
স্কলারশীপ নিয়ে ৩ বছরের জন্য চীন যাচ্ছে স্বর্ণজয়ী স্কেটার পৃথিবী
বগুড়া প্রতিনিধি: চায়নার নানজিংয়ে উচ্চশিক্ষা এবং স্পিড স্কেটিংয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য ৩ বছরের ফুল ফ্রি স্কলারশিপ অর্জন করেছে বগুড়ার কৃতি সন্তান মোঃ নাবীয়্যূন ইসলাম পৃথিবী। সে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ জাতীয় স্কেটিং দলের জুনিয়র এ গ্রুপের স্কেটার হিসাবে ২০২৫ সালের অক্টোবরে চীনে অনুষ্ঠিত ”বেল্ট এন্ড রোড এশিয়ান স্পিড রোলার স্কেটিং সিটি ইনভাইটেশনাল টুর্নামেন্টে জোড়া স্বর্ণপদক অর্জন করে। যা বাংলাদের স্কেটিং ইতিহাসের সব থেকে বড় অর্জন হিসাবে ইতিহাসে স্থান পায়। পৃথিবী, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় আইটি বিভাগের সদস্য আশরাফুল ইসলাম রোহিতের বড় পুত্র।
এই সফলতার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক স্কেটিংয়ের সব থেকে বড় আসর অলিম্পিক ও ওয়ার্ল্ডকাপে অংশগ্রহণের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার লক্ষেই সে চীনের নানজিং এ স্বনামধন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ শাখায় আবেদন করলে তার পূর্বের অভাবনীয় সাফল্যের বিষয়টি অবগত হয়ে উক্ত প্রতিষ্ঠান তাকে ৩ বছরের জন্য ফুল ফ্রীস্কলারশীপ প্রদান করে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তিনি চীনের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাবেন।
পূর্ব চীনের জিয়াংসু (Jiangsu) প্রদেশের রাজধানী নানজিং। এটি চীনের অন্যতম প্রাচীন চার ঐতিহ্যবাহী রাজধানীর একটি। ইয়াংসি নদীর তীরে অবস্থিত এই শহরটি একই সাথে সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং আধুনিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। নানজিংকে চীনের অন্যতম প্রধান শিক্ষানগরী বা ‘এডুকেশন হাব’ বলা হয়। তাই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। শুধু তাই নয়
নানজিং বিশ্বজুড়ে “World Roller Sports Capital” বা রোলার স্পোর্টসের বিশ্ব রাজধানী হিসেবে খেতাবপ্রাপ্ত। এছাড়াও এখানে উচ্চমানের গবেষণাগার, বিশাল লাইব্রেরি এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্যাম্পাস পরিবেশ রয়েছে। শহরে আন্তর্জাতিক মানের ইন্ডোর ও আউটডোর স্কেটিং ট্র্যাক, স্পিড স্কেটিং রিংক এবং স্কেটপার্ক রয়েছে। সেখানে স্কুল পর্যায়ে এবং ক্লাবগুলোতে স্কেটিং প্রশিক্ষণের সুব্যবস্থা থাকায় শিশু ও যুবকদের মধ্যে ইনলাইন স্কেটিং এবং স্পিড স্কেটিং অত্যন্ত জনপ্রিয়।
ফলে একই সাথে পৃথিবীর শিক্ষাজীবন এগিয়ে নিতে ও স্কেটিংয়ে বিশ্বজয়ের স্বপ্নের দ্বার উম্মূক্ত হয়ে যায়। স্কেটিংয়েও যে পেশাগত ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব তা তরুণ প্রজন্মের মাঝে এক উজ্জল সম্ভাবনার আশা জাগাচ্ছে। যা দেশিয় স্কেটিংয়ের ভবিষ্যৎ অগ্রগতিতে ব্যপক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন দেশের স্কেটিং সংশ্লিষ্ঠরা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রোলার স্কেটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান বলেন, “ নাবীয়্যূনের এই সাফল্য দেশের স্কেটিং ইতিহাসের এক নবজাগরণ। এর মাধ্যমে তৃণমুল পর্যায় থেকে শুরু করে সকল ধরণের স্কেটার নিজেদের মেধা প্রমানে আগ্রহী হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে বেন্ড ট্র্যাক থাকলেও এখনও আমাদের দেশে তার অভাব রয়েছে। তবু্ও কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে ইতি মধ্যেই তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মেধার স্বাক্ষর রাখছে, এবছর চীনের আরও একটি আন্তর্জাতিক ইভেন্টে আমাদের জাতীয় স্কেটাররা সিলভার ও ব্রঞ্জসহ মোট ৭টি পদক অর্জন করেছে। দেশে তৃণমূল পর্যায়ে অনেক মেধাবী স্কেটার ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, আমরা যদি বেন্ড ট্র্যাক ও তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিতে পারি তাহলে অলিম্পিক ও ওয়ার্ল্ডকাপের মত আসরেও বাংলাদেশ উজ্জল দৃষ্ঠান্ত স্থাপন করবে যা শুধু সময়ের দাবি।”
বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জি: মোছা: ফিরোজা আক্তার নেলী বলেন, “বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে রাজশাহী বিভাগীয় স্কেটিং টুর্নামেন্টে ২০২৫ এর মাধ্যমে নাবীয়্যূ ইসলাম পৃথিবীকে তৃণমূল পর্যায় থেকে খুঁজে এনে জাতীয় রোলার স্কেটিং দলে সমস্বয় করা হয়েছিলা। পরবর্তীতে বাংলাদেশ স্কেটিং ফেডারেশনের দক্ষ কোচদের প্রশিক্ষণ ও কঠোর পরিশ্রমের ফলাফল চায়নাতে জোড়া স্বর্ণপদক অর্জন। যা এখন সত্যিই পুরো জাতির জন্য একটি গর্বিত অধ্যায়। ইতি মধ্যে মেয়েদেরকেও আন্তর্জাতিক স্কেটিংয়ে সফলতার সাক্ষর রাখতে দেখছি। আমি মনে করি তৃণমূলে শুধু দক্ষ স্কেটারই নয়, দক্ষ নারী স্কেটার, দক্ষ সংগঠক, দক্ষ প্রশিক্ষক ও দক্ষ পৃষ্ঠপোষকও রয়েছেন। তাদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে দেশিয় স্কেটিংকে বিশ্বমঞ্চে সমাদ্রীত করতে তৃণমূলের প্রতি বিশেষ নজর ও যত্ন করা প্রয়োজন।
নাবীয়্যূন ইসলাম পৃথিবী বগুড়া রোলার স্কেটিং ক্লাবের একজন নিয়মিত স্কেটার এবং উক্ত ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও কোচ মোঃ আশরাফুল ইসলাম রহিত এর বড় ছেলে। পৃথিবীর গর্বিত মাতা মোছাঃ নওরীন আক্তার লাবনী প্রথম দিকে স্কেটিং তেমন পছন্দ না করলেও বর্তমানে ছেলের অভাবনীয় সাফল্যে তিনিও আশাবাদী এবং নানজিংয়ে পৃথিবীর পড়াশোনা ও স্কেটিংয়ের ভবিষ্যত গড়তে তিনি সকল ধরণের সাপোর্ট দিয়ে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেছেন।
দেশের ক্রীড়ামোদী ও স্কেটিং প্রেমীরা মনে করছেন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় নিয়মিত অধ্যাবসায়, কোচদের উন্নত প্রশিক্ষণ, নিজের মেধা ও পরিশ্রমের সমন্বয়ে শিঘ্রই নাবীয়্যূন ইসলাম পৃথিবী পড়ালেখার পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে একজন স্কেটিং তারকা হিসাবেই নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন।

