বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন
Headline
Wellcome to our website...
গ্ৰেফতারের ২৪ ঘন্টার মধ্যে চট্টগ্রাম কারাগারে যুবলীগ নেতার মৃত্যু: পরিবারের দাবি হত্যা
/ ২৪ Time View
Update : বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ন

গ্ৰেফতারের ২৪ ঘন্টার মধ্যে চট্টগ্রাম কারাগারে যুবলীগ নেতার মৃত্যু: পরিবারের দাবি হত্যা

আব্বাস উদ্দিন ইকবাল বিশেষ প্রতিনিধি।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে মোঃ নুরুল আলম (৪৫) নামে এক যুবলীগ নেতার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।তিনি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।গত মঙ্গলবার ডিবি পুলিশ গ্রেফতারের পর তাকে সাতকানিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।সাতকানিয়া থানার পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় শেষে আদালতে পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে তাকে কারাগারে নেওয়া হয়। বুধবার (২৪ জুন) সকালে কারা হেফাজতে তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে কারা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কারা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ম অনুযায়ী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মোঃ নুরুল আলম সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের মাস্টার বাড়ি এলাকার মৃত পেঠানের ছেলে।এই আকস্মিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।নিহতের পরিবারের দাবি,মোঃ নুরুল আলম সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন এবং তাকে পুলিশি হেফাজতে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে।তবে পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে,গত মঙ্গলবার পুলিশ মোঃ নুরুল আলমকে একটি মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে।আজ সকালে হঠাৎ করেই পরিবারকে তার মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়।নিহতের স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:গ্রেফতারের সময় তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিলেন।তার কোনো গুরুতর রোগ ছিল না।মাত্র এক রাতের ব্যবধানে কারাগারে তার এই মৃত্যু কোনোভাবেই স্বাভাবিক হতে পারে না।তাকে থানায় বা হেফাজতে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে।আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চাই।নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি)আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন বলেন: পুলিশের বিরুদ্ধে আনা নির্যাতনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাকে সুনির্দিষ্ট মামলায় আইনানুগ প্রক্রিয়ায় গ্রেফতার করা হয়েছিল।থানায় থাকাকালীন তার ওপর কোনো প্রকার বলপ্রয়োগ বা নির্যাতন করা হয়নি।সমস্ত আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।আদালত থেকে তাকে যখন কারাগারে পাঠানো হয়,তখনও তিনি সুস্থ ছিলেন। কারাগারের ভেতরে কী ঘটেছে বা তার কোনো পূর্ব অসুস্থতা ছিল কি না তা কারা কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন:উক্ত বন্দী আজ সকালে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কারা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিই।পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ম অনুযায়ী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।প্রাথমিকভাবে এটি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে (হার্ট অ্যাটাক) মৃত্যু বলে ধারণা করা হচ্ছে।কারাগারে কোনো বন্দীকে নির্যাতনের প্রশ্নই আসে না।
কারা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,বন্দী মৃত্যুর ঘটনায় নিয়ম অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Our Like Page