
ঠাকুরগাঁওয়ে মাজার ভাঙচুর
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ
ঠাকুরগাঁও শহরে রাতের আঁধারে ‘হযরত বাবা শাহ সত্যপীর মাজার’ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শুক্রবার রাতের কোনো এক সময়ে শহরের সত্যপীর ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি মনির হোসেন।
শনিবার সকালে স্থানীয় লোকজন ও ভক্তরা মাজারে গেলে ভাঙচুরের দৃশ্য দেখতে পান। ঘটনাটি জানাজানি হলে মাজারে আসতে থাকেন শত শত ভক্ত আশেকান।
মাজার ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মাজারটিতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে ভক্তরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় কে বা কারা মাজারে ঢুকে সেখানকার কবরগুলো ভাঙচুর করে। এ ছাড়া মাজারের প্রধান ঘরের দরজা ও জানালা ভেঙে ফেলা হয়।
মাজারের ভক্ত আলীম হোসেন বলেন, “মাজারটি আমার জন্মেরও আগের। কখনোই এখানে খারাপ কাজ হয়নি। মুনাফেক কিছু লোকজন রাতের আঁধারে মাজার এবং কবরগুলোও ভাঙচুর করেছে। আমরা চাই অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।”
‘হযরত বাবা শাহ সত্যপীর মাজার’ কমিটির সভাপতি এনামুল হক বলেন, “শতশত ভক্ত আশেকান মাজারে এসে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এই মাজারের ভক্তরা কখনোই কোনো ধরনের খারাপ কাজ করেননি; এটা আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে পারি। অথচ রাতের আঁধারে কে বা কারা আমাদের মাজার ভাঙচুর করল।”
তিনি বলেন, “যারাই মাজার ভাঙচুর করুক তাদের যেন ছাড় দেওয়া না হয়। আমি প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, প্রশাসন অবশ্যই সঠিকভাবে তদন্ত করবে এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনবে।”
মাজার ভাঙচুরের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলেছেন হযরত বাবা শাহ সত্যপীর মাজার কমিটির সভাপতি এনামুল হক।
সকালে খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
ওসি মনির হোসেন বলেন, মাজার ভাঙচুর হয়েছে, তবে কোনো চুরির ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুল ইসলাম বলেন, “যেহেতু মাজারে কোনো ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেনি, এতে একটি বিষয় স্পষ্ট- মাজার ভাঙচুরের ঘটনাটি ধর্মীয় উগ্রপন্থিরা করেছে।
“আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে, আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

