শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন
Headline
সরাইল প্রেসক্লবে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল “ফিল্মি কায়দায় অপহরণ-৩ দিনেও নিখোঁজ ইমামের কন্যা—উদ্বেগ বাড়ছে এলাকায়” “পহেলা বৈশাখ: উৎসব, না কি ইতিহাসের এক ভুল ব্যাখ্যা? মাটিরাঙ্গায় স্বামীর দেয়া আগুনে জ্বলতে গেছে স্ত্রীর শরীর নোয়াখালী সংবাদিক ইউনিয়নের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন বুড়িচংয়ে বিদ্যালয়ের গেটের সামনে থেকে ছাত্রীকে মাইক্রোবাসে তুলে অপহ*রণে*র চেষ্টা,গ্রে*প্তার ২ যুবক নরসিংদীতে পলাশে কিশোরীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, একজন গ্রেপ্তার নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার দুলালপুর সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ২০২৬ইং দাখিল পরীক্ষীদের দোয়া ও বিদায় অনুষ্ঠান হাটখুজিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের বিদায় সংবর্ধনা ও নবীন বরণ অনুষ্ঠিত। শিলাবৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড শাল্লার হাওর: কৃষকের সোনালী স্বপ্নে প্রকৃতির নির্মম আঘাত।
Headline
Wellcome to our website...
তফসিল পেছানো, এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর ও ভয়ের রাজনীতি: আমার নির্বাচন বর্জন ও নীরব প্রতিবাদ। ( ব্যারিষ্টার সোহরাব খাঁন চৌধুরী) 
/ ২২৭ Time View
Update : রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২:৪৯ অপরাহ্ন

তফসিল পেছানো, এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর ও ভয়ের রাজনীতি: আমার নির্বাচন বর্জন ও নীরব প্রতিবাদ। ( ব্যারিষ্টার সোহরাব খাঁন চৌধুরী) 

নিউজ ডেক্স 

দীর্ঘদিন রাজনীতির মাঠে হাঁটতে হাঁটতে আমি এক কঠিন সত্য বুঝেছি—বাংলাদেশে নির্বাচন শুধু ব্যালটের লড়াই নয়; অনেক ক্ষেত্রে এটি একটি অল্পসংখ্যক ক্ষমতাবান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গোষ্ঠীর দখলদারি ও হিংস্রতার লড়াই। অর্থ, প্রভাব, প্রশাসনিক সংযোগ এবং পেশিশক্তিকে হাতিয়ার করে এই গোষ্ঠী নির্বাচনকে জনগণের মত প্রকাশের প্রক্রিয়া না রেখে নিজেদের আধিপত্য টিকিয়ে রাখার যুদ্ধে রূপ দেয়। এতে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর চাপা পড়ে যায়, আর ভয় ও আতঙ্ক হয়ে ওঠে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের প্রধান অস্ত্র। গত পাঁচ মাস ধরে আমার প্রতিটি লেখা, প্রতিটি বক্তব্য, ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচারপত্র বিলি—সবকিছুর কেন্দ্রে ছিল একটাই কথা: রাজনীতি মানুষের জন্য, দল বা ক্ষমতার বলয়ের জন্য নয়।

এই বিশ্বাস থেকেই গত ২২শে ডিসেম্বর আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র কিনেছিলাম। মনে হয়েছিল, জনগণ পাশে থাকলে দলীয় পরিচয় গৌণ হয়ে যাবে। প্রয়োজনে কোনো একটি দলের সঙ্গেও পথ চলা যাবে। নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা আসার সঙ্গে সঙ্গেই বাস্তবতা খুব দ্রুত, খুব নির্মমভাবে সামনে এসে দাঁড়ায়।

২৩শে ডিসেম্বর রাতে একটি প্রধান দলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমার ব্রাহ্মণপাড়ার বাসায় যৌথবাহিনীর তল্লাশি চালানো হয়। কাগজে-কলমে সেটি হয়তো একটি তল্লাশি, কিন্তু বাস্তবে সেটি ছিল একটি স্পষ্ট বার্তা—এই পথে আর এগোবে না।

কারণ কুমিল্লা-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিতদের মধ্য থেকে ধানের শীষের বিপক্ষে একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তারা আগেই হিসাব করে দেখেছিল। চতুর্মুখী লড়াইয়ের বাস্তবতায় তারা জানত—আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ালে জনগণের ভোটে বিজয়ের সম্ভাবনা বাস্তব ও শক্তিশালী। অনেকে প্রকাশ্যে বলেছেন, ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও, নির্বাচন বর্জনকারী কয়েকটি দলের পরোক্ষ সমর্থন ও আওয়ামী লীগের প্রত্যক্ষ সমর্থনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি প্রায় ৩২ হাজার ভোট পেয়েছিলাম। সেই অভিজ্ঞতাই এবার কারও কারও জন্য সবচেয়ে বড় ভয় হয়ে দাঁড়ায়। এই ভয় থেকেই শুরু হয় পরিকল্পিত আক্রমণ। আমার ব্যানার-বিলবোর্ড ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, ভাঙচুরের দৃশ্য লাইভ করে ছড়ানো হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হয়েছে, আর মুঠোফোনে অবিরাম হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।

আমি গত প্রায় ২৫ বছর ধরে একনাগাড়ে কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং–ব্রাহ্মণপাড়া) নির্বাচনী এলাকায় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে মাঠে থেকেছি। সেই সময় সাবেক আইনমন্ত্রী মরহুম আবদুল মতিন খসরুর বিপক্ষে প্রার্থী হওয়ার সাহস খুব কম লোকই দেখিয়েছে। এই রাজনৈতিক বাস্তবতাই আজ কারও কারও জন্য গভীর আতঙ্কের কারণ।

২২শে ডিসেম্বর কুমিল্লা জেলা নির্বাচন কমিশন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার পর চাপ আরও বেড়ে যায়। এমন কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী নেই, যারা অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করেনি, ভয় দেখায়নি, ব্যক্তিগতভাবে ফোনে হুমকি দেয়নি। এই হুমকি আজও থামেনি। যৌথবাহিনীর তল্লাশির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে “আওয়ামী লীগের দোসর” তকমা লাগানোর অপচেষ্টা। উদ্দেশ্য একটাই—আমি যেন নিজেই নির্বাচন থেকে সরে আসি।

এই বাস্তবতায় নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। মানুষ স্বাক্ষর দিতে গিয়ে একটাই প্রশ্ন করেছে—আমাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কে দেবে? আমাদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ হলে আমরা কি ঝামেলায় পড়ব না? একজন প্রার্থী নিজেই যখন নিরাপত্তাহীন, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার দায় নেওয়ার নৈতিক শক্তি কোথায়?

এর ওপর কঠিন বাস্তবতা হলো—মনোনয়নপত্র কেনার আগে এক শতাংশ ভোটারের নাম ও ভোটার নম্বর পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই স্বল্প সময়ে সেই তথ্য সংগ্রহ করা কার্যত অসম্ভব। ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের মুখাপেক্ষী করে তোলা হয়। এই ব্যবস্থায় অনেকেই সময়ের অভাবে আর ভয়ের চাপে নির্বাচন থেকেই সরে দাঁড়াতে বাধ্য হবে—যা খুব শিগগিরই দৃশ্যমান হবে আগামীকাল থেকে। এই বাস্তবতার আলোকে আমি নির্বাচনের তফসিল পুনর্বিবেচনা করে নতুনভাবে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি।

এই কারণেই আমি নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি কোনো পলায়ন নয়। এটি এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের মতো অন্যায্য ও ভীতিনির্ভর ব্যবস্থার বিরুদ্ধে নীরব কিন্তু দৃঢ় প্রতিবাদ। এমন একটি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, যেখানে জনগণের ভোট দেওয়ার আগেই প্রার্থীকে ভয় দেখিয়ে মাঠ খালি করা হয়। গণতান্ত্রিক ছদ্মাবেশে কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তির সঙ্গে আমি আপোষ করিনি বলেই আজও কোনো দলের সদস্য হইনি। আমি বিশ্বাস করি, সময় আসবে—যখন স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া অপরাধ হবে না। ভয় নয়, জনগণের ভালোবাসাই হবে রাজনীতির সবচেয়ে বড় শক্তি।

সেই দিনের আশায়, আমি আজও মাথা উঁচু করেই দাঁড়িয়ে আছি।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Our Like Page