
মোল্লাহাটে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর প্রশাসনের উপস্থিতিতে দোকান খুলে জব্দ তালিকা প্রস্তুত
রায়হান শেখ, মোল্লাহাট (বাগেরহাট): বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রদীপ মাঝির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও শোকের আবহ বিরাজ করছে। ঘটনার ছয় দিন পর প্রশাসনের উপস্থিতিতে তার স্বর্ণের দোকান খুলে লকারে থাকা স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ ও অন্যান্য মালামালের জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
জানা যায়, গত ২১ জুন ২০২৬ (রোববার) উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের গিরিশনগর এলাকার মহাশ্মশান-সংলগ্ন একটি বাগান থেকে প্রদীপ মাঝি (৩৫)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি গিরিশনগর গ্রামের সুমন্ত মাঝির ছেলে এবং মোল্লাহাট উপজেলার গাড়ফা বাজারের একজন পরিচিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী ছিলেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সেদিন সকালে প্রদীপ মাঝিকে বাড়িতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে দুপুরে গিরিশনগর মহাশ্মশানের পাশের একটি নির্জন বাগানে একটি কাঁচা গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে মোল্লাহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মোল্লাহাট বাজারে অবস্থিত প্রদীপ মাঝির স্বর্ণের দোকান খোলা হয়। এ সময় দোকানের লকারে থাকা স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী তালিকাভুক্ত করে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়।
দোকান খোলার সময় উপস্থিত ছিলেন মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমনা আইরিন, মোল্লাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী রমজানুল হক, মোল্লাহাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন আল রশিদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ সাহেদ আলী, উদয়পুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. বাদল শেখ, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. ফুরকান শিকদার, মোল্লাহাট স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি অমিতোষ এবং সাধারণ সম্পাদক মোমিন।
এ সময় নিহতের স্ত্রী, মা ও অন্যান্য নিকট আত্মীয়-স্বজন উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক পাওনাদার ও স্থানীয় ব্যবসায়ীর উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়।
প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে উপস্থিত সবার সামনে স্বচ্ছতা বজায় রেখে লকারে থাকা সব মালামাল জব্দ তালিকাভুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রদীপ মাঝির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে মোল্লাহাট থানা পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

