিক্ষার্থীর হৃদয়ের অর্ঘ্য
/ ১১ Time View
Update : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৭:৪৫ অপরাহ্ন

সীমানা পেরিয়ে আলোর ফেরিওয়ালা: ডিএসইউ’র ভিসি ড. আসিফ মিজান এবং একজন শিক্ষার্থীর হৃদয়ের অর্ঘ্য

– মোঃ হাসিবুল ইসলাম, উদ্যোক্তা ও সমাজ চিন্তক। প্রফেসর ড. আসিফ মিজান স্যারের সরাসরি ছাত্র।

শিক্ষক কেবল শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালের ভেতরের কোনো চরিত্র নন; তিনি জীবনের এক পরম বাতিঘর। আদর্শ শিক্ষকের কোনো ভৌগোলিক সীমানা থাকে না, থাকে না কোনো দেশের গণ্ডি। তিনি যেখানেই যান, নিজের মেধা, প্রজ্ঞা আর গভীর মানবিকতার চাদরে শিক্ষার্থীদের আগলে রাখেন। এমনই এক অনুকরণীয়, কালজয়ী এবং প্রজ্ঞাবান শিক্ষক-অভিভাবক প্রফেসর ড. আসিফ মিজান। যিনি বর্তমানে সোমালিয়ার মোগাদিসুতে অবস্থিত প্রখ্যাত ‘দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভাইসচ্যান্সেলর (উপাচার্য) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করা এই মহান শিক্ষাবিদ একসময় ঢাকার এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে আমার সরাসরি শিক্ষক ছিলেন।

সম্প্রতি স্যারের ফেসবুক ওয়ালে একটি আবেগঘন পোস্ট আমার দৃষ্টি কেড়েছে। ড. আসিফ মিজান স্যার যখন সোমালিয়ার ‘সিটি ইউনিভার্সিটি অব মোগাদিসু’র রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ও বিভাগীয় প্রধান ছিলেন, তখনকার সময়ের তাঁর একজন সোমালিয়ার ছাত্রী স্যারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে পোস্টটি লিখেছিলেন। অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে সেই পোস্টের প্রতিটি শব্দ পড়ার পর আমার মনে হয়েছে—দূর আফ্রিকার সেই শিক্ষার্থীর কলমে যেন আমার নিজের মনের অবিকল প্রতিফলন ঘটেছে! দেশ কিংবা বিদেশ—যেখানেই হোক না কেন, স্যার সবসময়ই ছাত্র-ছাত্রীদের গভীর আন্তরিকতার চাদরে ঢেকে রাখেন। সমস্ত দুঃখ-কষ্ট ভুলিয়ে দিয়ে জীবনকে সুন্দরভাবে সাজাতে তিনি এক অপার অনুপ্রেরণার উজ্জ্বল বাতিঘর।

তার সেই স্নেহধন্য ছাত্রীর লেখা থেকে একটি চমৎকার ও হৃদস্পর্শী কোটেশন এখানে উদ্ধৃত করার লোভ সামলাতে পারছি না:

“শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের চেয়েও আপনি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে একজন সত্যিকারের মানুষ হতে হয়। আফ্রিকার তপ্ত মাটিতে আপনার স্নেহ আর দিকনির্দেশনা আমাদের জন্য ছিল এক শীতল ছায়া। আপনি শুধু রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়াননি, আমাদের জীবনের দর্শন শিখিয়েছেন। আপনার মতো শিক্ষক পাওয়া আমাদের জীবনের অন্যতম সেরা উপহার।”

এই একটি কোটেশনই প্রমাণ করে, একজন শিক্ষক কীভাবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজের দেশ এবং সংস্কৃতির সেরা দূত (Ambassador) হয়ে উঠতে পারেন।

বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে ড. আসিফ মিজান স্যারের যে কর্মময় জীবন আমরা দেখি, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ ও দক্ষ প্রশাসক হিসেবে তিনি সোমালিয়ার উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্গঠনে ও আধুনিকায়নে অনন্য অবদান রেখে চলেছেন। তাঁর অ্যাকাডেমিক নেতৃত্ব, গবেষণাধর্মী দূরদর্শিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার আজ আফ্রিকার শিক্ষা মহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত। কিন্তু এই বিশাল সফলতা যে মানুষটি অর্জন করেছেন, তিনি অত্যন্ত সাদামাটা, বিনয়ী এবং পরম মমতাময়ী।

আমি মোঃ হাসিবুর রহমান, একজন উদ্যোক্তা ও সমাজ চিন্তক হিসেবে আজ গর্ব করে বলতে পারি, ড. আসিফ মিজান স্যার কেবল আমাদের শিক্ষকই ছিলেন না; তিনি ছিলেন আমাদের প্রকৃত অভিভাবক, সুখ-দুঃখের চিরন্তন সাথী এবং সংকটের পথপ্রদর্শক। একজন শিক্ষার্থীর ভেতরের সুপ্ত প্রতিভাকে কীভাবে টেনে বের করতে হয় এবং তাকে সমাজের সম্পদে রূপান্তর করতে হয়—সেই জাদুকরী ক্ষমতা স্যারের জানা আছে। কর্মজীবনের শত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি যেভাবে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর রাখেন, তা বর্তমান সময়ে বিরল।

আজ যখন সোমালিয়ার দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে ড. আসিফ মিজান স্যারকে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দিতে দেখি, তখন একজন বাংলাদেশি হিসেবে, তাঁর সরাসরি ছাত্র হিসেবে আমার বুক গর্বে ভরে ওঠে। স্যার আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে স্বপ্ন দেখতে হয় এবং শত প্রতিকূলতার মাঝেও কীভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হয়।

দূর প্রবাসে থেকেও ড. আসিফ মিজান স্যার যেভাবে প্রতিনিয়ত বিশ্বমানের জ্ঞান বিতরণ করছেন এবং মানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছেন, তা আগামী প্রজন্মের জন্য এক চিরন্তন অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। হে প্রিয় শিক্ষক, প্রিয় অভিভাবক- আপনার এই আলোর যাত্রা অব্যাহত থাকুক। আপনার দেখানো পথ ধরেই আমরাও যেন সমাজ ও দেশের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত রাখতে পারি। আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।

লেখক:
মোঃ হাসিবুল ইসলাম। উদ্যোক্তা ও সমাজ চিন্তক। প্রফেসর ড. আসিফ মিজান স্যারের সরাসরি ছাত্র।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Our Like Page