মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন
Headline
কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়ায় শিশু ধর্ষণের চেষ্টা ধামাচাপা দিতে ‘৫ লাখ টাকা’র প্রহসনের সালিশ এলাকার যুব সমাজ মুখ খুললেই যুবসমাজকে মামলার হুমকি দেয় মেম্বার-সর্দার রা ! ৩ বছর ধরে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আনয়ারা বেগম অনুপস্থিত। ব্রাহ্মণপাড়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ সাংবাদিক নার্গিস জুঁইকে আদালত চত্বরে মারধরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ ঢালুয়া দারুসুন্নাত দাখিল মাদ্রাসায় ল্যাপটপ ও ফটোকপি সুবিধা সম্বলিত প্রিন্টার উপহার লায়ন সৈয়দ হারুন এমজেএফ ভুয়া অনলাইন পোর্টালের নামে প্রতারণা, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে হাজার,হাজার টাকা পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতা আহমেদ আবু জাফর “ত্রিশালের নজরুল মঞ্চে প্রভাষক লিটনের অনবদ্য অভিনয়- “নজরুল জয়ন্তীর বর্ণাঢ্য আয়োজনে মুগ্ধ দর্শক” শরীয়তপুর জেলাবাসীর উদ্দেশে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানালেন সাবেক ছাত্রদল নেতা মাহমুদ খোকন। বিএনপি নেতা মাসুদ রানার নবীনগর পৌরসভার ‘মেয়র’ পদে নির্বাচন করার ঘোষণা!
Headline
Wellcome to our website...
সবার আগে বাংলাদেশ: একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতির পুনর্জন্ম ও আগামীর রাষ্ট্র দর্শন
/ ২৭২ Time View
Update : রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ন

সবার আগে বাংলাদেশ:
একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতির পুনর্জন্ম ও আগামীর রাষ্ট্র দর্শন
মো. সাহিদুল ইসলাম সুমন

চব্বিশের রক্তাক্ত জুলাই উত্তর বাংলাদেশে রাষ্ট্র যখন নিজের অস্তিত্বের সংজ্ঞায় এক চরম সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে, ঠিক তখনই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের ‘ইশতেহার ২০২৬’ এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নামক এক বিস্তৃত সংস্কার পরিকল্পনা ও স্লোগান জাতির সামনে হাজির করেছে। এটি গত দেড় দশকের রুদ্ধশ্বাস রাজনৈতিক শ্বাসরোধের পর এক নতুন সামাজিক চুক্তির নামান্তর। বাংলাদেশ কোনো কেবল মানচিত্রের নাম নয়, বাংলাদেশ ২০ কোটি মানুষের হৃদস্পন্দন ও আত্মপরিচয়ের নাম। কিন্তু বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে সেই স্পন্দন যেন রুদ্ধ হয়ে এসেছিল। আমাদের নদীগুলো শুকিয়েছে, আমাদের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করা হয়েছে এবং আমাদের জাতীয় পরিচয়কে সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থের শিকলে বন্দি করা হয়েছিল। আজ ২০২৬ সালের এই নতুন ভোরে দাঁড়িয়ে যখন আমরা পেছনের দিকে তাকাই, তখন দেখি কেবল লুণ্ঠন, বিচারহীনতা আর হাহাকারের ইতিহাস। এই ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে বিএনপি যে দৃপ্ত ঘোষণা দিয়েছে— ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—তা কেবল একটি রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এটি প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের দীর্ঘশ্বাসের প্রতিধ্বনি এবং আগামীর এক পশলা উজ্জ্বল স্বপ্ন। এই দর্শনের মূল নিহিত রয়েছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর মধ্যে। ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে যখন দেশ এক গভীর পরিচয় সংকটে ভুগছিল, তখন তিনি এই ভূখণ্ডের মাটির গন্ধ ও মানুষের আবেগ মিলিয়ে এক নতুন পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি শিখিয়েছিলেন, আমাদের প্রথম ও শেষ পরিচয় আমরা বাংলাদেশি। বিএনপি আজ সেই দর্শনকেই আধুনিকায়ন করেছে। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, যখনই জাতীয় স্বার্থকে বাদ দিয়ে দলীয় বা গোষ্ঠীস্বার্থকে বড় করে দেখা হয়েছে, তখনই দেশ পিছিয়ে পড়েছে। বড়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—ক্ষমতার অতি-কেন্দ্রীকরণ স্বৈর্তন্ত্রের জন্ম দেয়। গত দেড় দশকে আমরা দেখেছি, প্রধানমন্ত্রীর হাতে অসীম ক্ষমতা থাকায় রাষ্ট্রীয় প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে। এই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিএনপি এক ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছে। প্রস্তাবিত রাষ্ট্র মেরামত রূপরেখায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করতে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। যার মধ্যে অন্যতম হলো—একই ব্যক্তি টানা দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। এটি বাংলাদেশে ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনের চিরস্থায়ী অবসান ঘটাবে। এর ফলে নেতৃত্বে স্থবিরতা আসবে না এবং নতুন প্রজন্মের মেধাবী নেতৃত্বের পথ সুগম হবে। এছাড়া সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে সংসদ সদস্যদের বিবেকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে, যাতে সংসদ কেবল রবার স্ট্যাম্পে পরিণত না হয়। ক্ষমতার এই বিকেন্দ্রীকরণ সরাসরি বিনিয়োগের পরিবেশকে স্থিতিশীল করে। যখন একটি দেশে ক্ষমতার পালাবদল সুনিশ্চিত এবং গণতান্ত্রিক হয়, তখন দীর্ঘমেয়াদী দেশি ও বিদেশি পুঁজি সেই বাজারে আসতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থার প্রস্তাবটি এই ভারসাম্যেরই আরেকটি স্তম্ভ। আমাদের জাতীয় সংসদে একটি ‘উচ্চকক্ষ’ থাকবে, যেখানে দেশের প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবী, বিশেষজ্ঞ, প্রযুক্তিবিদ ও বিভিন্ন পেশার বিজ্ঞ ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত হবেন। রাজনৈতিক ডামাডোলে অনেক সময় মেধাবীরা আড়ালে পড়ে যান; এই ব্যবস্থার ফলে রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণে তাদের মেধা ও অভিজ্ঞতা সরাসরি কাজে লাগানো যাবে। সবার আগে বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে হলে রাষ্ট্র পরিচালনায় মেধার কোনো বিকল্প নেই।
বিপর্যস্ত অর্থনীতির পুনর্গঠন নিয়ে ইশতেহারটিতে যে গভীরতা দেখা যায়, তা বর্তমানের ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাতের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। গত এক দশকে খেলাপি ঋণের নামে যেভাবে জনমানুষের আমানত লুণ্ঠন করা হয়েছে এবং বিদেশে অর্থ পাচারের যে মহোৎসব চলেছে, তাকে রুখতে ইশতেহারে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কেবল করের হার কমানো বা বৃদ্ধি নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতির পুরো ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ‘লুটেরা পুঁজিবাদ’ বা ক্রোনি ক্যাপিটালিজম জেঁকে বসেছিল। মেগা প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, অথচ সাধারণ মানুষের পাতে ভাত জোটেনি। মুদ্রাস্ফীতির যন্ত্রণায় পিষ্ট মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের দীর্ঘশ্বাস আজ আকাশে-বাতাসে। বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের যে ক্ষয়িষ্ণু দশা এবং বহিঃস্থ ঋণের যে পাহাড়—যা প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার ছুঁইছুঁই—তা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে লুণ্ঠিত অর্থ ফেরত আনা অপরিহার্য। বিএনপির আগামীর অর্থনীতি হবে উৎপাদনমুখী ও সুষম বণ্টনের অর্থনীতি। এছাড়া, শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য ‘বেকার ভাতা’র প্রবর্তন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত তাদের রাষ্ট্রীয় সহায়তার আওতায় আনা হবে। মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে প্রণোদনা দিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার যে পরিকল্পনা, তা জিডিপির গুণগত প্রবৃদ্ধিতে মৌলিক পরিবর্তন আনবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে পাহাড় সবসময়ই কেবল এক ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, যেখানে মানুষের আবেগ আর অধিকার গৌণ ছিল। কিন্তু এই ইশতেহারে ‘আমরা সবাই বাংলাদেশী’ এই পরিচয়ের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গড়ার যে ডাক দেয়া হয়েছে, তা পাহাড় এবং সমতলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের আস্থার সংকট ঘোচাতে সহায়তা করতে পারে। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার যে কথা রয়েছে, তা সরাসরি পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদের কার্যকারিতা বৃদ্ধির সাথে সম্পৃক্ত। উন্নয়ন যখন ঢাকা কেন্দ্রিক না হয়ে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি বা বান্দরবানের স্থানীয় নেতৃত্বের মাধ্যমে পরিচালিত হবে, তখনই পাহাড়ের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। এই ইশতেহারে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় যে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, তা বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের পথে একটি বড় ধাপ। আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই যেখানে পাহাড়ের ঝরনা আর সমতলের পলিমাটি একই অধিকারের সূত্রে গাঁথা থাকবে।
সুশাসনের প্রশ্নে ইশতেহারটি অত্যন্ত কঠোর এবং প্রাঞ্জল। বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো রাষ্ট্র টেকসই হতে পারে না। যে দেশে বিচার নেই, সে দেশে মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। অতীতের শাসকরা বিচার বিভাগকে ব্যবহার করেছেন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের যন্ত্র হিসেবে। আয়নাঘর আর গুমের সংস্কৃতির সেই বিভীষিকা আমরা ভুলিনি। বিএনপি অঙ্গীকার করেছে, নিম্ন আদালতকে আইন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করে সম্পূর্ণভাবে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে ন্যস্ত করা হবে। বিচারক নিয়োগে দলীয়করণের পরিবর্তে একটি স্বচ্ছ জুডিশিয়াল কমিশন গঠন করা হবে। বিচার বিভাগ যদি স্বাধীন না হয়, তবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ কথাটি কেবল কাগুজে বুলি হয়ে থাকবে। আমাদের লক্ষ্য হলো—দেশের সাধারণ মানুষ যেন আদালতে এসে বলতে পারে, ‘আমি ন্যায়বিচার পাবই’। এর পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনকে বা দুদককে প্রকৃত অর্থেই একটি স্বাধীন বাঘে পরিণত করা হবে। দুর্নীতির ক্যানসার এই রাষ্ট্রকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খাচ্ছে। সরকারি প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা এবং ‘লোকপাল’ নিয়োগের প্রস্তাবটি বাংলাদেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক বৈপ্লবিক সংযোজন হতে পারে। এটি প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে পিয়ন পর্যন্ত সবার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রদান করবে।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বিএনপির অবস্থান অত্যন্ত সুস্পষ্ঠ এবং জাতীয় স্বার্থের প্রতি অনুগত। আমরা কারও সাথে বৈরিতা চাই না, কিন্তু জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আমরা হিমালয়ের মতো অটল। অতীতে আমরা দেখেছি কীভাবে নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে আমাদের সীমান্ত রক্তাক্ত হয়েছে, আমাদের পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বিএনপির পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হবে—‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কিন্তু জাতীয় স্বার্থের বিনিময়ে নয়’। প্রতিটি আন্তর্জাতিক চুক্তি ও আঞ্চলিক সংযোগের ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ’ থাকবে সবার উপরে। আমরা বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াব—কারো করুণা প্রার্থী হয়ে নয়, বরং একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও মর্যাদাবান রাষ্ট্র হিসেবে। সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। ভারতের সাথে তিস্তা পানি বণ্টনসহ অভিন্ন নদীগুলোর অমীমাংসিত সমস্যার সমাধানে দৃঢ় অবস্থানের ঘোষণা জাতীয় সার্বভৌমত্বের সুরক্ষায় অত্যন্ত জরুরি।
তরুণ প্রজন্ম ও তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লব নিয়ে ইশতেহারটিতে যে আধুনিক চিন্তা প্রতিফলিত হয়েছে, তা একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সহায়ক। আজকের তরুণরা কেবল স্বপ্ন দেখতে চায় না, তারা স্বপ্নের বাস্তবায়ন চায়। তারা ডিজিটাল নিরাপত্তার নামে কোনো শিকল চায় না, তারা চায় ফ্রিল্যান্সিং ও উদ্ভাবনের অবাধ সুযোগ। ইন্টারনেটের দাম কমিয়ে প্রতিটি গ্রামে উচ্চগতির নেটওয়ার্ক পৌঁছে দেওয়া হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিই হবে অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার নিয়ে ইশতেহারটিতে জাতীয় আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয়ের যে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রাখা হয়েছে, তা মূলত একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনের প্রধান শর্ত। মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনে কোচিং সেন্টার নির্ভর শিক্ষার বদলে সৃজনশীল ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটানো হবে।
মানবাধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হলো গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ। অতীতের শাসকরা কালো আইন দিয়ে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করেছিলেন। বিএনপি ঘোষণা করেছে, ক্ষমতায় গেলে সকল কালো আইন বাতিল করা হবে। সংবাদমাধ্যম হবে রাষ্ট্রের দর্পণ। গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে মানবাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের প্রতি এক ধরণের দায়বদ্ধতা। শহীদ পরিবার এবং আহতদের পুনর্বাসনের জন্য আলাদা বিভাগ গঠনের প্রস্তাবটি ইতিহাসের এক ধরণের দায়মুক্তি। এই অভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে যে, রাষ্ট্র যদি জনগণের না হয়, তবে সেই রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারে না। বাংলাদেশে গত দেড় দশকে যে পরিমাণ গুম, খুন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, তার বিচার যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন একটি জাতীয় মনস্তাত্ত্বিক শুশ্রূষা।
আমরা অনেক রক্ত দিয়েছি, অনেক জুলুম সহ্য করেছি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিনাবিচারে কারারুদ্ধ রাখা হয়েছিল, দেশনায়ক তারেক রহমানকে নির্বাসনে থাকতে হয়েছে—এই ত্যাগ কেবল ক্ষমতার জন্য নয়, বরং এই দেশ ও দেশের মানুষের মুক্তির জন্য। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই মূলমন্ত্রকে বুকে ধারণ করে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের একটাই পরিচয় হোক—আমরা বাংলাদেশি। শহীদ জিয়ার স্বপ্নের সেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, যেখানে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত হবে—সেই লক্ষ্যেই আমাদের পথচলা। আমাদের মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্র সংস্কার কোনো একদিনের কাজ নয়, এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া। আর এই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের প্রকৃত সার্থকতা।
লেখক : অর্থনীতি বিশ্লেষক, কলামিস্ট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গবেষক।
E-mail: msislam.sumon@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Our Like Page