শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন
Headline
– — সাংবাদিক কামাল ভাইয়ের বিবাহ বার্ষিকী রিপোর্ট ঃ আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিক ও লেখক কামাল ভাইয়ের অনলাইন থেকে নেওয়া আজ আমার বিবাহ বার্ষীকিঃ “”আমার বিয়ের দিনের কথাঃ “নীরব ভালোবাসার মহাকাব্য : সেলিনার পাশে হাঁটা আমার জীবন- “”নাতনিকে বসে আছে -এই মহিলার সাথেই আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধনটি গাঁথা হয়েছিল।আজ থেকে ঠিক ৩২ বছর আগে—২৪শে জানুয়ারি ৯৪ সালে কনকনে ঠান্ডা শীতের রাতে- সময় পেরিয়েছে, চুলে রুপালি রেখা নেমেছে, জীবনের পথে এসেছে সুখ–দুঃখ, হাসি–অশ্রু— তবু সম্পর্কের মূলটুকু রয়ে গেছে অটুট, বিশ্বাস আর মমতায় বাঁধা। ৩২ বছরের দাম্পত্য শুধু একটি তারিখ নয়, এটা স্মৃতি, দায়িত্ব আর নিরব ভালোবাসার দীর্ঘ এক যাত্রা।মনে হয়, এই তো সেদিনই সেলিনা নামের এক ভদ্রমহিলাকে আমি বিয়ে করেছি। সময়টা এমন দ্রুত ছুটে যাচ্ছে—যেন ক্যালেন্ডারও আমাদের সংসারের চাপ নিতে না পেরে পাতা উল্টাতে ভুলে যাচ্ছে! বিয়ে করে যে এত কষ্ট হয়, এটা আগে জানলে—শপথ করে বলছি—আমি বিয়ে করতাম না। অন্তত দুইবার ভাবতাম। তিনবার ভাবার সময় পেলে হয়তো পালিয়েই যেতাম! এই কষ্টের মাঝেই হঠাৎ একটা মহামূল্যবান পারিবারিক উপদেশ মনে পড়ে গেল। একদিন এক বাবা, একেবারে সিনেমার দৃশ্যের মতো, ছেলেকে কানে কানে বলছেন “বাবা, মন দিয়ে শোন। আমি তোকে একটা কথা বলছি। মনে রাখবি।” ছেলে আবেগে গদগদ “হ্যাঁ বাবা, বলো।” বাবা গম্ভীর কণ্ঠে বললেন “আমার অনুরোধ, তুই জীবনে বিয়ে করিস না।” ছেলে মাথা নেড়ে বলল “ঠিক আছে বাবা।” কিন্তু গল্প এখানেই শেষ না। ছেলেটা মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল “এই পরামর্শটা আমি বাবার মতো করেই আমার ছেলেকেও দিয়ে যাব।” দেখেন মুসকিলের কথা! বিয়ে কেউ করতে মানা করে না, আবার না-করার উপদেশও বংশপরম্পরায় চলতে থাকে। ফলে যা হয় সবাই বিয়ে করে, সবাই কষ্ট পায়, আর সবাই গোপনে বলে ‘আগে জানলে বিয়ে করতাম না!’ এই হলো সংসারের অমোঘ চক্র ভাত আছে, তরকারি আছে, ভালোবাসা আছে, কিন্তু শান্তি? সে সম্ভবত শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গেছে! বছর ঘুরে বিবাহ বার্ষিকী এলেই মনে হয়—জীবনের অগণিত দিনের ভিড়ের মধ্য থেকে একটি নির্দিষ্ট দিন হঠাৎ আলাদা হয়ে দাঁড়ায়। সে দিনটি আর শুধু তারিখ থাকে না, হয়ে ওঠে স্মৃতির দরজা। ২৪ জানুয়ারি—এই দিনটি আমার জীবনে এমনই এক দরজা, যেখানে দাঁড়ালেই পেছনের দিকে তাকাতে ইচ্ছে করে, আবার সামনের পথের জন্য বুক ভরে সাহস নিতে মন চায়। এই দিনটি আমার আর সেলিনার একসাথে পথচলার শপথের দিন। আনন্দ ছিল, ভয়ও ছিল। কারণ বিয়ে মানেই শুধু ফুল, আলো আর হাসি নয়—বিয়ে মানে অজানার দিকে দু’জন মানুষের একসাথে এগিয়ে যাওয়া। জানতাম না, সামনে কী অপেক্ষা করছে। শুধু জানতাম—পাশে একজন মানুষ থাকবে। ফেসবুক আজকাল বড় নিষ্ঠুর—হঠাৎ করে পুরোনো ছবি দেখিয়ে দেয়, পুরোনো ক্ষত ছুঁয়ে দেয়, আবার পুরোনো আনন্দও ফিরিয়ে আনে। এবারের বার্ষিকীতে চার বছর আগের একটি ছবি সামনে এল—নাতি কাশিবকে নিয়ে। সাদা-কালোর সেই মুহূর্তগুলো আমার চোখের সামনে রঙিন হয়ে উঠল। বুঝলাম, সময় চলে যায় ঠিকই, কিন্তু ভালোবাসা থেকে যায়—রূপ বদলে, চরিত্র বদলে। আমি মনে মনে নিজেকেই প্রশ্ন করলাম—এই বিয়ে না হলে কি এই দৃশ্যগুলো দেখতাম? এই পরিপূর্ণতা কি আসত? মানুষের জীবন এক মহাসমুদ্র। কখনো ঢেউ আছড়ে পড়ে, কখনো জল থমকে দাঁড়ায়। আমার জীবনও তেমনই—সংঘর্ষে ভরা, ঝুঁকিতে ভরা, প্রশ্নে ভরা। কিন্তু এই সমুদ্রে আমার একটি নির্ভরযোগ্য নোঙর ছিল—সেলিনা। আমি কামাল উদ্দিন—পেশায় সাংবাদিক, লেখক। একসময় অপরাধ সাংবাদিকতা ছিল আমার নেশা। রাত-দিন ছুটে বেড়ানো, ঝুঁকি, হুমকি, অনিশ্চয়তা—এসবই ছিল আমার নিত্যসঙ্গী। পেশার এই কঠিন পথে হাঁটার শক্তিটা আমি একা পাইনি। পেয়েছি ঘরের ভেতর থেকে। ১৯৯৪ সালের এক সাধারণ দিনে আমাদের বিয়ে। তখন আমি জীবনের দৌড়ে একা ছুটছিলাম। স্বপ্ন ছিল, কিন্তু স্থিরতা ছিল না। সেলিনা সেই অস্থির জীবনে স্থিরতার প্রথম নাম। সে আমার শূন্য ঘরকে ঘর বানিয়েছে, আমার অগোছালো জীবনকে ছন্দ দিয়েছে। সংসারের শুরুটা ছিল টক-ঝাল। অর্থকষ্ট ছিল, সময়ের অভাব ছিল, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা ছিল। আমি কাজ নিয়ে ব্যস্ত, সে অপেক্ষায়। আমি বাইরে যুদ্ধ করছি, সে ঘরে শান্তি রক্ষা করছে। কখনো সে বুঝিয়েছে, কখনো চুপ করে থেকেছে। সেই চুপ করে থাকা ছিল সবচেয়ে বড় ত্যাগ। আমাদের সংসারে মিষ্টিও এসেছে—সন্তানদের হাসিতে। সাকিব, কাশপি আর সাইকি—তাদের বড় করে তোলার প্রতিটি ধাপে সেলিনার শ্রম, ধৈর্য আর ভালোবাসা জড়িয়ে আছে। আমি অনেক সময় পাশে থাকতে পারিনি, সে একাই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে। মান-অভিমান এসেছে—এসেছে বলেই তো সম্পর্ক মানুষ হয়েছে। আমি ভুল করেছি, তার জন্মদিন ভুলে গেছি। সে রাগ করেনি—নীরব ছিল। সেই নীরবতা আমাকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। ছোট একটি উপহার আর গভীর অনুতাপে তার চোখে যে আলো দেখেছিলাম, তা আমাকে শিখিয়েছে—ভালোবাসা কখনো দাবি করে না, শুধু বুঝে নিতে চায়। আমার জীবনের অনেক কষ্ট আমি কখনো বলিনি। লেখক হয়েও নিজের দুঃখ লিখিনি। পেশার চাপ, লড়াই, ক্লান্তি—এসব সে চুপচাপ ভাগ করে নিয়েছে। রাত জেগে অপেক্ষা করেছে, দেরিতে ফেরা স্বামীর দরজা খুলে দিয়েছে, প্রশ্ন না করেই। আজ আমাদের সন্তানরা বড়। আমাদের জীবনে নাতি-নাতনিরা এসেছে—কাশিব, কায়ান, কাইয়া। তাদের হাসিতে আমাদের জীবনের ক্লান্তি গলে যায়। বুঝি, সময় সবকিছু কেড়ে নেয় না—কিছু ফেরতও দেয়, আরও সুন্দর করে। এই দীর্ঘ ৩২ বছরের পথচলা আমাকে শিখিয়েছে—সংসার মানে নিখুঁত মানুষ হওয়া নয়, সংসার মানে অপূর্ণ মানুষ হয়ে একসাথে টিকে থাকা। সেলিনা শুধু আমার স্ত্রী নয়—সে আমার পথচলার সাহস, আমার এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা, আমার জীবনের নীরব নায়ক। এই বিবাহ বার্ষিকীতে আমি কোনো উপহার দিতে পারি না, শুধু কৃতজ্ঞতা দিতে পারি। ধন্যবাদ সেলিনা—আমার জীবনের প্রতিটি ঝড়, প্রতিটি রোদ, প্রতিটি নীরব রাতে আমার পাশে থাকার জন্য। এই গল্প শুধু আমার নয়। এটি সেলিনার গল্প। এটি আমাদের ভালোবাসার গল্প। এটি আমাদের জীবনের গল্প। কুমিল্লায় ১০-বিজিবির অভিযানে ৬১ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য উদ্ধার রাজস্থলীতে ধানের শীষকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করতে প্রচার-প্রচারণায় মাঠে বিএনপি। আগে যেমন নিশিরাতে ভোট হয়েছে, এখন আবার নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে- তারেক রহমান রাঙ্গামাটি রাজস্থলীতে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা বিষয়ে অবহিতকরণ সভা নির্বাচনী সভা; আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ। শিবপুর মডেল থানায় পিকআপ গাড়ী উপহার দিলেন ওসমান মৃধা ও লোকমান মৃধা সরাইলে বাউল মেলায় বাকবিতন্ডার জেরে দু’গ্রামবাসীর সংঘর্ষ বাড়িঘর ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ, আহত ৩০ সাতকানিয়া থানার প্রধান ফটকের সামনে  ওসির বিরুদ্ধে মানববন্ধন জুলাই যোদ্ধাদের ।
Headline
Wellcome to our website...
কুমিল্লা সদরের বৌয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় বাড়তি রেজিঃ ফি নেওয়ার অভিযোগসহ অধ্যক্ষের কার্যক্রমে অসন্তুষ্ট এলাকাবাসী
/ ২১৪ Time View
Update : শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৫:৪৯ অপরাহ্ন

কুমিল্লা সদরের বৌয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় বাড়তি রেজিঃ ফি নেওয়ার অভিযোগসহ অধ্যক্ষের কার্যক্রমে অসন্তুষ্ট এলাকাবাসী

কুমিল্লা প্রতিনিধি।।

কুমিল্লা সদরের ঐতিহ্যবাহী বৌয়ারা ফাজিল মাদ্রাসায় ৬ষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণীতে সরকারী নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন ফি’র বাহিরে বাড়তি টাকা আদায়ের অভিযোগ সহ সকল কার্যক্রমে অধ্যক্ষের এক রোখা সিদ্ধান্ত। রাজনৈতিক নেতাদের প্রকাশ্যে তোষামোদী,মাদ্রাসার বার্ষিক আয় ব্যয়ের হিসাব নিয়ে স্হানীয়দের মাঝে সন্দেহ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি এবং অনিয়ম বন্ধে প্রয়োজনে অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সোলাইমান লস্করের অপসারণের দাবি এলাকাবাসীর।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, বৌয়ারা ফাজিল মাদ্রাসাটিতে স্হানীয় এলাকার হরিপুর,নোয়াপাড়া,শাহাপুর,সূর্য্যনগর,বৌয়ারাপাড়,মান্দারী,শোভানগর, মনোহরপুর, লক্ষীুপুর,আনন্দপুর,দূর্লভপুর,রামধনপুর সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের ছেলেমেয়েরা অধ্যয়নরত আছেন। চলতি বছরের শিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মাদ্রাসাটিতে ৬ষ্ঠ এবং অষ্টম শ্রেণীর রেজিস্ট্রেশন ফি সরকারি নির্ধারণ হিসেব অনুযায়ী সরকারি ফি,রেড ক্রিসেট ফি এবং মাদ্রাসার ফান্ড সহ সর্বোচ্চ ১৪০-১৬০ টাকা নেওয়ার বিধান থাকলেও অধ্যক্ষ সোলাইমান লস্করের যোগসাজশে কোন রিসিট ছাড়াই ৬ষ্ঠ শ্রেণীর রেজিস্ট্রেশন ফি ৩০০ টাকা এবং অষ্টম শ্রেণীর রেজিস্ট্রেশন ফি ৪০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেন একাধিক ছাত্রছাত্রীর অভিভাবকগণ।

এছাড়াও আশপাশের অন্যান্য মাদ্রাসার তুলনায় ছাত্রছাত্রীদের মাসিক বেতন,বার্ষিক সেশন ফি বেশি নেওয়া,মাসে মাসে বিভিন্ন পরিক্ষার নামে পরিক্ষার ফি আদায় করা। অধ্যক্ষের পছন্দের লাইব্রেবী থেকে গাইড বই ক্রয়ের সিদ্ধান্তের বিষয়েও অভিযোগ রয়েছে।

উপরোক্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই বিষয়ে জানতে বৌয়ারা ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এর অফিসিয়াল ০১৭১৬-৯০০৮৪৬ নাম্বারে টানা তিন দিনের সকাল যাবৎ কল দিলেও তার মোবাইল ফোনের সংযোগটি পাওয়া যায়নি,তৃতীয় দিনের দুপুরের দিকে মোবাইল নাম্বারটিতে ফোন দিলে সংযোগটি পাওয়া যায়। সংযোগ পেয়ে সালাম দিয়ে কথার শুরুতেই কৌশল বিনিময় হয়।তারপর মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ সোলাইমান লস্করের কাছে ষষ্ঠ শ্রেনী এবং ৮শ্রেনীর রেজিস্ট্রেশন এর বাড়তি ফি এর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি খোঁজ নিয়ে জানাবো এবং তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কত টাকা নেওয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আমতা আমতা খাম খেয়ালি ভাবে বলেন ১/২ শত টাকা হবে বলে মনে হয়।

প্রশ্ন হলো একজন অধ্যক্ষ কিভাবে বলতে পারেন “মনে হয়” তার মনে হয় জবাবের বিষয়টি গ্রহণযোগ্য কিনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা দপ্তর সহ সকলের দৃষ্টি আর্কষণ করছি। অধ্যক্ষ সোলাইমান লস্কর মাদ্রাসার অথরিটি হিসেবে তিনি “মনে হয়” শব্দটি ব্যবহার করতে পারেন কিনা?। অধ্যক্ষ সোলাইমান লস্কর কে পুনরায় রেজিস্ট্রেশনের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি মোবাইল ফোনে বলেন,আমি আপনার এসব বিষয়ে কিছুক্ষন পরে কথা বলবো আমি এখন ক্লাসে আছি বলে তিনি কলটি কেটে দেন। তার কথা অনুযায়ী তাকে ওই দিন বিকালের দিকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কলটি রিসিভ না করে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে দেন।

তার কিছু সময় পর মাদ্রাসাটির পদবীতে সিনিয়র শিক্ষক নেছার উদ্দিন লস্কর এর ০১৬৪৭-৩৮০৬৬৩ নাম্বারে ফোন করে সার্বিক বিষয়ে তাকে জানানোর পর আলোচনার এক পর্যায়ে শিক্ষক নেছার উদ্দিন জানান, আপনি দশ মিনিট আগে ফোন দিলেই তো হুজুরকে পেতেন, তিনি তো এতোক্ষন অফিসেই ছিলেন তার সামনেই আমি ছিলাম। নেছার উদ্দিন হুজুরকে যখন প্রশ্ন করি কেন হুজুর তো বললো তিনি ক্লাসে আছেন। তখন নেছার উদ্দিন হুজুর চুপ হয়ে যায় এবং তিনি শিকার করেন রেজিস্ট্রেশনের টাকা ৩০০-৪০০ টাকা নেওয়া হয়েছে, তবে এটার রিসিট না দিলেও এটা সমাধান করবেন বলে জানান। নেছার উদ্দিন হুজুর বলেন, শাহীন ভাই আপনি আমাদের এলাকার মানুষ, যা হবার হয়ে গেছে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন এটা নিয়ে আর বাড়াবাড়ি না করার অনুরোধ করে বলেন,হুজুর কেন বিষয়টি নিয়ে আপনার সাথে কথা বলেননি, আমি হুজুরের সাথে কথা বলবো এবং হুজুরকে বলবো আপনাকে কল দিয়ে কথা বলতে।

তার কিছুক্ষন পর কুমিল্লার নিরক্ষণ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক পরিচয়দানকারী ইয়াসিন নামের একজন ফোন দিয়ে জানতে চায় আমি কে আমি বৌয়ারা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কে কেন ফোন দিয়েছি। তখন আমি আমার পরিচয় দিয়ে বলার এক পর্যায়ে ইয়াসিন জানান,তাকে নাকি অধ্যক্ষ সোলাইমান হুজুর বিষয়টি জানিয়েছেন তার জন্য তিনি আমাকে কল দিয়েছেন। ইয়াসিনকে এর জবাবে সর্বশেষ বলা হয় এই বিষয়ে ধারাবাহিক নিউজ হবে।

এবিষয়ে ফেসবুক লাইভে কথা বলার পর দিন বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে অধ্যক্ষ সোলাইমান লস্করের ছোট ভাই জহির লস্কর ফেসবুক থেকে আপত্তিকর হুমকি স্বরূপ মন্তব্য সহ কমেন্ট করেন।তিনি আমার ম্যাসেঞ্জারে নক করে নিজেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সময়ের ক্যাডার হিসেবে উপস্হাপন করতে শুরু করেন। এছাড়া জহির লস্কর নিজেকে উচ্চ ডির্গ্রীধারী দাবি করে আমাকে আপত্তিকর অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ সহ আমাকে মিথ্যা মামলা,আমার বিরুদ্ধে লিখালিখি সহ মারধরের হুমকি দমকি দেন যা ইতি মধ্যে এলাকাবাসীকে জানিয়ে তার ম্যান্সেজারের কথোপকথন স্কীন কপি ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া হয়েছে।

এই বিষয়ে অধ্যক্ষ সোলাইমান লস্করের পক্ষ নিয়ে স্হানীয় এলাকার হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা জৈনক এক ব্যক্তি আমাকে বৌয়ারা মাদ্রাসার বিষয়ে ফেসবুক লাইভে না আসার অনুরোধ করেন। গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিকালের দিকে তিনি পুনরায় আবার আমার ০১৭৮৯-৬১০৮০৩ নাম্বারে কল করে মাদ্রাসার বিষয়ে যেন আর বাড়াবাড়ি এবং কোন কিছু আর না লিখি সেই জন্য আমার সন্মানে টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে সমাধান করতে আমাকে তিনি এলাকার ভাতিজা দাবি করে আমার বিকাশ নাম্বার চান। এছাড়াও আমার পারিবারিক বিষয় নিয়ে আকার ইঙ্গিত করে আমাকে ব্ল্যাক মেইল করার অহেতুক বৃথা চেষ্টা চালিয়ে যান তিনি।

স্হানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, মাদ্রাসাটি অধ্যক্ষ সোলাইমান লস্কর এর নিজ এলাকায় হওয়ায় বিগত দিন গুলোতে তিনি তার বংশীয় ও আত্নীয় স্বজনের পেশীশক্তির প্রভাব সহ স্হানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সাথে তার সখ্যতা থাকার কারণে সরকারের শিক্ষানীতির কোন আইনকানুন এর তোয়াক্কা না করে সে এলাকার কারো কথার পাত্তা না দিয়ে তার নিজ ইচ্ছা ও খেয়াল খুশি মতো গত কয়েক বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক স্হানীয় এলাকার বাসিন্দারা জানান, এই অধ্যক্ষ সোলাইমান লস্কর হলেন হলুদ মার্কা লোক।তিনি আওয়ামীলীগ যখন ক্ষমতায় ছিলো তিনি তখন আওয়ামীলীগ নেতাদের মাদ্রাসার কমিটিতে এনে মাদ্রাসাটির কার্যালয়কে আওয়ামীলীগের অঘোষিত কার্যালয়ে পরিণত করেছেন। মাদ্রাসায় কিছু একটা হলেই তিনি আওয়ামীলীগ নেতাদের ছাড়া কিছুই করতেন না। এখন আবার গত কয়েকদিন আগে মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষকদের পিছনের সারিতে বসিয়ে এলাকার কিছু বিতর্কিত লোককে সামনের সারিতে তার পাশের চেয়ারে বসিয়ে তিনি ঈদুলমিলাদুন্নবী দিবস উদযাপন করেন। তিনি এতোদিন আওয়ামীলীগের নেতাদের তেল মারছেন এখন আবার বিএনপি মনা লোকদের মাদ্রাসার বিভিন্ন প্রোগ্রামে ভিড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকাবাসীর দাবি তিনি যে একজন শিক্ষক তা তিনি ভুলেই গেছেন।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, বৌয়ারা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সোলাইমান লস্কর এই চাকুরীর সুবাধে কুমিল্লা শহরের হাউজিং ষ্টেট এ বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন।আরো জানা যায়,তিনি বৌয়ারা মাদ্রাসায় যোগদানের পর পুনরায় শহরের হযরত পাড়ায় আরো একটি জায়গা ক্রয় করেন। সে জায়গায় নিয়ে অভিযোগ রয়েছে তার প্রতিবেশীর জায়গা জোরপূর্বক দখল করে তিনি দেয়াল নির্মাণ করেছেন।

প্রশ্ন হলো তিনি অধ্যক্ষ হিসেবে মাসিক কত টাকা বেতন পান,শহরে থেকে ছেলেকে মেডিকেলে পড়াশোনা করান।মেয়েকে পড়াশোনা করান।

স্হানীয়দের ভাষ্য মতে জানা যায়, অধ্যক্ষ সোলাইমান লস্কর বৌয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় যোগদানের পর থেকে গত কয়েক বছর মাদ্রাসার নামে দেশ-বিদেশ থেকে বার্ষিক বহু অনুদানসহ বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে নগদ অর্থ কালেকশন হলেও তিনি বার্ষিক আয় ব্যয়ের কোন হিসাব নিকাশ জনসম্মুখে প্রকাশ করেননি। মাদ্রাসাটি তার নিজ এলাকায় হওয়ায় তিনি একরোখা নীতি নিয়ে চলার অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। মাদ্রাসাটিতে প্রতি বছর স্হানীয় লোকজন লাখ লাখ টাকা অনুদান দেন এবং সরকারি ভাবেও বহু সুযোগ সুবিধা আনা হয়। এলাকাবাসীর দাবি অধ্যক্ষ সোলাইমান লস্করের কার্যক্রমে সকলে অসন্তুষ্ট। স্হানীয় লোকজন মাদ্রাসাটির বার্ষিক আয় ব্যয়ে সঠিক স্বচ্ছতা চায়। তাদের দাবি মাদ্রাসার আয় ব্যয়ের হিসাব জন-সম্মুখে প্রকাশ করা হউক, এবং ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকুক। মাদ্রাসার হিসাব নিকাশে গড়মিল থাকলে এবং অস্বচ্ছতার দায়ে অধ্যক্ষ সোলাইমান লস্কর কে মাদ্রাসাটি থেকে প্রয়োজনে অপসারণ করা হউক এমনটাই দাবি স্হানীয় এলাকাবাসীর।
সর্বশেষ জানা যায়, মাদ্রাসারটির বহুতল নতুন ভবন নির্মাণেও বহু অনিয়ম হয়েছে তার অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

এই বিষয়ে অবগত সহ জানতে চেয়ে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমেন শর্মার সাথে তার সরকারি মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই মাদ্রাসাটির বর্তমান সভাপতি তো আমি নিজেই। কোন বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হলে তো আমার সাথে যোগাযোগ করে করতে হবে। অধ্যক্ষ সাহেব তো আমাকে কিছু জানাননি। তিনি আরো বলেন, অধ্যক্ষ সাহেব যে ঈদে মিলাদুন্নবী দিবস পালন করেছে তা তো আমার জানা নেই। তিনি এই প্রোগ্রামের আয়োজন/ খরচ করেছে, আমাকে না জানিয়ে আমার অনুমতি কিংবা আমাকে তো তারা জানায়নি। এই বিষয় গুলো আমি আপনার কাছে জানতে পারলাম। এই বিষয়ে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্হা গ্রহণ করবেন বলে তিনি আশ্বস্হ করেন। অধ্যক্ষ সোলাইমান লস্করের বিষয়ে আমাদের সরেজমিন অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। তা ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
– — সাংবাদিক কামাল ভাইয়ের বিবাহ বার্ষিকী রিপোর্ট ঃ আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিক ও লেখক কামাল ভাইয়ের অনলাইন থেকে নেওয়া আজ আমার বিবাহ বার্ষীকিঃ “”আমার বিয়ের দিনের কথাঃ “নীরব ভালোবাসার মহাকাব্য : সেলিনার পাশে হাঁটা আমার জীবন- “”নাতনিকে বসে আছে -এই মহিলার সাথেই আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধনটি গাঁথা হয়েছিল।আজ থেকে ঠিক ৩২ বছর আগে—২৪শে জানুয়ারি ৯৪ সালে কনকনে ঠান্ডা শীতের রাতে- সময় পেরিয়েছে, চুলে রুপালি রেখা নেমেছে, জীবনের পথে এসেছে সুখ–দুঃখ, হাসি–অশ্রু— তবু সম্পর্কের মূলটুকু রয়ে গেছে অটুট, বিশ্বাস আর মমতায় বাঁধা। ৩২ বছরের দাম্পত্য শুধু একটি তারিখ নয়, এটা স্মৃতি, দায়িত্ব আর নিরব ভালোবাসার দীর্ঘ এক যাত্রা।মনে হয়, এই তো সেদিনই সেলিনা নামের এক ভদ্রমহিলাকে আমি বিয়ে করেছি। সময়টা এমন দ্রুত ছুটে যাচ্ছে—যেন ক্যালেন্ডারও আমাদের সংসারের চাপ নিতে না পেরে পাতা উল্টাতে ভুলে যাচ্ছে! বিয়ে করে যে এত কষ্ট হয়, এটা আগে জানলে—শপথ করে বলছি—আমি বিয়ে করতাম না। অন্তত দুইবার ভাবতাম। তিনবার ভাবার সময় পেলে হয়তো পালিয়েই যেতাম! এই কষ্টের মাঝেই হঠাৎ একটা মহামূল্যবান পারিবারিক উপদেশ মনে পড়ে গেল। একদিন এক বাবা, একেবারে সিনেমার দৃশ্যের মতো, ছেলেকে কানে কানে বলছেন “বাবা, মন দিয়ে শোন। আমি তোকে একটা কথা বলছি। মনে রাখবি।” ছেলে আবেগে গদগদ “হ্যাঁ বাবা, বলো।” বাবা গম্ভীর কণ্ঠে বললেন “আমার অনুরোধ, তুই জীবনে বিয়ে করিস না।” ছেলে মাথা নেড়ে বলল “ঠিক আছে বাবা।” কিন্তু গল্প এখানেই শেষ না। ছেলেটা মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল “এই পরামর্শটা আমি বাবার মতো করেই আমার ছেলেকেও দিয়ে যাব।” দেখেন মুসকিলের কথা! বিয়ে কেউ করতে মানা করে না, আবার না-করার উপদেশও বংশপরম্পরায় চলতে থাকে। ফলে যা হয় সবাই বিয়ে করে, সবাই কষ্ট পায়, আর সবাই গোপনে বলে ‘আগে জানলে বিয়ে করতাম না!’ এই হলো সংসারের অমোঘ চক্র ভাত আছে, তরকারি আছে, ভালোবাসা আছে, কিন্তু শান্তি? সে সম্ভবত শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গেছে! বছর ঘুরে বিবাহ বার্ষিকী এলেই মনে হয়—জীবনের অগণিত দিনের ভিড়ের মধ্য থেকে একটি নির্দিষ্ট দিন হঠাৎ আলাদা হয়ে দাঁড়ায়। সে দিনটি আর শুধু তারিখ থাকে না, হয়ে ওঠে স্মৃতির দরজা। ২৪ জানুয়ারি—এই দিনটি আমার জীবনে এমনই এক দরজা, যেখানে দাঁড়ালেই পেছনের দিকে তাকাতে ইচ্ছে করে, আবার সামনের পথের জন্য বুক ভরে সাহস নিতে মন চায়। এই দিনটি আমার আর সেলিনার একসাথে পথচলার শপথের দিন। আনন্দ ছিল, ভয়ও ছিল। কারণ বিয়ে মানেই শুধু ফুল, আলো আর হাসি নয়—বিয়ে মানে অজানার দিকে দু’জন মানুষের একসাথে এগিয়ে যাওয়া। জানতাম না, সামনে কী অপেক্ষা করছে। শুধু জানতাম—পাশে একজন মানুষ থাকবে। ফেসবুক আজকাল বড় নিষ্ঠুর—হঠাৎ করে পুরোনো ছবি দেখিয়ে দেয়, পুরোনো ক্ষত ছুঁয়ে দেয়, আবার পুরোনো আনন্দও ফিরিয়ে আনে। এবারের বার্ষিকীতে চার বছর আগের একটি ছবি সামনে এল—নাতি কাশিবকে নিয়ে। সাদা-কালোর সেই মুহূর্তগুলো আমার চোখের সামনে রঙিন হয়ে উঠল। বুঝলাম, সময় চলে যায় ঠিকই, কিন্তু ভালোবাসা থেকে যায়—রূপ বদলে, চরিত্র বদলে। আমি মনে মনে নিজেকেই প্রশ্ন করলাম—এই বিয়ে না হলে কি এই দৃশ্যগুলো দেখতাম? এই পরিপূর্ণতা কি আসত? মানুষের জীবন এক মহাসমুদ্র। কখনো ঢেউ আছড়ে পড়ে, কখনো জল থমকে দাঁড়ায়। আমার জীবনও তেমনই—সংঘর্ষে ভরা, ঝুঁকিতে ভরা, প্রশ্নে ভরা। কিন্তু এই সমুদ্রে আমার একটি নির্ভরযোগ্য নোঙর ছিল—সেলিনা। আমি কামাল উদ্দিন—পেশায় সাংবাদিক, লেখক। একসময় অপরাধ সাংবাদিকতা ছিল আমার নেশা। রাত-দিন ছুটে বেড়ানো, ঝুঁকি, হুমকি, অনিশ্চয়তা—এসবই ছিল আমার নিত্যসঙ্গী। পেশার এই কঠিন পথে হাঁটার শক্তিটা আমি একা পাইনি। পেয়েছি ঘরের ভেতর থেকে। ১৯৯৪ সালের এক সাধারণ দিনে আমাদের বিয়ে। তখন আমি জীবনের দৌড়ে একা ছুটছিলাম। স্বপ্ন ছিল, কিন্তু স্থিরতা ছিল না। সেলিনা সেই অস্থির জীবনে স্থিরতার প্রথম নাম। সে আমার শূন্য ঘরকে ঘর বানিয়েছে, আমার অগোছালো জীবনকে ছন্দ দিয়েছে। সংসারের শুরুটা ছিল টক-ঝাল। অর্থকষ্ট ছিল, সময়ের অভাব ছিল, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা ছিল। আমি কাজ নিয়ে ব্যস্ত, সে অপেক্ষায়। আমি বাইরে যুদ্ধ করছি, সে ঘরে শান্তি রক্ষা করছে। কখনো সে বুঝিয়েছে, কখনো চুপ করে থেকেছে। সেই চুপ করে থাকা ছিল সবচেয়ে বড় ত্যাগ। আমাদের সংসারে মিষ্টিও এসেছে—সন্তানদের হাসিতে। সাকিব, কাশপি আর সাইকি—তাদের বড় করে তোলার প্রতিটি ধাপে সেলিনার শ্রম, ধৈর্য আর ভালোবাসা জড়িয়ে আছে। আমি অনেক সময় পাশে থাকতে পারিনি, সে একাই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে। মান-অভিমান এসেছে—এসেছে বলেই তো সম্পর্ক মানুষ হয়েছে। আমি ভুল করেছি, তার জন্মদিন ভুলে গেছি। সে রাগ করেনি—নীরব ছিল। সেই নীরবতা আমাকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। ছোট একটি উপহার আর গভীর অনুতাপে তার চোখে যে আলো দেখেছিলাম, তা আমাকে শিখিয়েছে—ভালোবাসা কখনো দাবি করে না, শুধু বুঝে নিতে চায়। আমার জীবনের অনেক কষ্ট আমি কখনো বলিনি। লেখক হয়েও নিজের দুঃখ লিখিনি। পেশার চাপ, লড়াই, ক্লান্তি—এসব সে চুপচাপ ভাগ করে নিয়েছে। রাত জেগে অপেক্ষা করেছে, দেরিতে ফেরা স্বামীর দরজা খুলে দিয়েছে, প্রশ্ন না করেই। আজ আমাদের সন্তানরা বড়। আমাদের জীবনে নাতি-নাতনিরা এসেছে—কাশিব, কায়ান, কাইয়া। তাদের হাসিতে আমাদের জীবনের ক্লান্তি গলে যায়। বুঝি, সময় সবকিছু কেড়ে নেয় না—কিছু ফেরতও দেয়, আরও সুন্দর করে। এই দীর্ঘ ৩২ বছরের পথচলা আমাকে শিখিয়েছে—সংসার মানে নিখুঁত মানুষ হওয়া নয়, সংসার মানে অপূর্ণ মানুষ হয়ে একসাথে টিকে থাকা। সেলিনা শুধু আমার স্ত্রী নয়—সে আমার পথচলার সাহস, আমার এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা, আমার জীবনের নীরব নায়ক। এই বিবাহ বার্ষিকীতে আমি কোনো উপহার দিতে পারি না, শুধু কৃতজ্ঞতা দিতে পারি। ধন্যবাদ সেলিনা—আমার জীবনের প্রতিটি ঝড়, প্রতিটি রোদ, প্রতিটি নীরব রাতে আমার পাশে থাকার জন্য। এই গল্প শুধু আমার নয়। এটি সেলিনার গল্প। এটি আমাদের ভালোবাসার গল্প। এটি আমাদের জীবনের গল্প।
– — সাংবাদিক কামাল ভাইয়ের বিবাহ বার্ষিকী রিপোর্ট ঃ আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিক ও লেখক কামাল ভাইয়ের অনলাইন থেকে নেওয়া আজ আমার বিবাহ বার্ষীকিঃ “”আমার বিয়ের দিনের কথাঃ “নীরব ভালোবাসার মহাকাব্য : সেলিনার পাশে হাঁটা আমার জীবন- “”নাতনিকে বসে আছে -এই মহিলার সাথেই আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধনটি গাঁথা হয়েছিল।আজ থেকে ঠিক ৩২ বছর আগে—২৪শে জানুয়ারি ৯৪ সালে কনকনে ঠান্ডা শীতের রাতে- সময় পেরিয়েছে, চুলে রুপালি রেখা নেমেছে, জীবনের পথে এসেছে সুখ–দুঃখ, হাসি–অশ্রু— তবু সম্পর্কের মূলটুকু রয়ে গেছে অটুট, বিশ্বাস আর মমতায় বাঁধা। ৩২ বছরের দাম্পত্য শুধু একটি তারিখ নয়, এটা স্মৃতি, দায়িত্ব আর নিরব ভালোবাসার দীর্ঘ এক যাত্রা।মনে হয়, এই তো সেদিনই সেলিনা নামের এক ভদ্রমহিলাকে আমি বিয়ে করেছি। সময়টা এমন দ্রুত ছুটে যাচ্ছে—যেন ক্যালেন্ডারও আমাদের সংসারের চাপ নিতে না পেরে পাতা উল্টাতে ভুলে যাচ্ছে! বিয়ে করে যে এত কষ্ট হয়, এটা আগে জানলে—শপথ করে বলছি—আমি বিয়ে করতাম না। অন্তত দুইবার ভাবতাম। তিনবার ভাবার সময় পেলে হয়তো পালিয়েই যেতাম! এই কষ্টের মাঝেই হঠাৎ একটা মহামূল্যবান পারিবারিক উপদেশ মনে পড়ে গেল। একদিন এক বাবা, একেবারে সিনেমার দৃশ্যের মতো, ছেলেকে কানে কানে বলছেন “বাবা, মন দিয়ে শোন। আমি তোকে একটা কথা বলছি। মনে রাখবি।” ছেলে আবেগে গদগদ “হ্যাঁ বাবা, বলো।” বাবা গম্ভীর কণ্ঠে বললেন “আমার অনুরোধ, তুই জীবনে বিয়ে করিস না।” ছেলে মাথা নেড়ে বলল “ঠিক আছে বাবা।” কিন্তু গল্প এখানেই শেষ না। ছেলেটা মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল “এই পরামর্শটা আমি বাবার মতো করেই আমার ছেলেকেও দিয়ে যাব।” দেখেন মুসকিলের কথা! বিয়ে কেউ করতে মানা করে না, আবার না-করার উপদেশও বংশপরম্পরায় চলতে থাকে। ফলে যা হয় সবাই বিয়ে করে, সবাই কষ্ট পায়, আর সবাই গোপনে বলে ‘আগে জানলে বিয়ে করতাম না!’ এই হলো সংসারের অমোঘ চক্র ভাত আছে, তরকারি আছে, ভালোবাসা আছে, কিন্তু শান্তি? সে সম্ভবত শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গেছে! বছর ঘুরে বিবাহ বার্ষিকী এলেই মনে হয়—জীবনের অগণিত দিনের ভিড়ের মধ্য থেকে একটি নির্দিষ্ট দিন হঠাৎ আলাদা হয়ে দাঁড়ায়। সে দিনটি আর শুধু তারিখ থাকে না, হয়ে ওঠে স্মৃতির দরজা। ২৪ জানুয়ারি—এই দিনটি আমার জীবনে এমনই এক দরজা, যেখানে দাঁড়ালেই পেছনের দিকে তাকাতে ইচ্ছে করে, আবার সামনের পথের জন্য বুক ভরে সাহস নিতে মন চায়। এই দিনটি আমার আর সেলিনার একসাথে পথচলার শপথের দিন। আনন্দ ছিল, ভয়ও ছিল। কারণ বিয়ে মানেই শুধু ফুল, আলো আর হাসি নয়—বিয়ে মানে অজানার দিকে দু’জন মানুষের একসাথে এগিয়ে যাওয়া। জানতাম না, সামনে কী অপেক্ষা করছে। শুধু জানতাম—পাশে একজন মানুষ থাকবে। ফেসবুক আজকাল বড় নিষ্ঠুর—হঠাৎ করে পুরোনো ছবি দেখিয়ে দেয়, পুরোনো ক্ষত ছুঁয়ে দেয়, আবার পুরোনো আনন্দও ফিরিয়ে আনে। এবারের বার্ষিকীতে চার বছর আগের একটি ছবি সামনে এল—নাতি কাশিবকে নিয়ে। সাদা-কালোর সেই মুহূর্তগুলো আমার চোখের সামনে রঙিন হয়ে উঠল। বুঝলাম, সময় চলে যায় ঠিকই, কিন্তু ভালোবাসা থেকে যায়—রূপ বদলে, চরিত্র বদলে। আমি মনে মনে নিজেকেই প্রশ্ন করলাম—এই বিয়ে না হলে কি এই দৃশ্যগুলো দেখতাম? এই পরিপূর্ণতা কি আসত? মানুষের জীবন এক মহাসমুদ্র। কখনো ঢেউ আছড়ে পড়ে, কখনো জল থমকে দাঁড়ায়। আমার জীবনও তেমনই—সংঘর্ষে ভরা, ঝুঁকিতে ভরা, প্রশ্নে ভরা। কিন্তু এই সমুদ্রে আমার একটি নির্ভরযোগ্য নোঙর ছিল—সেলিনা। আমি কামাল উদ্দিন—পেশায় সাংবাদিক, লেখক। একসময় অপরাধ সাংবাদিকতা ছিল আমার নেশা। রাত-দিন ছুটে বেড়ানো, ঝুঁকি, হুমকি, অনিশ্চয়তা—এসবই ছিল আমার নিত্যসঙ্গী। পেশার এই কঠিন পথে হাঁটার শক্তিটা আমি একা পাইনি। পেয়েছি ঘরের ভেতর থেকে। ১৯৯৪ সালের এক সাধারণ দিনে আমাদের বিয়ে। তখন আমি জীবনের দৌড়ে একা ছুটছিলাম। স্বপ্ন ছিল, কিন্তু স্থিরতা ছিল না। সেলিনা সেই অস্থির জীবনে স্থিরতার প্রথম নাম। সে আমার শূন্য ঘরকে ঘর বানিয়েছে, আমার অগোছালো জীবনকে ছন্দ দিয়েছে। সংসারের শুরুটা ছিল টক-ঝাল। অর্থকষ্ট ছিল, সময়ের অভাব ছিল, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা ছিল। আমি কাজ নিয়ে ব্যস্ত, সে অপেক্ষায়। আমি বাইরে যুদ্ধ করছি, সে ঘরে শান্তি রক্ষা করছে। কখনো সে বুঝিয়েছে, কখনো চুপ করে থেকেছে। সেই চুপ করে থাকা ছিল সবচেয়ে বড় ত্যাগ। আমাদের সংসারে মিষ্টিও এসেছে—সন্তানদের হাসিতে। সাকিব, কাশপি আর সাইকি—তাদের বড় করে তোলার প্রতিটি ধাপে সেলিনার শ্রম, ধৈর্য আর ভালোবাসা জড়িয়ে আছে। আমি অনেক সময় পাশে থাকতে পারিনি, সে একাই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে। মান-অভিমান এসেছে—এসেছে বলেই তো সম্পর্ক মানুষ হয়েছে। আমি ভুল করেছি, তার জন্মদিন ভুলে গেছি। সে রাগ করেনি—নীরব ছিল। সেই নীরবতা আমাকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। ছোট একটি উপহার আর গভীর অনুতাপে তার চোখে যে আলো দেখেছিলাম, তা আমাকে শিখিয়েছে—ভালোবাসা কখনো দাবি করে না, শুধু বুঝে নিতে চায়। আমার জীবনের অনেক কষ্ট আমি কখনো বলিনি। লেখক হয়েও নিজের দুঃখ লিখিনি। পেশার চাপ, লড়াই, ক্লান্তি—এসব সে চুপচাপ ভাগ করে নিয়েছে। রাত জেগে অপেক্ষা করেছে, দেরিতে ফেরা স্বামীর দরজা খুলে দিয়েছে, প্রশ্ন না করেই। আজ আমাদের সন্তানরা বড়। আমাদের জীবনে নাতি-নাতনিরা এসেছে—কাশিব, কায়ান, কাইয়া। তাদের হাসিতে আমাদের জীবনের ক্লান্তি গলে যায়। বুঝি, সময় সবকিছু কেড়ে নেয় না—কিছু ফেরতও দেয়, আরও সুন্দর করে। এই দীর্ঘ ৩২ বছরের পথচলা আমাকে শিখিয়েছে—সংসার মানে নিখুঁত মানুষ হওয়া নয়, সংসার মানে অপূর্ণ মানুষ হয়ে একসাথে টিকে থাকা। সেলিনা শুধু আমার স্ত্রী নয়—সে আমার পথচলার সাহস, আমার এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা, আমার জীবনের নীরব নায়ক। এই বিবাহ বার্ষিকীতে আমি কোনো উপহার দিতে পারি না, শুধু কৃতজ্ঞতা দিতে পারি। ধন্যবাদ সেলিনা—আমার জীবনের প্রতিটি ঝড়, প্রতিটি রোদ, প্রতিটি নীরব রাতে আমার পাশে থাকার জন্য। এই গল্প শুধু আমার নয়। এটি সেলিনার গল্প। এটি আমাদের ভালোবাসার গল্প। এটি আমাদের জীবনের গল্প।
Our Like Page

Recent Posts