
” সংঘবদ্ধ ধ’র্ষ’ণ: শিশুসহ নারীকে বিলের ধারে নিয়ে পাশবিকতা ধামাচাপার চেষ্টার অভিযোগ”-
মোঃ রেজাউল করিম
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার শিমুলতলী এলাকায় এক নারীকে শাপলা নামে শিশুসন্তানসহ অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধ’র্ষ’ণের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী শাপলা জানান, বিকেলে বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ি ভালুকার উদ্দেশ্যে শিশুসন্তানকে নিয়ে রওনা দেন। সন্ধ্যার পর পথ হারিয়ে ফেললে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নান্দাইল-তাড়াইল সড়কের একটি বিলের ধারে নিয়ে যায়। সেখানে চারজন তাকে পালাক্রমে ধ’র্ষ’ণ করে। পরে আরও দুইজন তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পুনরায় ধ’র্ষ’ণ করে। মোট ছয়জন এ ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ধ’র্ষ’ণের সময় শিশুটি চিৎকার করলে দুর্বৃত্তরা তাকে জোর করে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় মা শিশুকে আঁকড়ে ধরে রাখলে তাকে আঘাত করা হয়। এতে শিশুটির বাম চোখের নিচে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।
স্থানীয় ইজিবাইক চালক সুজন মিয়া জানান,গভীর রাতে শিমুলতলী বাজার এলাকায় এক নারীকে শিশুসন্তান কোলে নিয়ে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান তিনি। কাছে গিয়ে জানতে চাইলে ওই নারী তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের কথা জানান। পরে মানবিক কারণে তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে খাবার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন।
ঘটনা জানাজানি হলে কান্দিউড়া গ্রামের কাজল মিয়া নামে এক যুবক ওই নারীকে নিজের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তবে স্থানীয়দের সন্দেহে তা ব্যর্থ হয়।
এদিকে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাসারত মিয়ার বিরুদ্ধে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা, আশ্রয়দাতা পরিবারকে হুমকি দেওয়া এবং টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে পুলিশকে বিষয়টি না জানানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে দাবি করেছেন সুজন মিয়া।
এ ঘটনায় আশ্রয়দাতা পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

