
“‘ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন: মুক্তির পর নতুন প্রভাতের পথে–
দীর্ঘ কারাবাস শেষে জামিনে মুক্তি, দেশবাসীর শুভকামনা সুস্থতা ও দীর্ঘায়ুর জন্য–
মো. আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী
চট্টগ্রাম ও সমগ্র বাংলাদেশ আজ যেন স্বস্তির শ্বাস ফেলল। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা উত্থান–পতনের পর, শারীরিক অসুস্থতা ও বন্দিজীবনের কষ্ট পেরিয়ে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, চট্টগ্রামের গর্ব ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। তাঁর মুক্তি শুধু একটি ব্যক্তিগত পরিত্রাণ নয়—এটি রাজনৈতিক অঙ্গনে এক প্রবীণ অভিভাবকের প্রত্যাবর্তন, যাকে মানুষ চেনে সততা, প্রজ্ঞা ও উন্নয়নমুখী নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে।
যুদ্ধক্ষেত্র থেকে উন্নয়নের মঞ্চে
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সেক্টর ১-এর সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে শত্রুর মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। শুভপুর ব্রীজ উড়িয়ে পাকিস্তানি সেনাদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে চট্টগ্রাম রক্ষায় ইতিহাস গড়েছিলেন। যুদ্ধশেষে দেশ গড়ার অভিযানে নেমে যান তিনি—পল্লী উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষা বিস্তার—সবখানেই তাঁর দাগ স্পষ্ট। নীতিতে অবিচল, ক্ষমতায় নম্র
ছয় দফা আন্দোলনের সময় লাহোরে ছাত্রনেতা হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন মোশাররফ হোসেন। ক্ষমতার মোহে আপস নয়—এ ছিল তাঁর রাজনৈতিক দর্শন। ছয়বারের সংসদ সদস্য, একাধিকবার মন্ত্রী—সব দায়িত্বই তিনি পালন করেছেন বিনয়, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে। উত্তর চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের শক্ত ভিত তাঁর হাতেই গড়ে ওঠে। উদ্যোক্তা হিসেবে দূরদর্শিতা
ব্যবসায়ী পিতা এস. রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তিনিও রেখেছেন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উজ্জ্বল অবদান। ‘গ্যাসমিন লিমিটেড’ থেকে শুরু করে ‘পেনিনসুলা হোটেল’—প্রতিটি উদ্যোগে ছিল কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকার ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা।
প্রেক্ষাপট: এক প্রত্যাবর্তনের গল্প
দীর্ঘদিনের বন্দিজীবন ও শারীরিক অসুস্থতার পর তাঁর জামিনে মুক্তি রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। সমর্থকরা বলছেন—এটি শুধু একজন নেতার মুক্তি নয়, এটি ন্যায়ের প্রতিফলন এবং অভিজ্ঞ নেতৃত্বের পুনঃপ্রবেশ।
-শুভকামনা ও প্রার্থনা,দেশবাসী আজ তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছে। রাজনীতিতে সততা টিকে থাকতে পারে—এর জীবন্ত প্রমাণ তিনি। তাঁর জীবনের পথ আমাদের শেখায়—
“দেশপ্রেম কেবল স্লোগান নয়, তা বাস্তবায়িত হয় কাজে, ত্যাগে ও নীতির দৃঢ়তায়।” আমরা চাই, মুক্তির এই প্রভাত থেকে তিনি আরও শক্তি সঞ্চয় করুন, সুস্থ থাকুন, এবং আবারও দেশের উন্নয়নের পথে অবিচল থাকুন।
স্বাগতম, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন—আপনি ফিরে এসেছেন, এবং আশা করি এবার আপনার পথে আর কোনো আঁধার নামবে না।

