
আখাউড়ায় সড়কের পাশে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ উদ্ধার: জনমনে তীব্র ক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: সাধারণ মানুষ যখন সরকারি হাসপাতালে একটুখানি ওষুদের জন্য হাহাকার করছেন, ঠিক তখনই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া চেকপোস্ট সড়কের পাশে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ ও ট্যাবলেট পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে রাস্তার ধারে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এসব ওষুদ দেখে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আখাউড়া চেকপোস্ট সড়কের পাশে ঝোপঝাড় ও রাস্তার ধারে বিপুল পরিমাণ সরকারি সিলমোহরযুক্ত ওষুধের পাতা ও ট্যাবলেট পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা। খবরটি জানাজানি হলে উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় জমান। উদ্ধারকৃত ওষুধের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক, পেইনকিলার এবং ভিটামিন ট্যাবলেট রয়েছে বলে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে। প্রতিটি পাতার গায়ে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সম্পদ, ক্রয়-বিক্রয় দণ্ডনীয় অপরাধ’ স্পষ্ট অক্ষরে লেখা রয়েছে।
জনমনে ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া
এই দৃশ্য দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা অভিযোগ করেন, যেখানে দরিদ্র রোগীরা হাসপাতালে গিয়ে ওষুধ পান না, সেখানে সরকারি তহবিলের এই মূল্যবান জীবন রক্ষাকারী ওষুধ এভাবে রাস্তায় ফেলে দেওয়া চরম অবহেলা ও দুর্নীতির বহিঃপ্রকাশ। স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলেন, “হাসপাতালে গেলে বলা হয় ওষুধ নেই, অথচ এখানে হাজার হাজার ওষুধ নষ্ট হচ্ছে। এটা রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়।”
রহস্যের দানা
কে বা কারা, কেন এই বিপুল পরিমাণ ওষুধ এখানে ফেলে গেছে তা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো অসাধু চক্র হাসপাতাল থেকে এসব ওষুধ সরিয়েছিল অথবা মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার ভয়ে বা ধরা পড়ার ভয়ে তড়িঘড়ি করে রাতের অন্ধকারে এখানে ফেলে গেছে।
কর্তৃপক্ষের ভূমিকা
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের নজরে আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এই ওষুধগুলো কোন হাসপাতালের স্টকের এবং কীভাবে এখানে এল, তা খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপসংহার
সরকারি ওষুধের এই অপচয় কেবল একটি প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের অধিকার হরণের শামিল। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এই ঘটনার সাথে জড়িত রাঘববোয়ালদের চিহ্নিত করা জরুরি।
পাদটীকা: এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে। সবার দাবি একটাই—সরকারি সম্পদ নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলার শেষ কোথায়?

