
কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়ায় শিশু ধর্ষণের চেষ্টা ধামাচাপা দিতে ‘৫ লাখ টাকা’র প্রহসনের সালিশ
এলাকার যুব সমাজ মুখ খুললেই যুবসমাজকে মামলার হুমকি দেয় মেম্বার-সর্দার রা !
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার গোপালনগর গ্রামে একটি ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করার মতো এক জঘন্য ও ন্যাক্কারজনক অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় লোকজন দেখে ফেলায় ধর্ষক আল আমিন (পিতা: মুরা আলী) ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। কিন্তু এই ভয়াবহ অপরাধীকে আইনের হাত থেকে বাঁচাতে এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মাঠে নেমেছেন এলাকার কিছু তথাকথিত প্রভাবশালী, সর্দার এবং মেম্বার।
জানা গেছে, গত সন্ধ্যায় এক ‘অবৈধ’ সালিশি বৈঠকে বসে এই জঘন্য অপরাধের তথাকথিত “সামাজিক সমঝোতা” বা আপস করা হয়েছে! সালিশকারীদের রায়—”ধর্ষক আল আমিন এলাকায় ঢুকতে পারবে না, ঢুকলে ৫ লাখ টাকা জরিমানা!”
আমাদের স্পষ্ট প্রশ্ন:
১. একটি নিষ্পাপ শিশুর সম্ভ্রম আর জীবনের মূল্য কি আপনাদের কাছে মাত্র ৫ লাখ টাকা? এই জরিমানার টাকার হিসাব কার পকেটে যাবে?
২. দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টার মতো ফৌজদারি অপরাধ কখনো সালিশ-যোগ্য নয়। আইনের তোয়াক্কা না করে অপরাধী আল আমিনকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অধিকার আপনাদের কে দিয়েছে?
লজ্জাজনক ধৃষ্টতা ও হুমকি:
সবচেয়ে বড় অন্যায় হলো, এই প্রহসনের সালিশের বিরুদ্ধে গোপালনগর গ্রামের কোনো সচেতন যুবক বা সাধারণ মানুষ যদি ফেসবুকে সত্য তুলে ধরে, তবে তাদের বিরুদ্ধে থানায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন ওই মেম্বার ও সর্দাররা!
স্পষ্ট ভাষায় হুশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই—হুমকি কাকে দিচ্ছেন? ধর্ষক আল আমিনকে আশ্রয় দিয়ে, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে আপনারা নিজেরা যেখানে চরম অপরাধ করছেন, সেখানে যুবসমাজের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করবেন না। স্বাধীন দেশে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। হুমকি-ধামকি দিয়ে এই জঘন্য অপরাধ ধামাচাপা দেওয়া যাবে না।
গোপালনগর গ্রাম ও ব্রাহ্মণপাড়ার সচেতন জনগণের দাবি:
এই অবৈধ ও প্রহসনের সালিশ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
ধর্ষক আল আমিনকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
অপরাধীকে আড়াল করার চেষ্টা এবং যুবসমাজকে হুমকি দেওয়ার অপরাধে সালিশকারীদের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।

