
বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সংবাদ সম্মেন
চক্রান্তের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান অনড় থাকবে
পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ও আন্তর্জাতিক সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির পক্ষ নিয়ে কতিপয় উসকানিদাতা খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবে আমার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে। সেখানে আরাকান আর্মি ও মগ লিবারেশন পার্টির মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নে মারমা সমাজের নাম ব্যবহার করা হয়। জনৈক ম্রাসাথোয়াই মারমার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রুমেল মারমা। এই রুমেল মারমা আওয়ামী আমলে জেলা পরিষদের প্রকল্পে সুবিধাভোগী কর্মী ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে খোলস বদলে বিএনপি নেতা হিসেবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ না দিয়ে অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে একটি তৈরি করা স্ক্রিপ্ট পড়ে তিনি চলে যান। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তারা নিজেদের পাহাড়ের সশস্ত্র সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর দোসর হিসেবে সরাসরি প্রমাণ করেছেন।
আমি নিয়মিত জাতীয় গণমাধ্যমগুলোতে কলাম ও প্রবন্ধ লিখে আসছি। বিশেষ করে পাহাড়ের নৃগোষ্ঠীগুলোর আগমনের ইতিহাস, বাঙালিদের অবস্থান, আদিবাসী বিতর্কের বাস্তবতা, এবং দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর অপতৎপরতা ও মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক সশস্ত্র সংগঠন ‘আরাকান আর্মি’র গভীর ষড়যন্ত্রের সত্যটি তুলে ধরাই আমার মূল অপরাধ। ফলে পাহাড়ের সন্ত্রাসী চক্র এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক কিছু ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। শুধু তারাই নয়, মিয়ানমারের আরাকান আর্মিও অতীতে আমার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। গত ২৪ মে ২০২৬ তারিখে খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবে আমার বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত সংবাদ সম্মেলনটি মূলত তারই অংশ।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে তারা আমার তীব্র মানহানি করার পাশাপাশি আমার সাংবাদিকতার পরিচয় নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা করেছে। যারা এই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, তাদের স্পষ্ট জেনে রাখা উচিত—২০০১ সাল থেকে আমি মূলধারার গণমাধ্যমে অত্যন্ত সাহসের সাথে কাজ করে আসছি। বর্তমানে ‘মানবাধিকার খবর’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শীর্ষস্থানীয় একাধিক জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন গণমাধ্যমে নিয়মিত ফ্রিল্যান্সার হিসেবে উপসম্পাদকীয় ও প্রবন্ধ লিখে আসছি। পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে এর আগে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে ‘দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ’-এর চিফ ক্রাইম রিপোর্টার এবং ‘বাংলা টিভি’র সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এছাড়াও ‘দৈনিক আমার বার্তা’য় ডেপুটি এডিটর, ‘পরিবর্তন ডটকম’ ও ‘বাংলাদেশের খবর’-এ প্রায় ৬ বছর সিনিয়র রিপোর্টার এবং ‘দৈনিক ইনকিলাব’-এ টানা ৯ বছর রিপোর্টার হিসেবে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে।
দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বিভিন্ন সময় জনপ্রিয় টিভি চ্যানেলের লাইভ টকশোতে অংশগ্রহণ করে আমার অবস্থান সবসময়ই স্পষ্ট ব্যাখ্যা করি। পাশাপাশি দেশের বিশিষ্ট ২৫ ব্যক্তির দীর্ঘ সাক্ষাৎকারভিত্তিক আমার লেখা ৩১২ পৃষ্ঠার গবেষণাধর্মী বই ‘মেরুকরণের রাজনীতি: শাহবাগ-শাপলা বিতর্ক’ প্রকাশিত হয়েছে, যা পাঠকপ্রিয়তা পেয়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে. গুগলে নাম লিখে খুঁজলেও এই সত্যতার প্রমাণ পাবেন।
আমি কেবল সাংবাদিকতা পেশাতেই নিবেদিত নই; প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ও তাত্ত্বিক ভিত্তি থেকেই রাষ্ট্রের সংকটগুলো বিশ্লেষণ করি। শিক্ষা জীবনে রাজনৈতিক বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) এবং আইনের স্নাতক (এলএলবি) ডিগ্রি থাকায় রাষ্ট্রীয় কাঠামো, শাসনব্যবস্থা ও সংবিধানের নিরেট বাস্তবতার আলোকেই আমি যেকোনো বিষয়ে কলম ধরি। যারা আমার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন, তাদের উচিত গুগলে ‘সাংবাদিক, লেখক, কলামিস্ট, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এ এইচ এম ফারুক’ লিখে সার্চ দেওয়া. সেখানে আমার শত শত গবেষণাধর্মী নিবন্ধ ও উপসম্পাদকীয় পড়ে নিজেদের জ্ঞানকে ঝালাই করে নিতে পারেন।
দীর্ঘ দুই যুগের সাংবাদিকতা জীবনে আমাকে দমাতে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসংখ্যবার আক্রমণ করা হয়েছে। ২০০৯ সালে খাগড়াছড়ির পানছড়িতে হত্যার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসীরা হামলা করেছিল; সেদিন পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে আমাকে অক্ষত উদ্ধার করে। এমনকি একপর্যায়ে আমার হাত কেটে ফেলার প্রকাশ্য ঘোষণা এবং পুরস্কারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
পার্বত্য অঞ্চলের চক্রান্তকারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে এবং আমার পরিবারকে নিয়ে নানা রকম অপপ্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু এই রক্তচক্ষু ও চক্রান্ত আমার দেশপ্রেমের পথকে কখনোই দমাতে পারবে না।
আপামর মারমা সমাজ বা সাধারণ পাহাড়ির প্রতিনিধি সেজে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলা এই তথাকথিত আন্দোলনকারীরা মূলত সাধারণ মারমা সমাজ বা পাহাড়ি সমাজের প্রকৃত প্রতিনিধি নন। বরং সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা জনৈক ম্রাসাথোয়াই মারমা। যিনি মারমা সমাজের বিভক্ত ৪টি সগঠনের মধ্যে একটির প্রতিনিধিত্ব করেন। আদতে তারা দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে অবৈধভাবে আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের চেয়ার আঁকড়ে থাকা সন্তু লারমা এবং তাঁর ভাড়ায় খাটা কিছু মানুষ যেভাবে সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস ও ভয়ের রাজত্ব কায়েম করতে চায়—এই উসকানিদাতারা তাদেরই মুদ্রার এপিট-ওপিট মাত্র। তাদের মূল লক্ষ্য হলো—পাহাড় থেকে বাঙালি জনগোষ্ঠী এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করিয়ে সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদের বীজ বপন করা।
আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে স্পষ্ট বলতে চাই, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিটি ধূলিকণা বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং আমাদের অখণ্ড সার্বভৌমত্বের প্রতীক। দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো আপস করিনি এবং ভবিষ্যতেও করব না। ভৌগোলিক মানদণ্ডে পাহাড়ে বসবাসরত প্রতিটি নাগরিকই ‘পাহাড়ি’। সেখানে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা বা বাঙালি—দিনশেষে আমরা সবাই একই ভূখণ্ডের সমান অংশীদার। কোনো অপশক্তি বা ‘মব কালচার’ আমার সত্য উচ্চারণের হাতকে স্তব্ধ করতে পারবে না।
দেশের ৬৪ জেলার দেশপ্রেমিক জনতার প্রতি আমার উদাত্ত আহ্বান—দেশের সংবিধান ও সার্বভৌমত্ববিরোধী এই চক্রান্তকারীদের অপতৎপরতা সম্পর্কে সচেতন হোন। জয় আমাদের হবেই, কারণ সত্য আমাদের পক্ষে।
লেখক: এ এইচ এম ফারুক,
সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
(পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষক)
####

