
শরীয়তপুর জেলা পরিষদে একাধিক প্রকল্পে বাস্তবায়নে অনিয়ম অভিযান চালিয়েছেন দুর্নীতি দমন দুদক
মাহামুদুর রহমান জুয়েল
স্টাফ রিপোর্টার
রোববার ১৯ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার সমন্বিত মাদারীপুর জেলা কার্যালয়ের একটি টিম শরীয়তপুর জেলা পরিষদে এ অভিযান চালিয়েছেন
অভিযান শেষে বিভিন্ন প্রকল্পের নথিপত্র ও প্রকল্পের মালামালের নমুনা নিয়ে যায় দুদক প্রকল্প গুলো বাস্তবায়নে অনিয়ম পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন দুদক
মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার সমন্বিত দুদক কার্যালয় সূত্রে জানা যায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)
শরীয়তপুর জেলা পরিষদের ২০২২-২০২৩ অর্থ বছর ও ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে বাস্তবায়ন করা বিভিন্ন প্রকল্পের অনিয়মের অভিযোগ পেলে ওই দুই অর্থ বছরে বাস্তবায়ন করা ২০টি প্রকল্পরের বিষয় নিয়ে তদন্ত করছেন দুদক
ওই সময় জেলা পরিষদের দায়িত্ব থাকা চেয়ারম্যান সাবেদুর রহমান খোক সিকদার ও সদস্য কামরুজ্জামন উজ্জল আসমা আক্তার সাখাওয়াত হোসেন
জেলা পরিষদের তৎকালিন প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা শামীম হোসেন (বর্তমানে আছেন) স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক হিসেবে নাটোর জেলায় কর্মরত)
সহকারি প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা নুর হোসেনের বিরুদ্ধে প্রকল্প গুলোতে অনিয়মে সহায়তা করার অভিযোগ পেয়েছেন দুদক
রোবার বেলা ১১টার দিকে দুদক মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে ৬ সদস্যর একটি দল শরীয়তপুর জেলা পরিষদে অভিযান চালান
এবং অভিযান শেষে ওই প্রকল্প গুলোর বিভিন্ন নথিপত্র ও প্রকল্পের আওতায় কেনা মালামালের নমুনা সংগ্রহ করেছেন ও তার মূল্যযাচাই ও পরিক্ষার জন্য নিয়ে যায়
দুদকের অভিযান দলটি সেই সাথে গত দুটি অর্থ বছরে জেলা পরিষদ থেকে সড়ক নির্মান সীমানা প্রাচীর নির্মান যাত্রী ছাউনি নির্মান ডাক বাংলো নির্মান শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরন সহ অন্তত ২০টি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে কিছু প্রকল্পের অসংগতির প্রমান ও মিলেছে
ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানা সদরে একটি ডাক বাংলো নির্মান প্রকল্প দেখিয়ে ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে ৫০ লাখ টাকা ও ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে ১ কোটি টাকা বরাদ্দা নেয়া হয়েছে অথছ ওই স্থানে কোন ডাক বাংলো নির্মান করা হয়নি ডাক বাংলো নির্মানের জন্য কোন দরপত্রও আহবান করা হয়নি ওই দুটি অর্থ বছরে শীতবস্ত্র হিসেবে ৫৫ লাখ টাকার কম্বল ক্রয় করা হয় ওই কম্বল কম মূল্যে ক্রয় করে বেশি টাকা ক্রয় দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের কমকর্তা
এবিষয় জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নুর হোসেন বলেন প্রকল্প গুলো ইজিপি টেন্ডারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে আর সখিুপরে ডাক বাংলো নির্মানের জন্য মন্ত্রনালয় দুই দফায় দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন ওই সময়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কিভাবে তদবির করে ওই টাকা এনেছেন তা আমরা বলতে পারিনা ডাক বাংলো নির্মানের কোনও দরপত্র দেয়া হয়নি এবং ওই টাকা জেলা পরিষদের একাউন্টে এখনও রয়েছে
দুদকের মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক আখতারুজ্জামান বলেন আমরা দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে ও ডিডি মহোদয়ের দিক নির্দেশনায়। আজ শরীয়তপুর জেলা পরিষদে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে
সুনিদিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা পরিষদের ২০টি প্রকল্পের অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত কাজ শুরু করেছি
প্রাথমিক ভাবে বিভিন্ন প্রকল্পের অনিয়মের প্রমান পাওয়া যায় এর পর ও নথিপত্র যাচাইবাছাই করা হচ্ছে মাঠ পর্যায়ে প্রকল্পগুলো পরিদর্শন ও তদন্ত করা হচ্ছে তদন্ত শেষ করার পর আমরা প্রতিবেদন দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠাবো বলে জানিয়েছেন

