
ভোক্তার স্বস্তিতে এলপিজি: সিলিন্ডার প্রতি দাম কমল ৩৫৭ টাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
দীর্ঘদিন ধরে চলা এলপি গ্যাসের উচ্চমূল্যের অস্থিরতায় অনেকটা হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছেন সাধারণ গ্রাহকরা। জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন’ (বিইআরসি) ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হ্রাস করেছে। আজ বৃহস্পতিবার নতুন এই দর ঘোষণার পাশাপাশি দ্রুত কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
মূল্য হ্রাসের বিবরণ:
বিইআরসি-এর নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১২ কেজি ওজনের প্রতিটি এলপিজি সিলিন্ডারের বর্তমান দাম ১,৮৮৫ টাকা থেকে ৩৫৭ টাকা কমিয়ে ১,৫২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসাথে, পরিবহন খাতে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম লিটার প্রতি ১৬ টাকা ৫৩ পয়সা কমিয়ে ৭০ টাকা ৪০ পয়সায় নামিয়ে আনা হয়েছে।
জনস্বার্থে জরুরি নির্দেশনা:
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই এই নতুন দর কার্যকর হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, কোনো ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা সরকার নির্ধারিত এই মূল্যের চেয়ে এক পয়সাও বেশি নিতে পারবে না। বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য রুখতে প্রশাসনকে সজাগ থাকার এবং গ্রাহকদের নিজ নিজ এলাকার নির্ধারিত বিক্রয়মূল্য যাচাই করে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভোক্তার ওপর প্রভাব:
চলতি বছরের শুরু থেকেই গ্যাসের চড়া দাম ছিল সাধারণ মানুষের মাথাব্যথার কারণ। দফায় দফায় দাম পরিবর্তনের পর এবার এই বড় অংকের হ্রাস মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মাসিক খরচের ওপর থেকে বড় ধরনের চাপ কমাবে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জ্বালানির এই দর সংশোধন জনজীবনে স্বস্তি ফেরানোর পাশাপাশি বাজার দর নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সাংবাদিকের পর্যবেক্ষণ:
গ্যাসের দাম কমানোর এই সিদ্ধান্তটি জনকল্যাণমুখী। তবে শুধুমাত্র কাগজ-কলমে দাম কমলে হবে না; এর সুফল যেন প্রান্তিক পর্যায়ের প্রতিটি গ্রাহকের রান্নাঘর পর্যন্ত পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। অসাধু মজুতদার কিংবা সিন্ডিকেটের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতে বিইআরসি ও স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর তদারকিই এখন সময়ের দাবি।
মোঃ সোহেল
সাংবাদিক ও কলামিস্ট

