
সীমান্তে BSF–এর গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত
মোঃ আবু বক্কর আতাউর
স্টাফ রিপোর্টার
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার শমসেরনগর ইউনিয়নের পোছাভান্ডার সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী BSF-এর গুলিতে সবুজ মিয়া (২৯) নামের এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোররাতে সীমান্ত পিলার ৯০৫–এর নিকট এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সবুজ মিয়া পোছাভান্ডার গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। পরিবার ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ভোরে মাঠে কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন সবুজ মিয়া। সীমান্তসংলগ্ন জমিতে পৌঁছানোর পরপরই ভারতের দিক থেকে টহলরত BSF সদস্যরা গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে ভারতীয় টহলদল মরদেহ তুলে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্র
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন কৃষক জানান, নিহত সবুজ মিয়ার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রমের অভিযোগ নেই। নিয়মিত কৃষিকাজ করতেন তিনি। তাঁদের দাবি, কোনো প্রকার সতর্কবার্তা ছাড়া BSF গুলি চালিয়েছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অমানবিক।
পরিবারের আহাজারি
সবুজ মিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর পরিবারে শোকের আবহ নেমে আসে। পিতা সিরাজুল ইসলাম বলেন,
“আমার ছেলেটা নিরীহ কৃষক। কাউকে কোনোদিন কষ্ট দেয়নি। গুলি করে আমাদের সংসারের ভরসাটাকে শেষ করে দিল।”
Border Guard Bangladesh (BGB) ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। পাটগ্রাম ব্যাটালিয়নের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, কোনো উসকানি বা উত্তেজনা ছাড়াই নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিককে গুলি করা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এ ঘটনায় দ্রুত ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে এবং মরদেহ ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে।
ঘটনার পর পোছাভান্ডার সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের গুলিবর্ষণের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে, যা সীমান্তবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন সীমান্তে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডকে “অমানবিক ও উদ্বেগজনক” বলে অভিহিত করেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের গুলিবর্ষণ রোধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।

