
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনেগনেগুলিবিদ্ধ অনিকের খোঁজ নেয়নি কেহ,পায়নি কোনো আর্থিক সহায়তা!
মো আসাদুজ্জামান:(মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর)
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও গন অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ অনিক বেশ একটা ভালো নেই, নেইনি কেহ খোঁজ খবর ,এ পর্যন্ত পায়নি কোনো আর্থিক সহায়তা! গত ১৮ জুলাই আনুমানিক বিকেল ৪:৪৩ মিনিট নাগাদ ঢাকার রাজপথে স্বৈরাচার নির্মুল ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয় অনিক।
আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ অনিকের অবস্থা তাৎক্ষণিক আশংঙ্কা জনক হওয়ায় প্রথমে তার সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যায়, পরবর্তীতে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে সেখান থেকে উত্তরা ইউনিভার্সিটির কিছু শিক্ষক অনিক কে নিয়ে শিনশিন জাপান হাসপাতালে নিয়ে যায়।শিন-শিন জাপান হাসপাতালের বুলেট রিমুভাল অপারেশন হয়। রাত ৯:৩০ এ অপারেশন থিয়েটারে নেয়, এবং ১০:৩০ বা ১১ টায় এ অপারেশন সম্পন্ন হয়। অপারেশন শেষে টানা ২ দিন ICU তে রাখা হয় অনিক কে। তার চিকিৎসার যাবতীয় তথ্য রেকর্ড এই প্রতিবেদকের কাছে আছে।
কোটা বিরোধী আন্দোলনের ৯ দফা দাবী থেকে যখন এক দফা দাবীতে রূপ নেয় এবং স্বৈরশাসক দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় তার পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত অনিকের চিকিৎসা সেবা
ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় ছিল তার পরিবার। একদিকে নিরাপত্তা হীনতা অপর দিকে অর্থনৈতিক দৈন্যদশা অনিকের বেঁচে থাকাকে আরও ভাবিয়ে তুলেছিল।
গত ৫ আগস্টের দ্বি প্রহরে ফ্যাসিবাদী সরকারের পালিয়ে যাওয়ায় অনিকের নতুন করে বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। অসুস্থ শরীর নিয়ে এখনো কাতরালে ও দু:খ নেই অনিকের মনে, একান্ত সাক্ষাৎকারে জানতে চাইলে বলে আলহামদুলিল্লাহ, আমার দেশের নির্যাতিত, নিপিড়ীত
অসহায় খেটে খাওয়া মানুষের মনে কোন দু:খ নেই,নেই কোন কষ্টের ছাপ এতে ই আমার প্রশান্তি, আমি ভালো আছি।
কীভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন জানতে চাইলে অনিক বলেন রাজপথে আন্দোলনে থাকা অবস্থায় হঠাৎ আমার পেটে গুলি লাগে আমি চেয়ে দেখি আমার আইডি কার্ড ছিদ্র হয়ে আমার পেটে গুলির গর্ত। পরবর্তীতে আমি সংজ্ঞাহীন হয়ে
যাই, আমার সহ যোদ্ধাদের কারনে ঐদিন যথাসময়ে মেডিকেলে নেয়ায় প্রানে বেঁচে যাই।
পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের হারজি নলবুনিয়া গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান, সেকান্দার আলী খানের ভাতিজা এবং মো: ইউনুস আলী খানের বড় ছেলে নাইমুল ইসলাম খান অনিক ঢাকা উত্তরা ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের থার্ড সেমিস্টারের ছাত্র।
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনও গন অভ্যুত্থানের পরবর্তী দীর্ঘ চার মাস অতিবাহিত হলেও আন্দোলনে অংশ নেয়া শহীদ পরিবার এবং আহত পরিবারের সদস্যরা সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা থেকে অর্থনৈতিক দান, অনুদানের সহায়তা পেলেও গুলিবিদ্ধ অনিক এসকল অর্থনৈতিক সেবা সহায়তা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
অনিকের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবী অনিকের চিকিৎসার জন্য অনেক অর্থ ই ব্যয় করতে হয়েছে। জানতে চেয়েছি এই চিকিৎসার জন্য সরকারি বা বেসরকারি কো আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন কিনা? তার পরিবার জানিয়েছেন দীর্ঘ চার মাস অতিবাহিত হলেও এ পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা তো দূরের কথা এ পর্যন্ত সরকারি বা বে সরকারি কোন সহায়তা বা সংগঠন তাদের খোঁজ খবর নেয় নি।অনিক নতুন করে বাচার স্বপ্ন দেখে, অনিকের স্বপ্ন লেখাপড়া শেষে যাহাতে বৈষম্য হীন সুন্দর দেশ গঠনের পাশাপাশি মানবতার কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করতে পারে তার জন্য সরকারের সু দৃষ্টি কামনা করেন।
এলাকাবাসীর পক্ষে শিক্ষক ও সাংবাদিক আসাদুজ্জামান বলেন,অনিক খুব ই নম্র ভদ্র এবং শান্ত স্বভাবের ছেলে, ছোট বেলা থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতো, সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ অনিকের ভবিষ্যৎ জীবনের নিরাপত্তা সহ তার কর্মসংস্থানের দ্বায়িত্ব সরকারকে ই বহন করতে হবে। পাশাপাশি বে সরকারি সংস্থাগুলো যাহাতে অনিকের সহায়তা দানে এগিয়ে আসে সেই আহবান জানান।

