শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
Headline
Wellcome to our website...
ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভনে লিবিয়ায় জিম্মি, ৫৬ লাখ টাকা আদায়ের মামলায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
/ ১৮ দেখেছেন
সর্বশেষ : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ন

ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভনে লিবিয়ায় জিম্মি, ৫৬ লাখ টাকা আদায়ের মামলায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

ইতালিতে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে মাদারীপুরের এক যুবককে লিবিয়ায় পাঠিয়ে জিম্মি করে নির্যাতন ও ৫৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে দায়ের করা মানবপাচার মামলার প্রধান আসামি মো. ইমরান খানকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার দারুল আমান আবাসিক এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৮ মাদারীপুর ক্যাম্প ও এসআরবি-৭ চট্টগ্রামের চান্দগাঁও ক্যাম্পের সদস্যরা।

গ্রেপ্তার ইমরান খান চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ছনহরা চাটরা গ্রামের মো. বাচা মিয়ার ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুরের হাসান বেপারীকে বৈধ স্পন্সর ভিসায় ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দেন ইমরান খান ও তাঁর সহযোগীরা। গত বছরের ১৫ অক্টোবর তাঁরা পূর্ব সিলারচরে ভুক্তভোগীর স্বজনদের কাছ থেকে নগদ আট লাখ টাকা ও মূল পাসপোর্ট গ্রহণ করেন।

অভিযোগ রয়েছে, ইতালিতে পাঠানোর পরিবর্তে হাসানকে লিবিয়ায় নিয়ে একটি মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এমনকি ভিডিও কলে নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

হাসানকে জীবিত উদ্ধারের আশায় তাঁর পরিবার ও স্বজনেরা বিভিন্ন সময়ে নগদ ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে মোট ৫৬ লাখ টাকা দেন। কিন্তু এত টাকা দেওয়ার পরও তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। উল্টো আরও টাকা দাবি করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা টাকা ফেরত ও হাসানকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানালে অভিযুক্ত ইমরান খান লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে হুমকি দেন এবং যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এখন পর্যন্ত হাসান বেপারী জীবিত আছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পায়নি তাঁর পরিবার। এ ঘটনায় হাসানের ভাই বাদী হয়ে মাদারীপুর সদর থানায় মানবপাচার মামলা করেন।

এসআরবি সূত্র জানায়, মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে ছায়া তদন্ত শুরু করা হয়। পরে গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ইমরান খানের অবস্থান শনাক্ত করে চট্টগ্রামে অভিযান চালানো হয়।

এসআরবি-৮ মাদারীপুর ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. কামরুল হাসান জানান, গ্রেপ্তার ইমরান খানকে মাদারীপুর সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, মানবপাচারসহ এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে এসআরবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অনন্য সংবাদ গুলো...
Our Like Page