
মাটিরাঙ্গায় স্বামীর দেয়া আগুনে জ্বলতে গেছে স্ত্রীর শরীর
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় পরকীয়া প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রবাসীর স্ত্রীকে বিয়ে করার পর যৌতুকের দাবীতে স্ত্রীর শরীরে আগুন লাগিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী মো. নুর হোসেন’র বিরুদ্ধে। শারীরিক, মানসিক ও যৌতুকের নির্যাতন সইতে না পেরে থানায় অভিযোগ করেছেন বিবি খাদিজা নামে এক নারী।
অভিযুক্ত পলাতক প্রেমিক মো: নুর হোসেন (৩৫)। সে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের পলাশপুর গ্রামের বাসিন্দা কাঁচামাল ব্যবসায়ী মো: দুলাল মিয়ার ছেলে।
স্বামীর আগুনে জ্বলসে যাওয়া বিবি খাদিজা বলেন, ২০০৮ সালে পারিবারিক ভাবে সৌদি প্রবাসীর সাথে বিয়ে হয় ওই নারীর। তাদের দাম্পত্য জীবনে কোন সন্তান নেই। স্বামী প্রবাসে থাকায় সংসারের প্রয়োজনীয় হাটবাজার তাকেই করতে হতো। এ সুবাদে মাটিরাঙ্গা বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী নূর হোসেনের দোকানে যাতায়াত ছিল ওই নারীর। স্বামী প্রবাসী হওয়াও তার উপর কুদৃষ্টি পড়ে যায় কাঁচামাল ব্যবসায়ীর। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কে গড়ে উঠে। দীর্ঘদিন পরকীয়ার পর গত ১৩ ফেব্রুয়ারী ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে হলফনামা ও কাবিন রেজিস্ট্রির মাধ্যমে ওই নারীকে বিয়ে করে মো. নূর হোসেন ।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, বিয়ের আগে নানা অজুহাতে আমার কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা নিয়েছে মো. নূর হোসেন। বিয়ের পর সে যৌতুকের জন্য বেপরোয়া হয়ে উঠে। মোটরসাইকেল ক্রয়ের জন্য দুই লাখ টাকা টাকা দাবী করে। আমি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শুক্রবার সকালে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে কিল ঘুষি লাথি মেরে ফেলে দিয়ে আমার গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। আমার চিৎকারে পাশের লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে। ততক্ষণে আমার পেট, পিঠ, হাতের আঙুল পুড়ে যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে বাড়ির মালিক আমার স্বামীকে বুঝিয়ে দ্রুত ডাক্তারের কাছে পাঠায়। সে আমাকে ডাক্তারের কাছে রেখে আর ফিরে আসেনি। তার সাথে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন ওই নারী।
অভিযুক্তের বাবা মো. দুলাল মিয়া বলেন, সে আগে বিয়ে করেছে,তার একটি বাচ্চা আছে। তার বউ এখন সন্তানসম্ভবা। বিয়ে করার বিষয়টি জানেন না দাবী করে বলেন, ওই মেয়ে আমাদের বাড়ীতে একদিন এসেছিলো। তবে কেন এসেছিলো তা আমি জানিনা। তবে পলাতক থাকায় অভিযুক্ত মো. নূর হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সাহেদ উদ্দিন বলেন, অভিযোগ পাওয়া সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

