
রিকশাচালককে নির্মম মারধর করে মিষ্টিমুখ: একদল ‘ভদ্রবেশী’ হায়েনার উম্মাদনা!
– প্রফেসর ড. আসিফ মিজান।
কুকুর ডাকলে একদল কুকুরই ছুটে আসে—স্বার্থ বা হিংস্রতায় তারা একতাবদ্ধ হয়। ঢাকা শহরের কিছু রিক্সাচালকের আচরণ ও কথাবার্তা অনেক সময় আমাদের ক্ষুব্ধ করে তোলে, রক্ত মাথায় চড়ে যায়। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, আমরা মানুষ। একজন রিকশাচালক আপনার বা আমার মতো সুযোগ-সুবিধা পেয়ে বড় হয়নি, শিক্ষার আলো দেখেনি, সভ্যতার চাদরে নিজেকে জড়াতে পারেনি। তার পারিপার্শ্বিকতা ও জীবনসংগ্রাম তাকে রুক্ষ করেছে। তাই সে হয়তো কখনো কখনো বড় ভুল বা অন্যায় করে বসে।
কিন্তু আপনি কেমন ‘ভদ্রলোক’ বা উচ্চশিক্ষিত মানুষ যে তার এই অসহায়ত্ব বুঝলেন না? ক্ষমা করতে শিখলেন না? উল্টো শিয়াল-কুকুরের মতো দল বেঁধে ঝাঁপিয়ে পড়লেন একজন হাড্ডিসার, খেটে খাওয়া মানুষের ওপর?
ঘটনার বিবরণ ও নির্মম সত্য:
গত ৫ জুলাই, ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৯:৪৫ মিনিটে ঢাকার ব্যস্ততম কচুক্ষেত মোড়ে (ভাগ্যকূল মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের সামনে, ডিজিএফআই ভবনের কর্নার সংলগ্ন মোড়) একজন সাধারণ রিকশাচালককে চরমভাবে মারপিট করে একদল যুবক। নিষ্ঠুরতার চরম পর্যায় তখনই দেখা যায়, যখন এই অমানুষিক নির্যাতনকে ‘উৎসব’ বানিয়ে তারা দলবলসহ ভাগ্যকূল মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে ঢুকে মিষ্টি খেয়ে তা উদযাপন করে! মিষ্টিমুখ করে বের হওয়ার সময় ধারণ করা ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায় অপরাধীদের চেহারা। ভিডিওতে লাল শার্ট পরা লোকটিকে সহযোগী এবং তার সামনে থাকা হালকা ধূসর (Light Grey) রঙের টিশার্ট পরা লোকটিকে মূল খলনায়ক ও নির্যাতনকারী হিসেবে চিহ্নিত করা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আকুল আবেদন:
দেশের সকল গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বিনীত ও জোরালো অনুরোধ—ভিডিও ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবৃতির ভিত্তিতে এই বর্বর চক্রটিকে অবিলম্বে খুঁজে বের করুন। এদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ক্ষমতাবান বা ‘ভদ্রবেশী’ বর্বর একজন মেহনতি মানুষের ওপর এমন হিংস্রতা দেখানোর সাহস না পায়।
প্রমাণ সংগ্রহের সূত্র (বিঃদ্রঃ):
ঘটনাটি তদন্তের স্বার্থে এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে নিচের উৎসগুলো ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি:
উক্ত সময়ে ওই মোড়ে কর্মরত মিলিটারি পুলিশ (MP) সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ।
ভাগ্যকূল মিষ্টান্ন ভাণ্ডার এবং আশেপাশের ভবনের সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণ।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা অন্যান্য রিকশাচালক এবং স্থানীয় দোকানদারদের (যারা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী) জবানবন্দি গ্রহণ।
সমাজ থেকে এই বিচারহীনতা ও বর্বরতার সংস্কৃতি রুখে দিতে এই হায়েনাদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।

