
পেশাদার সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার দাবিতে রাজপথে এনপিএস:
গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি সাজিম মোল্যা
বাংলাদেশে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা এবং কলম সৈনিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে এক সাহসী ও বলিষ্ঠ অবস্থান ব্যক্ত করেছেন ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি (এনপিএস) গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকার। এক তীক্ষ্ণ বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট করেছেন— সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ; আর এই স্তম্ভকে সুরক্ষিত রাখা সরকারের নৈতিক ও আবশ্যিক দায়িত্ব।
স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার আপসহীন মাপকাঠি
বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকার তাঁর বিবৃতিতে সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে এক বৈপ্লবিক প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “সাংবাদিকতা একটি উচ্চতর রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপূর্ণ পেশা। এখানে অপ-সাংবাদিকতার কোনো ঠাঁই নেই। তবে যোগ্যতা যাচাইয়ের নামে যেন কোনো প্রহসন না হয়; যা হতে হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায়।”
জাতীয় ডাটাবেজ: আধুনিক সাংবাদিকতার ব্লু-প্রিন্ট
বিবৃতিতে তিনি পেশাদার সাংবাদিকদের জন্য একটি ‘জাতীয় ডাটাবেজ’ তৈরির ওপর জোর দেন। তাঁর মতে:
ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন: সাংবাদিকদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড শক্ত করতে ওয়েজবোর্ডের কোনো বিকল্প নেই।
ডিজিটাল স্বীকৃতি: ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ভুয়া সাংবাদিকতার ভিড়ে প্রকৃত কলম যোদ্ধাদের আলাদা করা।
নিবন্ধন যাচাই: মিডিয়া হাউস ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বৈধতা কঠোরভাবে যাচাই করা, যাতে কেউ সাংবাদিকতার আড়ালে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে না পারে।
প্রশাসনের প্রতি কড়া বার্তা
প্রশাসনের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল থেকে সনদপ্রাপ্ত এবং সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে যদি কোনো মহল বা প্রতিষ্ঠান বাধা সৃষ্টি করে, তবে তা হবে গণতন্ত্রের টুটি চেপে ধরার শামিল।” তিনি অবিলম্বে সাংবাদিকদের কর্মক্ষেত্রে নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
”সাংবাদিকদের উন্নয়ন আর নিরাপত্তা যেন কেবল বক্তৃতার মঞ্চে সীমাবদ্ধ না থাকে; এর প্রতিফলন দেখতে চাই রাজপথে এবং রাষ্ট্রীয় নথিতে।” — বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকার
উপসংহার
বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকারের এই সময়োপযোগী দাবি দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার অতিদ্রুত সাংবাদিকদের জাতীয় স্বীকৃতি ও নিরাপত্তার দাবিগুলো বাস্তবায়ন করবে, যা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে বিশ্ব দরবারে আরও উঁচুতে নিয়ে যাবে।

