
ব্রাহ্মণপাড়ায় জেলেকে পিটিয়ে হত্যা অভিযোগ ৯ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা
মোঃ আবদুল আলীম খান
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের ষাইটশালাগ্রামে আনোয়ার হোসেন নামে এক জেলেকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ ৯ জনকে আসামী করে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রট ২ নং আমলী আদালতে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরো ১৪/১৫ জনকে আসামী করে ৪ নভেম্বর একটি হত্যা মামলা করে নিহতের স্ত্রী আইরিন। বিজ্ঞা আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে অফিসার ইনচার্জ ব্রাহ্মনপাড়াকে ১০ দিনের মধ্যে এই বিষয়ে কোনো প্রকার রেগুলার মামলা কিংবা ইউডি মামলা হয়েছে কি না প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদেশ প্রদান করেন। আসামীরা হলেন কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের জামতলী গ্রামের আলা উদ্দিন, সালা উদ্দিন, তাজু সহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞতনামা ১৪/১৫ জন, যাহার সি আর ৯১৪/২০২৪ উল্লেখ্য
নিহত জেলে আনোয়ার হোসেন উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের ষাইটশালা গ্রামের মৃত্যু হোসেন মিয়ার ছেলে।
নিহত আনোয়ারের ভাই নূর মোহাম্মদ জানান,আমার বড় ভাই একজন জেলে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। গত বুধবার মধ্যে রাতে আমাদের পাশাপাশি জামতলী (দপ্তইরা ডুবায়) মাছ শিকার করতে গেলে আমার ভাইকে
জামতলী গ্রামের আরু মিয়ার ছেলে আলাউদ্দিন তার ভাই নিজাম ও সালাউদ্দিন জোরপূর্বক আমার ভাইকে তাদের বাড়িতে নিয়ে আরু মিয়াসহ আরো ২৪/২৫ জন আমার ভাইকে এলোপাতাড়ি লাঠি ও রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে আমার ভাই কোন রকম ভাবে তাদের বাড়ি থেকে আমাদের বাড়িতে এসে অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে আমার ভাই আনোয়ার হোসেন কে প্রাথমিক চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নিতে গেলে আমার ভাইয়ের অবস্থা দেখে চিকিৎসক তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করার জন্য বলে। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বৃহস্পতিবারে কুমেক হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করাই।চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার ভাই শনিবার মধ্যরাতে মারা যায়। এলাকাবাসী ও আরু মিয়ার ছেলেরা আমাদের উপর জোর প্রয়োগ করে স্থানীয়ভাবে সমাধান করে দিবে বলে একদিন আমার ভাইয়ের লাশ আমাদের বাড়িতে ফেলে রাখে। পরবর্তীতে আমরা হত্যার বিচার মানি না বলে ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশকে খবর দিলে ব্রাহ্মণপাড়া থানার এস আই শিশির ঘোষ এসে আমার ভাইয়ের শোরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
এ ব্যপারে ব্রাহ্মণপাড়া থানার তদন্তকারী অফিসার এস আই শিশির ঘোষ বলেন, আমি নিহত আনোয়ারার লাশ উদ্ধার করে শোরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রেরণ করি। ৪ নভেম্বর নিহত আনোয়ারের লাশ ময়ন তদন্ত শেষে বিকেলে তার নিজ গ্রামে জানাযার নামাজ শেষে তার লাশ নিজ গ্রামে দাফন করা হয়। নিহতের ১ ছেলে ১ মেয়ে ও স্ত্রী আইরিন ৬ মাসের অন্তস্বঃত্বা রয়েছে।

