
“দুর্নীতি প্রতিরোধে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ”
সৈয়দ আহাম্মদ লাভলুঃ
দুর্নীতি প্রতিরোধে সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে সচেতনতা বৃদ্ধি, নৈতিক শিক্ষা, এবং সম্মিলিত প্রতিবাদ প্রধান চাবিকাঠি। পরিবার থেকে সততার শিক্ষা, তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, গণমাধ্যমের স্বচ্ছ ভূমিকা, এবং ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসনের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব । দুর্নীতি প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক কমিটি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন । দুর্নীতি প্রতিরোধে পরিবারই প্রথম স্কুল। ছোটবেলা থেকে সন্তানদের মধ্যে সততা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে । তরুণ প্রজন্মকে দুর্নীতির কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে হবে এবং তাদের মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘চিরদুর্বার’ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে । যুবকরা তাদের মেধা ও শক্তির মাধ্যমে দুর্নীতি প্রতিরোধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে । দুর্নীতির সাথে জড়িতদের সামাজিকভাবে বর্জন করা এবং ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘না’ বলার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজকে দুর্নীতির ঘটনা প্রকাশ্যে আনতে হবে এবং এর বিরুদ্ধে জনমত গঠন করতে হবে । সমাজ থেকে দুর্নীতি নির্মূলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সোচ্চার হতে হবে। সমাজের সর্বস্তরে ধর্মীয় ও নৈতিক অনুশাসন ছড়িয়ে দিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করা এবং নিজ এলাকায় দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক) এর মাধ্যমে কাজ করতে হবে। দুর্নীতি একটি সামাজিক ব্যাধি। কেবল সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, সমাজের প্রতিটি সদস্য, বিশেষ করে তরুণ ও শিক্ষিত সমাজ, যদি ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তাহলে এই সোনার বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতি নির্মুল করা সম্ভব বলে সচেতন মহল মনে করেন।
“সৈয়দ আহাম্মদ লাভলু”
সভাপতি
উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, ব্রাহ্মণপাড়া, কুমিল্লা।

