
রাষ্ট্র পরিচালনায় শিক্ষিত নেতৃত্বের বিকল্প নেই
মো. আবু বক্কর আতাউর
স্টাফ রিপোর্টার
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড—এই বাস্তবতা সর্বজনস্বীকৃত। একটি দেশ তখনই টেকসই উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে পারে, যখন সেই দেশের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন শিক্ষিত, যোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃত্ব। শিক্ষিত নেতৃত্ব ছাড়া সুশাসন, ন্যায়বিচার, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব।
রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো জাতীয় সংসদ। এখানে আইন প্রণয়ন, রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ, বাজেট অনুমোদন ও সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মতো গুরুদায়িত্ব পালিত হয়। এসব দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সম্পাদনের জন্য জনপ্রতিনিধিদের শিক্ষাগত যোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ প্রেক্ষাপটে লালমনিরহাট-২ আসনের আলোচিত প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য জনমনে বিশেষ আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ আসনের প্রার্থীরা নিজ নিজ রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করেছেন।
তথ্য অনুযায়ী, জনতার দল মনোনীত প্রার্থী শামীম কামাল একজন উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি। তিনি এমফিল ডিগ্রিধারী, যা তার গবেষণামূলক জ্ঞান ও বিশ্লেষণী সক্ষমতার পরিচায়ক।
জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ফিরোজ হায়দার এম.এ. ডিগ্রি অর্জন করেছেন, যা উচ্চশিক্ষার একটি উল্লেখযোগ্য স্তর হিসেবে বিবেচিত।
অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুল এসএসসি পাস, যা তার প্রাথমিক শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য তুলে ধরে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ভোটারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত। শিক্ষিত জনপ্রতিনিধি সাধারণত যুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম হন এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিক্ষিত নেতৃত্ব প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াতে, দুর্নীতি কমাতে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। শিক্ষার আলোয় আলোকিত নেতৃত্ব জনগণের সমস্যা গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারে এবং বাস্তবভিত্তিক সমাধান দিতে সক্ষম হয়।
স্থানীয় ভোটারদের মধ্যেও বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। অনেক সচেতন নাগরিকের মতে, ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে শুধু দলীয় পরিচয় নয়, প্রার্থীর শিক্ষা, যোগ্যতা ও দক্ষতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। কারণ, আজকের ভোটই আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনার দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, একটি শক্তিশালী, উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের জন্য শিক্ষিত নেতৃত্ব অপরিহার্য। তাই রাষ্ট্র পরিচালনায় কারা নেতৃত্ব দেবেন—সে বিষয়ে জনগণের সচেতন ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্তই পারে দেশের ভবিষ্যৎকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে।

