
“বন্যার মধ্যে পরীক্ষা:শিক্ষার চেয়ে কি পরীক্ষাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ?শিক্ষা মন্ত্রী??
✍️”দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় যখন মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত,তখন হাজারো এসএসসি পরীক্ষার্থীর কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো। কেউ কোমরসমান পানি পেরিয়ে,কেউ নৌকায়, আবার কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শুধু একটি পরীক্ষায় অংশ নিতে ছুটেছে। এমন বাস্তবতায় প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি নিছক একটি সংখ্যা নয়,এটি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে।
প্রশ্ন হলো,যেকোনো পরিস্থিতিতেই নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা নেওয়াই কি শিক্ষাব্যবস্থার একমাত্র সফলতা? নাকি শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা,মানসিক অবস্থা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের সমান দায়িত্ব?
শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য কেবল পরীক্ষা নেওয়া নয়,বরং একজন শিক্ষার্থীকে জ্ঞান, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা। অথচ বাস্তবতা হলো, দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনো পর্যাপ্ত শিক্ষক,আধুনিক ল্যাব কিংবা প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের ঘাটতি রয়েছে। এসব মৌলিক সমস্যা সমাধানের আগে শুধুমাত্র পরীক্ষাকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত শিক্ষার প্রকৃত মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে না।
দুর্যোগের সময় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় মানবিকতা ও বাস্তবতা বিবেচনা করার। যেসব শিক্ষার্থীর বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে,যাদের পরিবার নিরাপদ আশ্রয় ও খাবারের সংকটে রয়েছে, তাদের জন্য পরীক্ষা শুধু একটি মূল্যায়ন নয়,বরং অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা, প্রয়োজন হলে সময়সূচি পুনর্বিন্যাস বা ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ বিবেচনা করা অযৌক্তিক নয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব শুধু পরীক্ষা সম্পন্ন করা নয়; বরং এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা,যেখানে কোনো শিক্ষার্থী প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পিছিয়ে না পড়ে। কারণ একটি পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব,কিন্তু কোনো শিক্ষার্থীর জীবন, নিরাপত্তা বা মানসিক সুস্থতা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার ক্ষতি সহজে পূরণ করা যায় না।
একটি উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার পরিচয় কেবল সময়মতো পরীক্ষা নেওয়ায় নয়,বরং সংকটের সময় মানবিক, বাস্তবসম্মত এবং দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণে। আশা করা যায়,ভবিষ্যতে এ ধরনের জাতীয় দুর্যোগে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতি, নিরাপত্তা এবং সমান সুযোগের বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। কারণ শিক্ষা মানুষের জন্য, মানুষ শিক্ষার জন্য নয়।
✍️”গণমাধ্যম কর্মীঃ
মোঃ রেজাউল করিম
এক্সিকিঃএডিটর (24hrstv)
“সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কেন্দ্রীয কমিটি-ঢাকা। ও কেন্দ্রীয় নির্বাহীপরিষদ সদস্য (BJSS) ঢাকা।

