
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে পার্বত্য এলাকা থেকে বিএনপির খাগড়াছড়ির শাহেনা আক্তার আলেচনায়।
মোঃ জসিম উদ্দিন বিশেষ প্রতিনিধি
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে পার্বত্য এলাকা থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আলেচনায় উঠে এসেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলাদল খাগড়াছড়ি জেলার শাখার সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির মহিলা বিষয়ক সহ-সম্পাদক সাবেক ছাত্রদল নেতা শাহেনা আক্তার।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেরিন সায়েন্স এন্ড ফিশারিজ থেকে অনার্স, মাষ্টার্স সম্পন্ন করে পরবর্তীতে এলএলবি, এলএলএম (হিউম্যান রাইটস) নিয়ে পড়াশুনা করা শাহেনা আক্তার সরকারি চাকুরী হওয়া স্বত্তেও যোগদান করতে পারেন নি বিএনপি করার কারণে।
শাহেনা ১৯৯৮ সালে নবম শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় খাগড়াছড়ি অভিমুখে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার লং মার্চ এর সময়ে মহাসড়কের পাশে তাদের বাড়ির সামনে নারীদের বিশাল উপস্থিতি দেখে দেশনেত্রী তার মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করেন। সেই থেকে শুরু শাহেনা আক্তারের রাজনৈতিক পথচলা। পাহাড়ের কন্টকময় কঠিন রাস্তা তাকে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে বাধ্য করেছে।
২০০০ সালে ছাত্রদলের কমিটি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু। ছিলেন মাটিরাঙ্গা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক। পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩ জেলায় একমাত্র নারী ইউনিট প্রধান হিসেবে তখনই আলেচনায় আসেন শাহেনা আক্তার।। এরপরে ২০০৫ সালে মাটিরাংগা উপজেলা ও পৌরমহিলাদলের আহবায়ক হিসেবে দায়িথ্ব পান। ২০০৬ সালে খাগড়াছড়িতে বেগম খালেদা জিয়ার সর্বশেষ সমাবেশে বিশাল বহর নিয়ে অংশগ্রহণ।
২০০৬ সালে ২৮ অক্টোবর মাটিরাংগা বিএনপি অফিসের সামনে সমাবেশ চলাকালীন আওয়ামী লীগের লগি বৈঠার আক্রমণের শিকার হন।
১/১১ পরে জনাব, ওয়াদুদ ভূইয়া জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তার নির্দেশনায় আবার খাগড়াছড়িতে দলকে বিশেষ করে মহিলাদলকে সংগঠিত করতে কাজ শুরু করেন। জেলা মহিলাদলের সিনি:সহ-সভাপতি, মাটিরাংগা পৌর মহিলাদলের সভাপতি হিসেবে আবার পথচলা শুরু হয়। একই সাথে মাটিরাংগা পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক হিসেবে বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটকে সংগঠিত করতে শুরু করেন। আওয়ামী লীগের অত্যাচারে যখন জনাব, ওয়াদুদ ভূইয়া এলাকায় প্রবেশ করতে পারতেন না তখনও কেন্দ্র ঘোষিত সকল কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে সফল করতেন।
পার্বত্য এলাকার মত পিছিয়ে পড়া এলাকা হতে একজন বাংগালী মেয়ের রাজনীতিতে হাজারো চ্যালেঞ্জ ছিল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেরিন সায়েন্স এন্ড ফিশারিজ থেকে অনার্স, মাষ্টারস পরবর্তীতে এলএলবি, এলএলএম( হিউম্যান রাইটস) নিয়ে পড়াশুনা করা শাহেনা আক্তার সরকারি চাকুরী হওয়া স্বত্তেও যোগদান করতে পারেন নি বিএনপি করার কারণে। ২০১২ সালে ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে আনার জন্য জনমত তৈরী ও বিক্ষোভ সমাবেশ করার কারণে মামলার আসামী হন এবং পুলিশ কতৃক দফায় দফায় হয়রানির শিকার হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর সারাদেশের ন্যায় মাটিরাংগাতেও বিএনপি অফিস তালাবদ্ধ ছিল। অসীম সাহসী এই নারী জীবনের ঝুকি নিয়ে গুটিকয়েক দলীয় কর্মীদের নিয়ে মাটিরাংগা মূল বিএনপি অফিস ও ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায়ে অফিস খুলে কার্যক্রম শুরু করেন। এতে আওয়ামী লীগে ও পুলিশ কতৃক মামলা, হামলার শিকার হন। বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সময়ে মামলা হামলা, নির্যাতন ও ষড়যন্ত্রের মুখে দলের প্রতি দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন। ১/১১ এর পরে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য হতে শুরু করে বর্তমানে জেলা বিএনপির সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, জেলা মহিলাদলের সাধারণ সম্পাদক,নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের আহবায়ক হিসেবে কাজ করছেন।
দলীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজ এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তিনি খাগড়াছড়ি রেড ক্রিসেন্ট এর আজীবন সদস্য, মাটিরাংগা যুব রেড ক্রিসেন্ট এর সাবেক যুবপ্রধান, মাটিরাংগা দুপ্রক এর সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়াও ২০১৫ সালে তার নিজের প্রতিষ্ঠিত ” পার্বত্য নারী সংহতি ” নামক সংগঠন এর ব্যানারে দরিদ্র, অসহায় নারীদেরকে কাউন্সিলিং, বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেয়া, পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তি,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভরতিচ্ছু ছাত্রীদেরকে আর্থিক সহায়তা প্রধান, অসহায় মহিলাদেরকে রেফারেল ইন্সটিটিউট এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদান করে স্বাবলম্বী করে তোলার কাজ করে যাচ্ছেন।
এছাড়াও তিনি তিন পার্বত্য জেলায় ইউএনডিপি’র SID-CHTDF প্রজেক্টে কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্ট এক্সপার্ট হিসেবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্ট এর উপর প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮ ব্যাচের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং খাগড়াছড়ি তে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদেরকে সংগঠিত করার লক্ষ্যে “চবিয়ান খাগড়াছড়ি” নামক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেন। বর্তমানে খাগড়াছড়ি জজ কোর্ট এ শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবেও কাজ করছেন, পাশাপাশি একজন উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়- শাহেনা আক্তার একজন অসাম্প্রদায়িক মানসিকতার মানুষ। রাজনীতি,পেশাগত এবং সামাজিক কাজের কারণে তিন পার্বত্য এলাকার পাহাড়ী ও বাংগালী উভয় সম্প্রদায়ের নারীদের সংগ্রাম তিনি কাছ থেকে দেখেছেন এবং সংগ্রামে অংশীদার হয়েছেন। তৃণমূলে কাজ করা শাহেনা আক্তারকে দল সু্যোগ দলে পাহাড়ের নারীদের জন্য নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের “বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ” এর আদর্শের আলোকে পাহাড়ের সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখতে চান।

