শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
Headline
Wellcome to our website...
হোসেনপুরে শতবর্ষী মফিজ মাস্টার এখনো খালি চোখে লিখতে ও পড়তে পারেন ।
/ ১৯৯ দেখেছেন
সর্বশেষ : সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫, ৫:০৮ অপরাহ্ন

হোসেনপুরে শতবর্ষী মফিজ মাস্টার এখনো খালি চোখে লিখতে ও পড়তে পারেন ।

———————————- আশরাফ আহমেদ,হোসেপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে শতবর্ষী মফিজ মাস্টার এখনো কোরআন শরিফ ছাড়াও যে কোনো বই-পুস্তক খালি চোখে পড়তে ও লিখতে পারেন। গ্রামের মানুষের কাছে ওই প্রবীণ মানুষটির আলাদা খ্যাতি রয়েছে। কৃতী ওই প্রবীণ মফিজ মাস্টারের পৈত্রিক নিবাস উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ডাংরি গ্রামে।
সূত্র মতে, তিনি সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি না করলেও স্বাধীনতার আগে থেকেই গ্রামে ছাত্রদের পড়াতেন নিজ উদ্যোগেই ৷ তাই গ্রামে তার পরিচিতি একজন মাস্টার হিসেবেই। পড়ানোর সুবাদে তার হাজারো ছাত্র সারাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন এবং সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরিতে রয়েছেন।
সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রবীণ ওই মফিজ মাস্টারের ৩ মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে৷ সবারই বিয়ে হয়েছে৷ ছেলেমেয়েরা সবাই যার যার অবস্থান থেকে প্রতিষ্ঠিত৷ বাড়িতে তার সহধর্মিণী রয়েছেষ৷ তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। বড় ছেলে বাবা-মায়ের দেখভাল করে থাকেন৷ মফিজ মাস্টার ধর্মীয় কাজে অধিক মনোযোগী৷ পরহেজগার মানুষ হিসেবে এলাকার সবার কাছে সম্মানিত ব্যক্তি তিনি ৷ এলাকার যে কোনো অনুষ্ঠান হলে তিনি আমন্ত্রিত হয়ে থাকেন। এছাড়াও গ্রামের মানুষের বিশেষ আমন্ত্রণে প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে থাকেন ৷ আর সবাই তার কাছে দোয়া নেয়ার জন্য ছুটে আসেন। মানুষ খুশি হয়ে যা দেন, তাই হাসিমুখে গ্রহণ করেন৷ তাই দিয়ে নিজের সংসারের খরচ মিটিয়ে থাকেন। বই দিলে তিনি খালি চোখে অনায়াসে পড়তে পারেন৷ এছাড়াও একাই হেঁটে এখনো বাড়ি যেতে পারেন তিনি। বর্তমানে কানে সামান্য কম শুনলেও স্মরণশক্তি স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে৷ দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় ও রমজান মাসের সবগুলো রোজা তিনি পালন করে থাকেন তিনি ৷ উপজেলার গোবিন্দপুর ইউপির ডাংরি গ্রামের বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন বলেন, চাচা (মফিজ মাস্টার) খুবই ভালো মনের মানুষ। এখনো তিনি অনায়াসে কোরআন ও বইপত্র চশমা ছাড়াই পড়তে পারেন৷ বিষয়টি আমাদের কাছে খুবই ভালো লাগে৷ আমাদের গ্রামের সবাই তাকে শ্রদ্ধা ও সম্মান করে থাকি৷
শতবর্ষী মফিজ মাস্টার জানান,আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি রোগ মুক্ত হয়ে এখনো সুস্থ আছি৷ বর্তমানে আমার বয়স ১০০ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে দেখেছি। তাদের আমি দেশের জন্য যুদ্ধ করতে উদ্ভুদ্ধ করতাম। আমার কাছ থেকে দোয়া নিতো তারা৷ যতদিন বেঁচে আছি মানুষের মধ্যে ধর্ম প্রচার ও আল্লাহর ইবাদত করে কাটাতে চাই৷
এ ব্যাপারে উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল ইসলাম হিমেল জানান, শতবর্ষী মফিজ মাস্টার একজন সাদা মনের মানুষ। তিনি আল্লাহর রহমতে এখনো চশমা ছাড়াই সব কিছু লিখতে ও পড়তে পারেন। আমার জানা মতে জেলার মধ্যে এটি একটি বিরল ঘটনা। তিনি আমাদের সবার গর্ব ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অনন্য সংবাদ গুলো...
Our Like Page