
ব্রাহ্মণপাড়ায় কৃষি জমি গিলে খাচ্ছে অবৈধ ড্রেজার,নির্বিকার প্রশাসন।
স্টাফ রিপোর্টার।
ফসলের মাঠ, পুকুর কিংবা জলাশয়—কোনো কিছুই রক্ষা পাচ্ছে না মাটিখেকোদের হাত থেকে! কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় সরকারি নির্দেশনা ও আইনকে তোয়াক্কা না করে দিন-রাত প্রকাশ্যে চলছে শতাধিক অবৈধ ড্রেজার মেশিন।
দীর্ঘভূমি টু শিদলাই সড়কের পাশে (ডগ্রাপাড়া জলিল আমিনের বাড়ির উত্তর পাশে) চলা ড্রেজার, বড়ধুশিয়া নূর মসজিদের পাশে এবং বড়ধুশিয়া কলেজের দক্ষিণ পাশে রাত-দিন মাটি ভরাট হচ্ছে।
“সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কের পাশেই নির্ভয়ে চলছে অবৈধ ড্রেজার। শিদলাই ইউনিয়নের ৮নং এলাকা থেকে মাটি এনে সড়ক ঘেঁষে জমি ভরাট করছেন বালিনা খালপাড় এলাকার মামুন নামের এক ড্রেজার ব্যবসায়ী। এ নিয়ে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হলেও ড্রেজার ব্যবসায়ীদের দাম্ভিকতা যেন থামছেই না। শুধু শিদলাই বা বড়ধুশিয়াই নয়, উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামেই চলছে এই মাটিখেকোদের দাপট।
স্থানীয়দের ক্ষোভ প্রকাশ ও ড্রেজারের শব্দে অতিষ্ঠ হওয়ার প্রতিক্রিয়া (কল্পবাস গ্রামের বাসিন্দা ও অন্যান্য)। স্থানীয় বাসিন্দা:আমাদের বাড়ির পাশেই দিন-রাত মেশিন চলে।
ড্রেজারের বিকট শব্দে আমরা শান্তিতে ঘুমাতে পারি না, বাচ্চা-কাচ্চারা পড়াশোনা করতে পারে না।
ড্রেজার ব্যবসায়ী “অনেকের সাথে কথা বলেই তো মেশিন চালাই। অভিযোগ থাকলে সমাধান করব, বাধা দিলে পরে দেখা যাবে।
আইন শৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে নিয়মিত ড্রেজারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলা হলেও বাস্তবে নীরব ভূমিকা পালন করছে প্রশাসন। এদিকে কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ব্রাহ্মণপাড়ার অধিকাংশ জমিই তিন ফসলি। এখনই ড্রেজার বন্ধ না করলে এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি চরম হুমকির মুখে পড়বে।”
কৃষি কর্মকর্তা আবদুল মতিন বলেন
ব্রাহ্মণপাড়ার জমিতে বছরে তিনটি ফসল হয়। কিন্তু ড্রেজারের কারণে এসব জমি দ্রুত বিলীন হচ্ছে। এখন সময় এসেছে কৃষি জমি রক্ষায় ড্রেজারের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণার।
কৃষি জমি রক্ষায় সরকার ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ ঘোষণা করলেও ব্রাহ্মণপাড়ায় অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। সাধারণ কৃষকদের দাবি—অবিলম্বে এই অবৈধ ড্রেজার বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিক উপজেলা প্রশাসন।
তিন ফসলি জমি গিলে খাচ্ছে অবৈধ ড্রেজার! কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় দিন-রাত ড্রেজার চালিয়ে মাটি কাটছে প্রভাবশালী চক্র। নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে প্রশাসন।
