শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন
Headline
– — সাংবাদিক কামাল ভাইয়ের বিবাহ বার্ষিকী রিপোর্ট ঃ আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিক ও লেখক কামাল ভাইয়ের অনলাইন থেকে নেওয়া আজ আমার বিবাহ বার্ষীকিঃ “”আমার বিয়ের দিনের কথাঃ “নীরব ভালোবাসার মহাকাব্য : সেলিনার পাশে হাঁটা আমার জীবন- “”নাতনিকে বসে আছে -এই মহিলার সাথেই আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধনটি গাঁথা হয়েছিল।আজ থেকে ঠিক ৩২ বছর আগে—২৪শে জানুয়ারি ৯৪ সালে কনকনে ঠান্ডা শীতের রাতে- সময় পেরিয়েছে, চুলে রুপালি রেখা নেমেছে, জীবনের পথে এসেছে সুখ–দুঃখ, হাসি–অশ্রু— তবু সম্পর্কের মূলটুকু রয়ে গেছে অটুট, বিশ্বাস আর মমতায় বাঁধা। ৩২ বছরের দাম্পত্য শুধু একটি তারিখ নয়, এটা স্মৃতি, দায়িত্ব আর নিরব ভালোবাসার দীর্ঘ এক যাত্রা।মনে হয়, এই তো সেদিনই সেলিনা নামের এক ভদ্রমহিলাকে আমি বিয়ে করেছি। সময়টা এমন দ্রুত ছুটে যাচ্ছে—যেন ক্যালেন্ডারও আমাদের সংসারের চাপ নিতে না পেরে পাতা উল্টাতে ভুলে যাচ্ছে! বিয়ে করে যে এত কষ্ট হয়, এটা আগে জানলে—শপথ করে বলছি—আমি বিয়ে করতাম না। অন্তত দুইবার ভাবতাম। তিনবার ভাবার সময় পেলে হয়তো পালিয়েই যেতাম! এই কষ্টের মাঝেই হঠাৎ একটা মহামূল্যবান পারিবারিক উপদেশ মনে পড়ে গেল। একদিন এক বাবা, একেবারে সিনেমার দৃশ্যের মতো, ছেলেকে কানে কানে বলছেন “বাবা, মন দিয়ে শোন। আমি তোকে একটা কথা বলছি। মনে রাখবি।” ছেলে আবেগে গদগদ “হ্যাঁ বাবা, বলো।” বাবা গম্ভীর কণ্ঠে বললেন “আমার অনুরোধ, তুই জীবনে বিয়ে করিস না।” ছেলে মাথা নেড়ে বলল “ঠিক আছে বাবা।” কিন্তু গল্প এখানেই শেষ না। ছেলেটা মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল “এই পরামর্শটা আমি বাবার মতো করেই আমার ছেলেকেও দিয়ে যাব।” দেখেন মুসকিলের কথা! বিয়ে কেউ করতে মানা করে না, আবার না-করার উপদেশও বংশপরম্পরায় চলতে থাকে। ফলে যা হয় সবাই বিয়ে করে, সবাই কষ্ট পায়, আর সবাই গোপনে বলে ‘আগে জানলে বিয়ে করতাম না!’ এই হলো সংসারের অমোঘ চক্র ভাত আছে, তরকারি আছে, ভালোবাসা আছে, কিন্তু শান্তি? সে সম্ভবত শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গেছে! বছর ঘুরে বিবাহ বার্ষিকী এলেই মনে হয়—জীবনের অগণিত দিনের ভিড়ের মধ্য থেকে একটি নির্দিষ্ট দিন হঠাৎ আলাদা হয়ে দাঁড়ায়। সে দিনটি আর শুধু তারিখ থাকে না, হয়ে ওঠে স্মৃতির দরজা। ২৪ জানুয়ারি—এই দিনটি আমার জীবনে এমনই এক দরজা, যেখানে দাঁড়ালেই পেছনের দিকে তাকাতে ইচ্ছে করে, আবার সামনের পথের জন্য বুক ভরে সাহস নিতে মন চায়। এই দিনটি আমার আর সেলিনার একসাথে পথচলার শপথের দিন। আনন্দ ছিল, ভয়ও ছিল। কারণ বিয়ে মানেই শুধু ফুল, আলো আর হাসি নয়—বিয়ে মানে অজানার দিকে দু’জন মানুষের একসাথে এগিয়ে যাওয়া। জানতাম না, সামনে কী অপেক্ষা করছে। শুধু জানতাম—পাশে একজন মানুষ থাকবে। ফেসবুক আজকাল বড় নিষ্ঠুর—হঠাৎ করে পুরোনো ছবি দেখিয়ে দেয়, পুরোনো ক্ষত ছুঁয়ে দেয়, আবার পুরোনো আনন্দও ফিরিয়ে আনে। এবারের বার্ষিকীতে চার বছর আগের একটি ছবি সামনে এল—নাতি কাশিবকে নিয়ে। সাদা-কালোর সেই মুহূর্তগুলো আমার চোখের সামনে রঙিন হয়ে উঠল। বুঝলাম, সময় চলে যায় ঠিকই, কিন্তু ভালোবাসা থেকে যায়—রূপ বদলে, চরিত্র বদলে। আমি মনে মনে নিজেকেই প্রশ্ন করলাম—এই বিয়ে না হলে কি এই দৃশ্যগুলো দেখতাম? এই পরিপূর্ণতা কি আসত? মানুষের জীবন এক মহাসমুদ্র। কখনো ঢেউ আছড়ে পড়ে, কখনো জল থমকে দাঁড়ায়। আমার জীবনও তেমনই—সংঘর্ষে ভরা, ঝুঁকিতে ভরা, প্রশ্নে ভরা। কিন্তু এই সমুদ্রে আমার একটি নির্ভরযোগ্য নোঙর ছিল—সেলিনা। আমি কামাল উদ্দিন—পেশায় সাংবাদিক, লেখক। একসময় অপরাধ সাংবাদিকতা ছিল আমার নেশা। রাত-দিন ছুটে বেড়ানো, ঝুঁকি, হুমকি, অনিশ্চয়তা—এসবই ছিল আমার নিত্যসঙ্গী। পেশার এই কঠিন পথে হাঁটার শক্তিটা আমি একা পাইনি। পেয়েছি ঘরের ভেতর থেকে। ১৯৯৪ সালের এক সাধারণ দিনে আমাদের বিয়ে। তখন আমি জীবনের দৌড়ে একা ছুটছিলাম। স্বপ্ন ছিল, কিন্তু স্থিরতা ছিল না। সেলিনা সেই অস্থির জীবনে স্থিরতার প্রথম নাম। সে আমার শূন্য ঘরকে ঘর বানিয়েছে, আমার অগোছালো জীবনকে ছন্দ দিয়েছে। সংসারের শুরুটা ছিল টক-ঝাল। অর্থকষ্ট ছিল, সময়ের অভাব ছিল, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা ছিল। আমি কাজ নিয়ে ব্যস্ত, সে অপেক্ষায়। আমি বাইরে যুদ্ধ করছি, সে ঘরে শান্তি রক্ষা করছে। কখনো সে বুঝিয়েছে, কখনো চুপ করে থেকেছে। সেই চুপ করে থাকা ছিল সবচেয়ে বড় ত্যাগ। আমাদের সংসারে মিষ্টিও এসেছে—সন্তানদের হাসিতে। সাকিব, কাশপি আর সাইকি—তাদের বড় করে তোলার প্রতিটি ধাপে সেলিনার শ্রম, ধৈর্য আর ভালোবাসা জড়িয়ে আছে। আমি অনেক সময় পাশে থাকতে পারিনি, সে একাই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে। মান-অভিমান এসেছে—এসেছে বলেই তো সম্পর্ক মানুষ হয়েছে। আমি ভুল করেছি, তার জন্মদিন ভুলে গেছি। সে রাগ করেনি—নীরব ছিল। সেই নীরবতা আমাকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। ছোট একটি উপহার আর গভীর অনুতাপে তার চোখে যে আলো দেখেছিলাম, তা আমাকে শিখিয়েছে—ভালোবাসা কখনো দাবি করে না, শুধু বুঝে নিতে চায়। আমার জীবনের অনেক কষ্ট আমি কখনো বলিনি। লেখক হয়েও নিজের দুঃখ লিখিনি। পেশার চাপ, লড়াই, ক্লান্তি—এসব সে চুপচাপ ভাগ করে নিয়েছে। রাত জেগে অপেক্ষা করেছে, দেরিতে ফেরা স্বামীর দরজা খুলে দিয়েছে, প্রশ্ন না করেই। আজ আমাদের সন্তানরা বড়। আমাদের জীবনে নাতি-নাতনিরা এসেছে—কাশিব, কায়ান, কাইয়া। তাদের হাসিতে আমাদের জীবনের ক্লান্তি গলে যায়। বুঝি, সময় সবকিছু কেড়ে নেয় না—কিছু ফেরতও দেয়, আরও সুন্দর করে। এই দীর্ঘ ৩২ বছরের পথচলা আমাকে শিখিয়েছে—সংসার মানে নিখুঁত মানুষ হওয়া নয়, সংসার মানে অপূর্ণ মানুষ হয়ে একসাথে টিকে থাকা। সেলিনা শুধু আমার স্ত্রী নয়—সে আমার পথচলার সাহস, আমার এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা, আমার জীবনের নীরব নায়ক। এই বিবাহ বার্ষিকীতে আমি কোনো উপহার দিতে পারি না, শুধু কৃতজ্ঞতা দিতে পারি। ধন্যবাদ সেলিনা—আমার জীবনের প্রতিটি ঝড়, প্রতিটি রোদ, প্রতিটি নীরব রাতে আমার পাশে থাকার জন্য। এই গল্প শুধু আমার নয়। এটি সেলিনার গল্প। এটি আমাদের ভালোবাসার গল্প। এটি আমাদের জীবনের গল্প। কুমিল্লায় ১০-বিজিবির অভিযানে ৬১ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য উদ্ধার রাজস্থলীতে ধানের শীষকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করতে প্রচার-প্রচারণায় মাঠে বিএনপি। আগে যেমন নিশিরাতে ভোট হয়েছে, এখন আবার নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে- তারেক রহমান রাঙ্গামাটি রাজস্থলীতে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা বিষয়ে অবহিতকরণ সভা নির্বাচনী সভা; আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ। শিবপুর মডেল থানায় পিকআপ গাড়ী উপহার দিলেন ওসমান মৃধা ও লোকমান মৃধা সরাইলে বাউল মেলায় বাকবিতন্ডার জেরে দু’গ্রামবাসীর সংঘর্ষ বাড়িঘর ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ, আহত ৩০ সাতকানিয়া থানার প্রধান ফটকের সামনে  ওসির বিরুদ্ধে মানববন্ধন জুলাই যোদ্ধাদের ।
Headline
Wellcome to our website...
পাইকগাছার উপজেলার পাবলিক লাইব্রেরী ও জাদুঘর অভিভাবকহীন পাঠক শুন্য অবস্থায়
/ ১১৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৪, ৪:০৬ অপরাহ্ন

পাইকগাছার উপজেলার পাবলিক লাইব্রেরী ও জাদুঘর অভিভাবকহীন পাঠক শুন্য অবস্থায়

মোঃ শফিয়ার রহমান খুলনা পাইকগাছা প্রতিনিধি –

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার পাবলিক লাইব্রেরী ও জাদু ঘরের করুণ দুরাবস্থার কারণে সেটাকে জাদুঘরে পাঠানোর মত অবস্থা হয়েছে। প্রায় দেড় যুগ ধরে নেই কোন কমিটি। বর্তমানে অভিভাবকহীন অবস্থায় পড়ে আছে প্রতিষ্ঠানটি। পাইকগাছা পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে ১৯৮৫ সালে পাবলিক লাইব্রেরী ও জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডঃ স.ম. বাবর আলী এর প্রতিষ্ঠা করেন। যার আজীবন সদস্য ১৪৬ আর সাধারণ সদস্য ৯৩৮ জন। দু’শ বই নিয়ে শুরু হয় এর যাত্রা। পরবর্তীতে যার সংখ্যা ছিল ৫ হাজার। প্রতিষ্ঠানটি নামে থাকলেও বাস্তবে এর অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে লাইব্রেরিতে নতুন কোন বই পুস্তক দেয়া হয়নি। পুরাতন যেসব বই ছিল তার মধ্যে অনেকগুলোই নষ্ট ও হারিয়ে গেছে। লাইব্রেরির ভবন ভগ্নদশায় পরিনত হয়েছে। এক সময় পাঠকের ব্যাপক উপস্থিতি থাকলেও বর্তমান তা একেবারেই পাঠকশূন্যে হয়ে পড়েছে। পাইকগাছা পৌরসভা ১৯৯৯ সালে অলিখিতভাবে উপজেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ থেকে পৌরসভা নিয়ন্ত্রণে নেয়। তবে পৌর কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার কারণে লাইব্রেরি ও জাদুঘরটি ধ্বংস হয়ে গেছে। জাতীয় ও আঞ্চলিক ৯ টা সংবাদপত্র লাইব্রেরিতে নেয়া হতো। কিন্তু ২ বছর যাবৎ বিল পরিশোধ না করায় ৫ মাস যাবত তা বন্ধ রয়েছে। এদিকে জাদুঘরের জানালা দরজা ভাঙ্গা, ভেতরে যেসব দুর্লভ জিনিষপত্র ছিল তার কিছুই নেই। আছে ভাঙ্গা ছেড়াছুটা আলমারি, কাঠকুটো আর ময়লা আবর্জনায় ভরা কক্ষ। কতদিন যে যাদুঘরের কক্ষটি খোলা হয়নি তাও বলতে পারলো না মাষ্টার রোলে দায়িত্বে থাকা লাইব্রেরিয়ান শেখ রাকিব সিফাত। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডঃ স.ম. বাবর আলী জানান, তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে এটা প্রতিষ্ঠা করেছিলাম । তখন উদ্দেশ্যও সফল হলেও প্রতিষ্ঠানটি এভাবে ধ্বংস হবে ভাবতেই পারিনা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মাহেরা নাজনীন বলেন, পাবলিক লাইব্রেরী ও যাদুঘরটি কোন অবস্থায় আছে তা আমার জানা নেই। খোঁজ খবর নিয়ে যাতে এটা সচল করা যায় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
– — সাংবাদিক কামাল ভাইয়ের বিবাহ বার্ষিকী রিপোর্ট ঃ আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিক ও লেখক কামাল ভাইয়ের অনলাইন থেকে নেওয়া আজ আমার বিবাহ বার্ষীকিঃ “”আমার বিয়ের দিনের কথাঃ “নীরব ভালোবাসার মহাকাব্য : সেলিনার পাশে হাঁটা আমার জীবন- “”নাতনিকে বসে আছে -এই মহিলার সাথেই আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধনটি গাঁথা হয়েছিল।আজ থেকে ঠিক ৩২ বছর আগে—২৪শে জানুয়ারি ৯৪ সালে কনকনে ঠান্ডা শীতের রাতে- সময় পেরিয়েছে, চুলে রুপালি রেখা নেমেছে, জীবনের পথে এসেছে সুখ–দুঃখ, হাসি–অশ্রু— তবু সম্পর্কের মূলটুকু রয়ে গেছে অটুট, বিশ্বাস আর মমতায় বাঁধা। ৩২ বছরের দাম্পত্য শুধু একটি তারিখ নয়, এটা স্মৃতি, দায়িত্ব আর নিরব ভালোবাসার দীর্ঘ এক যাত্রা।মনে হয়, এই তো সেদিনই সেলিনা নামের এক ভদ্রমহিলাকে আমি বিয়ে করেছি। সময়টা এমন দ্রুত ছুটে যাচ্ছে—যেন ক্যালেন্ডারও আমাদের সংসারের চাপ নিতে না পেরে পাতা উল্টাতে ভুলে যাচ্ছে! বিয়ে করে যে এত কষ্ট হয়, এটা আগে জানলে—শপথ করে বলছি—আমি বিয়ে করতাম না। অন্তত দুইবার ভাবতাম। তিনবার ভাবার সময় পেলে হয়তো পালিয়েই যেতাম! এই কষ্টের মাঝেই হঠাৎ একটা মহামূল্যবান পারিবারিক উপদেশ মনে পড়ে গেল। একদিন এক বাবা, একেবারে সিনেমার দৃশ্যের মতো, ছেলেকে কানে কানে বলছেন “বাবা, মন দিয়ে শোন। আমি তোকে একটা কথা বলছি। মনে রাখবি।” ছেলে আবেগে গদগদ “হ্যাঁ বাবা, বলো।” বাবা গম্ভীর কণ্ঠে বললেন “আমার অনুরোধ, তুই জীবনে বিয়ে করিস না।” ছেলে মাথা নেড়ে বলল “ঠিক আছে বাবা।” কিন্তু গল্প এখানেই শেষ না। ছেলেটা মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল “এই পরামর্শটা আমি বাবার মতো করেই আমার ছেলেকেও দিয়ে যাব।” দেখেন মুসকিলের কথা! বিয়ে কেউ করতে মানা করে না, আবার না-করার উপদেশও বংশপরম্পরায় চলতে থাকে। ফলে যা হয় সবাই বিয়ে করে, সবাই কষ্ট পায়, আর সবাই গোপনে বলে ‘আগে জানলে বিয়ে করতাম না!’ এই হলো সংসারের অমোঘ চক্র ভাত আছে, তরকারি আছে, ভালোবাসা আছে, কিন্তু শান্তি? সে সম্ভবত শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গেছে! বছর ঘুরে বিবাহ বার্ষিকী এলেই মনে হয়—জীবনের অগণিত দিনের ভিড়ের মধ্য থেকে একটি নির্দিষ্ট দিন হঠাৎ আলাদা হয়ে দাঁড়ায়। সে দিনটি আর শুধু তারিখ থাকে না, হয়ে ওঠে স্মৃতির দরজা। ২৪ জানুয়ারি—এই দিনটি আমার জীবনে এমনই এক দরজা, যেখানে দাঁড়ালেই পেছনের দিকে তাকাতে ইচ্ছে করে, আবার সামনের পথের জন্য বুক ভরে সাহস নিতে মন চায়। এই দিনটি আমার আর সেলিনার একসাথে পথচলার শপথের দিন। আনন্দ ছিল, ভয়ও ছিল। কারণ বিয়ে মানেই শুধু ফুল, আলো আর হাসি নয়—বিয়ে মানে অজানার দিকে দু’জন মানুষের একসাথে এগিয়ে যাওয়া। জানতাম না, সামনে কী অপেক্ষা করছে। শুধু জানতাম—পাশে একজন মানুষ থাকবে। ফেসবুক আজকাল বড় নিষ্ঠুর—হঠাৎ করে পুরোনো ছবি দেখিয়ে দেয়, পুরোনো ক্ষত ছুঁয়ে দেয়, আবার পুরোনো আনন্দও ফিরিয়ে আনে। এবারের বার্ষিকীতে চার বছর আগের একটি ছবি সামনে এল—নাতি কাশিবকে নিয়ে। সাদা-কালোর সেই মুহূর্তগুলো আমার চোখের সামনে রঙিন হয়ে উঠল। বুঝলাম, সময় চলে যায় ঠিকই, কিন্তু ভালোবাসা থেকে যায়—রূপ বদলে, চরিত্র বদলে। আমি মনে মনে নিজেকেই প্রশ্ন করলাম—এই বিয়ে না হলে কি এই দৃশ্যগুলো দেখতাম? এই পরিপূর্ণতা কি আসত? মানুষের জীবন এক মহাসমুদ্র। কখনো ঢেউ আছড়ে পড়ে, কখনো জল থমকে দাঁড়ায়। আমার জীবনও তেমনই—সংঘর্ষে ভরা, ঝুঁকিতে ভরা, প্রশ্নে ভরা। কিন্তু এই সমুদ্রে আমার একটি নির্ভরযোগ্য নোঙর ছিল—সেলিনা। আমি কামাল উদ্দিন—পেশায় সাংবাদিক, লেখক। একসময় অপরাধ সাংবাদিকতা ছিল আমার নেশা। রাত-দিন ছুটে বেড়ানো, ঝুঁকি, হুমকি, অনিশ্চয়তা—এসবই ছিল আমার নিত্যসঙ্গী। পেশার এই কঠিন পথে হাঁটার শক্তিটা আমি একা পাইনি। পেয়েছি ঘরের ভেতর থেকে। ১৯৯৪ সালের এক সাধারণ দিনে আমাদের বিয়ে। তখন আমি জীবনের দৌড়ে একা ছুটছিলাম। স্বপ্ন ছিল, কিন্তু স্থিরতা ছিল না। সেলিনা সেই অস্থির জীবনে স্থিরতার প্রথম নাম। সে আমার শূন্য ঘরকে ঘর বানিয়েছে, আমার অগোছালো জীবনকে ছন্দ দিয়েছে। সংসারের শুরুটা ছিল টক-ঝাল। অর্থকষ্ট ছিল, সময়ের অভাব ছিল, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা ছিল। আমি কাজ নিয়ে ব্যস্ত, সে অপেক্ষায়। আমি বাইরে যুদ্ধ করছি, সে ঘরে শান্তি রক্ষা করছে। কখনো সে বুঝিয়েছে, কখনো চুপ করে থেকেছে। সেই চুপ করে থাকা ছিল সবচেয়ে বড় ত্যাগ। আমাদের সংসারে মিষ্টিও এসেছে—সন্তানদের হাসিতে। সাকিব, কাশপি আর সাইকি—তাদের বড় করে তোলার প্রতিটি ধাপে সেলিনার শ্রম, ধৈর্য আর ভালোবাসা জড়িয়ে আছে। আমি অনেক সময় পাশে থাকতে পারিনি, সে একাই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে। মান-অভিমান এসেছে—এসেছে বলেই তো সম্পর্ক মানুষ হয়েছে। আমি ভুল করেছি, তার জন্মদিন ভুলে গেছি। সে রাগ করেনি—নীরব ছিল। সেই নীরবতা আমাকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। ছোট একটি উপহার আর গভীর অনুতাপে তার চোখে যে আলো দেখেছিলাম, তা আমাকে শিখিয়েছে—ভালোবাসা কখনো দাবি করে না, শুধু বুঝে নিতে চায়। আমার জীবনের অনেক কষ্ট আমি কখনো বলিনি। লেখক হয়েও নিজের দুঃখ লিখিনি। পেশার চাপ, লড়াই, ক্লান্তি—এসব সে চুপচাপ ভাগ করে নিয়েছে। রাত জেগে অপেক্ষা করেছে, দেরিতে ফেরা স্বামীর দরজা খুলে দিয়েছে, প্রশ্ন না করেই। আজ আমাদের সন্তানরা বড়। আমাদের জীবনে নাতি-নাতনিরা এসেছে—কাশিব, কায়ান, কাইয়া। তাদের হাসিতে আমাদের জীবনের ক্লান্তি গলে যায়। বুঝি, সময় সবকিছু কেড়ে নেয় না—কিছু ফেরতও দেয়, আরও সুন্দর করে। এই দীর্ঘ ৩২ বছরের পথচলা আমাকে শিখিয়েছে—সংসার মানে নিখুঁত মানুষ হওয়া নয়, সংসার মানে অপূর্ণ মানুষ হয়ে একসাথে টিকে থাকা। সেলিনা শুধু আমার স্ত্রী নয়—সে আমার পথচলার সাহস, আমার এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা, আমার জীবনের নীরব নায়ক। এই বিবাহ বার্ষিকীতে আমি কোনো উপহার দিতে পারি না, শুধু কৃতজ্ঞতা দিতে পারি। ধন্যবাদ সেলিনা—আমার জীবনের প্রতিটি ঝড়, প্রতিটি রোদ, প্রতিটি নীরব রাতে আমার পাশে থাকার জন্য। এই গল্প শুধু আমার নয়। এটি সেলিনার গল্প। এটি আমাদের ভালোবাসার গল্প। এটি আমাদের জীবনের গল্প।
– — সাংবাদিক কামাল ভাইয়ের বিবাহ বার্ষিকী রিপোর্ট ঃ আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিক ও লেখক কামাল ভাইয়ের অনলাইন থেকে নেওয়া আজ আমার বিবাহ বার্ষীকিঃ “”আমার বিয়ের দিনের কথাঃ “নীরব ভালোবাসার মহাকাব্য : সেলিনার পাশে হাঁটা আমার জীবন- “”নাতনিকে বসে আছে -এই মহিলার সাথেই আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধনটি গাঁথা হয়েছিল।আজ থেকে ঠিক ৩২ বছর আগে—২৪শে জানুয়ারি ৯৪ সালে কনকনে ঠান্ডা শীতের রাতে- সময় পেরিয়েছে, চুলে রুপালি রেখা নেমেছে, জীবনের পথে এসেছে সুখ–দুঃখ, হাসি–অশ্রু— তবু সম্পর্কের মূলটুকু রয়ে গেছে অটুট, বিশ্বাস আর মমতায় বাঁধা। ৩২ বছরের দাম্পত্য শুধু একটি তারিখ নয়, এটা স্মৃতি, দায়িত্ব আর নিরব ভালোবাসার দীর্ঘ এক যাত্রা।মনে হয়, এই তো সেদিনই সেলিনা নামের এক ভদ্রমহিলাকে আমি বিয়ে করেছি। সময়টা এমন দ্রুত ছুটে যাচ্ছে—যেন ক্যালেন্ডারও আমাদের সংসারের চাপ নিতে না পেরে পাতা উল্টাতে ভুলে যাচ্ছে! বিয়ে করে যে এত কষ্ট হয়, এটা আগে জানলে—শপথ করে বলছি—আমি বিয়ে করতাম না। অন্তত দুইবার ভাবতাম। তিনবার ভাবার সময় পেলে হয়তো পালিয়েই যেতাম! এই কষ্টের মাঝেই হঠাৎ একটা মহামূল্যবান পারিবারিক উপদেশ মনে পড়ে গেল। একদিন এক বাবা, একেবারে সিনেমার দৃশ্যের মতো, ছেলেকে কানে কানে বলছেন “বাবা, মন দিয়ে শোন। আমি তোকে একটা কথা বলছি। মনে রাখবি।” ছেলে আবেগে গদগদ “হ্যাঁ বাবা, বলো।” বাবা গম্ভীর কণ্ঠে বললেন “আমার অনুরোধ, তুই জীবনে বিয়ে করিস না।” ছেলে মাথা নেড়ে বলল “ঠিক আছে বাবা।” কিন্তু গল্প এখানেই শেষ না। ছেলেটা মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল “এই পরামর্শটা আমি বাবার মতো করেই আমার ছেলেকেও দিয়ে যাব।” দেখেন মুসকিলের কথা! বিয়ে কেউ করতে মানা করে না, আবার না-করার উপদেশও বংশপরম্পরায় চলতে থাকে। ফলে যা হয় সবাই বিয়ে করে, সবাই কষ্ট পায়, আর সবাই গোপনে বলে ‘আগে জানলে বিয়ে করতাম না!’ এই হলো সংসারের অমোঘ চক্র ভাত আছে, তরকারি আছে, ভালোবাসা আছে, কিন্তু শান্তি? সে সম্ভবত শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গেছে! বছর ঘুরে বিবাহ বার্ষিকী এলেই মনে হয়—জীবনের অগণিত দিনের ভিড়ের মধ্য থেকে একটি নির্দিষ্ট দিন হঠাৎ আলাদা হয়ে দাঁড়ায়। সে দিনটি আর শুধু তারিখ থাকে না, হয়ে ওঠে স্মৃতির দরজা। ২৪ জানুয়ারি—এই দিনটি আমার জীবনে এমনই এক দরজা, যেখানে দাঁড়ালেই পেছনের দিকে তাকাতে ইচ্ছে করে, আবার সামনের পথের জন্য বুক ভরে সাহস নিতে মন চায়। এই দিনটি আমার আর সেলিনার একসাথে পথচলার শপথের দিন। আনন্দ ছিল, ভয়ও ছিল। কারণ বিয়ে মানেই শুধু ফুল, আলো আর হাসি নয়—বিয়ে মানে অজানার দিকে দু’জন মানুষের একসাথে এগিয়ে যাওয়া। জানতাম না, সামনে কী অপেক্ষা করছে। শুধু জানতাম—পাশে একজন মানুষ থাকবে। ফেসবুক আজকাল বড় নিষ্ঠুর—হঠাৎ করে পুরোনো ছবি দেখিয়ে দেয়, পুরোনো ক্ষত ছুঁয়ে দেয়, আবার পুরোনো আনন্দও ফিরিয়ে আনে। এবারের বার্ষিকীতে চার বছর আগের একটি ছবি সামনে এল—নাতি কাশিবকে নিয়ে। সাদা-কালোর সেই মুহূর্তগুলো আমার চোখের সামনে রঙিন হয়ে উঠল। বুঝলাম, সময় চলে যায় ঠিকই, কিন্তু ভালোবাসা থেকে যায়—রূপ বদলে, চরিত্র বদলে। আমি মনে মনে নিজেকেই প্রশ্ন করলাম—এই বিয়ে না হলে কি এই দৃশ্যগুলো দেখতাম? এই পরিপূর্ণতা কি আসত? মানুষের জীবন এক মহাসমুদ্র। কখনো ঢেউ আছড়ে পড়ে, কখনো জল থমকে দাঁড়ায়। আমার জীবনও তেমনই—সংঘর্ষে ভরা, ঝুঁকিতে ভরা, প্রশ্নে ভরা। কিন্তু এই সমুদ্রে আমার একটি নির্ভরযোগ্য নোঙর ছিল—সেলিনা। আমি কামাল উদ্দিন—পেশায় সাংবাদিক, লেখক। একসময় অপরাধ সাংবাদিকতা ছিল আমার নেশা। রাত-দিন ছুটে বেড়ানো, ঝুঁকি, হুমকি, অনিশ্চয়তা—এসবই ছিল আমার নিত্যসঙ্গী। পেশার এই কঠিন পথে হাঁটার শক্তিটা আমি একা পাইনি। পেয়েছি ঘরের ভেতর থেকে। ১৯৯৪ সালের এক সাধারণ দিনে আমাদের বিয়ে। তখন আমি জীবনের দৌড়ে একা ছুটছিলাম। স্বপ্ন ছিল, কিন্তু স্থিরতা ছিল না। সেলিনা সেই অস্থির জীবনে স্থিরতার প্রথম নাম। সে আমার শূন্য ঘরকে ঘর বানিয়েছে, আমার অগোছালো জীবনকে ছন্দ দিয়েছে। সংসারের শুরুটা ছিল টক-ঝাল। অর্থকষ্ট ছিল, সময়ের অভাব ছিল, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা ছিল। আমি কাজ নিয়ে ব্যস্ত, সে অপেক্ষায়। আমি বাইরে যুদ্ধ করছি, সে ঘরে শান্তি রক্ষা করছে। কখনো সে বুঝিয়েছে, কখনো চুপ করে থেকেছে। সেই চুপ করে থাকা ছিল সবচেয়ে বড় ত্যাগ। আমাদের সংসারে মিষ্টিও এসেছে—সন্তানদের হাসিতে। সাকিব, কাশপি আর সাইকি—তাদের বড় করে তোলার প্রতিটি ধাপে সেলিনার শ্রম, ধৈর্য আর ভালোবাসা জড়িয়ে আছে। আমি অনেক সময় পাশে থাকতে পারিনি, সে একাই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে। মান-অভিমান এসেছে—এসেছে বলেই তো সম্পর্ক মানুষ হয়েছে। আমি ভুল করেছি, তার জন্মদিন ভুলে গেছি। সে রাগ করেনি—নীরব ছিল। সেই নীরবতা আমাকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। ছোট একটি উপহার আর গভীর অনুতাপে তার চোখে যে আলো দেখেছিলাম, তা আমাকে শিখিয়েছে—ভালোবাসা কখনো দাবি করে না, শুধু বুঝে নিতে চায়। আমার জীবনের অনেক কষ্ট আমি কখনো বলিনি। লেখক হয়েও নিজের দুঃখ লিখিনি। পেশার চাপ, লড়াই, ক্লান্তি—এসব সে চুপচাপ ভাগ করে নিয়েছে। রাত জেগে অপেক্ষা করেছে, দেরিতে ফেরা স্বামীর দরজা খুলে দিয়েছে, প্রশ্ন না করেই। আজ আমাদের সন্তানরা বড়। আমাদের জীবনে নাতি-নাতনিরা এসেছে—কাশিব, কায়ান, কাইয়া। তাদের হাসিতে আমাদের জীবনের ক্লান্তি গলে যায়। বুঝি, সময় সবকিছু কেড়ে নেয় না—কিছু ফেরতও দেয়, আরও সুন্দর করে। এই দীর্ঘ ৩২ বছরের পথচলা আমাকে শিখিয়েছে—সংসার মানে নিখুঁত মানুষ হওয়া নয়, সংসার মানে অপূর্ণ মানুষ হয়ে একসাথে টিকে থাকা। সেলিনা শুধু আমার স্ত্রী নয়—সে আমার পথচলার সাহস, আমার এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা, আমার জীবনের নীরব নায়ক। এই বিবাহ বার্ষিকীতে আমি কোনো উপহার দিতে পারি না, শুধু কৃতজ্ঞতা দিতে পারি। ধন্যবাদ সেলিনা—আমার জীবনের প্রতিটি ঝড়, প্রতিটি রোদ, প্রতিটি নীরব রাতে আমার পাশে থাকার জন্য। এই গল্প শুধু আমার নয়। এটি সেলিনার গল্প। এটি আমাদের ভালোবাসার গল্প। এটি আমাদের জীবনের গল্প।
Our Like Page

Recent Posts