
মাদকের আতুড়ঘর সেনবাগ, নষ্ট হয়ে যুবসমাজ
মোঃ সামছু উদ্দিন লিটন,বিশেষ প্রতিনিধি
নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার গ্রামঅঞ্চলের যুবকেরা বর্তমানে মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ছেন।মাদক কারবারকে তারা এখন রুটি রুজির হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন।ক্রমাগত বেকারত্ব এবং নৈতিক শিক্ষার অভাবে সমাজের মাদকসহ নানান অপকর্মে জড়িয়ে অনিরাপদ করে যাচ্ছেন সেনবাগ কে তারা।সচেতন অভিভাবকরা তাদের সন্তান নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন।
অনেক বাবা মাকে তাদের নেশাগ্রস্ত সন্তানের জন্য কান্নাকাটি করতেও দেখা গেছে। অবশ্য সেনবাগ থানা পুলিশ মাদক নিয়ন্ত্রণে তৎপর রয়েছে এবং জিরো টলারেন্স । ইতিমধ্যে তারা অনেক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করে জেলে প্রেরণ করেছেন।তারপরও প্রতি রাতে মাদক বেচা কেনার খবর ছড়িয়ে পড়ছে সবখানে।একাদিক সূত্র বলছে, মফস্বল এলাকায় গাজা এবং ইয়াবা বিক্রি চলছে। অনেকটা প্রকাশ্যেই চলছে এসব নেশাদ্রব্য বিক্রি, সেবন ও আড্ডাবাজী।এদিকে গত ৬ ই জুন উপজেলার ৯ নং নবীপুর ইউনিয়নের সোমবারিয়া বাজারে মাদক বিক্রি প্রতিহত করতে গিয়ে মাদক কারবারি হারুনের ছুরিকাঘাতে স্কুল ছাত্র ফাহিম হত্যার ঘটনায় পুরো উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে উঠলেও মাদক কারবারিরা কিন্তু থেমে নেই। বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে চালিয়ে যাচ্ছে ব্যাবসা।
বিশেষ করে যে গ্রামগুলোতে মাদকের হাট চলছে, সেগুলো হলো- সেনবাগের নলদিয়া, গোপালপুর শান্তির হাট, বিজবাগ, ধর্মপুর, বিরাহিমপুর, খাজুরিয়া জাইল্ল্যা পাড়া,আটিয়া বাড়ি, মজির খিল, চাঁচুয়া, মানিকপুর, নন্দিরপাড়,ঢালুয়া,জামালপুর, নজরপুর, সমাসপুর বর্ডার, চাঁনপুর,প্রতাপপুর বর্ডার, আহম্মদপুর, জগতপুর বর্ডার, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো থেকে সরকারি ডিগ্রি কলেজ রোড,পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড তিতিমিজি পোলের গোড়া থেকে মোহাম্মদপুর দোকান ঘর। এসব এলাকায় রাত নয়টা থেকে ফজর পর্যন্ত চলে মাদক বেচা কেনা ও সেবন। বেশ কিছু অবিভাবক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিযোগ করে বলেন,তাদের ছেলেরা নেশায় আসক্ত হয়ে ঘরে অস্বাভাবিক আচরণ করে, এমনকি নেশার টাকার জন্য গায়ে হাত তোলে।মানসম্মানের ভয়ে নিরবে সহ্য করা যাচ্ছে। ছেলেদের নিয়ে তাঁরা চিন্তায় আছে। নেশার টাকার জন্য এসব এলাকায় সিএনজি, অটোরিকশা, গরুচুরি, হোন্ডা চুরির মতো ঘটনাও বেড়ে গেছে। সেনবাগ থানার ৬ নং কাবিলপুর ইউনিয়নের ছমিরমুন্সির হাটে কয়েকদিন পরপর সিএনজি, অটোরিকশা চুরির ঘটনা ঘটে। এলাকাটা হাইওয়ে হওয়ায় খুব সহজেই এলাকা ত্যাগ করতে সুবিধা হয় চোরদের।মাদকের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের পুলিশ আটক করলেও মাদক বেচাকেনা উল্লেখিত এলাকায় কোন পরিবর্তন হয়নি। ফলে অভিবাকরা তাদের স্কুল-কলেজ পড়ুয়া সন্তানদের নিয়ে পেরেশানির মধ্যে রয়েছেন।পুলিশ তৎপর রয়েছে, তারপরও মাদক কারবারি কমছে না কেন এ বিষয় সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ( ওসি) আবদুর রহিম সরকার বলেন,রাজনৈতিক ব্যাক্তি,সচেতন এলাকাবাসীর সহযোগিতা থাকলে মাদককারবারি কমিয়ে আনা সম্ভব।

