
বাগমারা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামাল হোসেনের মদদে বেপরোয়া হাবিবুর চেয়ারম্যান
বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি : রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির
সদস্য সচিব কামাল হোসেনের মদদে বেপরোয়া হাবিবুর রহমান চেয়ারম্যান। উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও গোবিন্দপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবির বিরুদ্ধে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগে প্রকাশ, বিগত ২০১৬ সালে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন ।
তিনি ১৭ জানুয়ারি ২০১৯ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ পাতানো নির্বাচনে নৌকার পক্ষে প্রচারণায় অংশ গ্রহণ করেন।
নিজ উদ্যোগে এম.পিকে সংবর্ধনার আয়োজন করেছিলেন। ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট চরম মুহূর্তে আওয়ামী লীগের এম. পি আবুল কালাম আজাদ এবং উপজেলা চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টুর সাথে নৌবিহারে যান।
( নৌবিহারে এম.পি এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের পায়ের নিচে মাদুরে বসা হবির চেয়ারম্যানেরের একটি ভিডিও ক্লিপ এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত ) যা তৎকালীন সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
উপজেলার বোয়ালিয়া এনায়েতপুর বিলে মৎস্য চাষ প্রকল্পের ২৪ জনের মধ্যে সভাপতি, সম্পাদক, পরিচালক, ক্যাশিয়ার সহ ১৭ জন আওয়ামী পদধারী নিয়ে তিনি মাছ চাষ করছেন। জোরপূর্বক বোয়ালিয়া বিলে দিঘি খনন, অন্যান্য বিলে পুকুর, দিঘি খননে আতাত করে নিজ ভাটায় মাটি সরবরাহ করেন। এতে জমির টপ সোয়েল নস্টের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। যা কৃষির জন্য মহাক্ষতির কারণ।
ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামাল হোসেনের ইন্ধনে বেপরোয়া হযে উঠেন হবি চেয়ারম্যান।
ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে, প্রকৃত মৎস্যজীবীদের তাড়িয়ে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামাল হোসেন এবং হবির চেয়ারম্যান বিল মাললী বিলের মাছ বিক্রয়ের প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন ।
অপর দিকে সদস্য সচিবের সুপারিশে হবিরের ছেলেকে গোবিন্দপাড়া হাইস্কুলের সভাপতি এবং ভাগ্নেকে দামনাশ কলেজের সভাপতি করেছেন। এছাড়াও বিধি বহির্ভূত দামনাশ হাইস্কুলে সহকারী প্রধান শিক্ষক কে দায়িত্ব না দিয়ে জুনিয়র একজনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন।
এসবের প্রতিকার চেয়ে ১ নং গোবিন্দপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সৈয়দ আলী মাস্টার এবং সাধারণ সম্পাদক শাহানাজ পারভীন, নয়টি ওয়ার্ডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সহ শতাধিক নেতৃবৃন্দের স্বাক্ষর সম্বলিত অভিযোগ রাজশাহী জেলা বিএনপির আহবায়ক ও সদস্য সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আমার জীবনে শুধু বিএনপির রাজনীতি করার কারণে একাধিকবার কারাগারে গিয়েছি।তিনি আরও বলেন,যারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে তারা দলের প্রতিপক্ষ তারা তো আমার অপপ্রচার করবে। আমার ছাত্রজীবন থেকেই দলের বিভিন্ন পদে ছিলেন। আমি কোনদিন আওয়ামী লীগ যোগদান করিনি। আমি কোনদিন নিজে এবং কারোও মদদে জবর দখল কোন কাজ করিনি। যারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে এগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট। এব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক কামাল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। উক্ত অভিযোগের বিষয়টি
রাজশাহী জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব বাবু বিশ্বনাথ সরকার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি, অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মোঃ সাইফুল ইসলাম
বাগমারা রাজশাহী

