
*আলী টেক বাজারে মাদকের ছড়াছড়ি, আতঙ্কে ৮ নম্বর ওয়ার্ডবাসী*
*নিয়মিত অভিযান ও উৎস উৎঘাটনের দাবি স্থানীয়দের*
কিশোর-তরুণদের নিয়ে উদ্বেগ, অভিযানেও বন্ধ হচ্ছে না বেচাকেনা
*মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি* –
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আলী টেক বাজার ও আশপাশের এলাকায় মাদকের অবাধ বিস্তারে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকের সহজলভ্যতার কারণে এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আলী টেক বাজারকে কেন্দ্র করে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন গলি, নির্জন স্থান ও চায়ের দোকানগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের রমরমা বেচাকেনা চলছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনা ও মাদকসেবীদের উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
*কয়েকজনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ*
এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আলী টেক বাজার ও আশপাশে মাদক বেচাকেনার সঙ্গে মো. আনিস বেপারী, মো. রিফাত মিজি ও আলমগীর বেপারীর নাম জড়িয়ে আছে। অভিযোগকারীদের দাবি, আনিস বেপারী ও রিফাত মিজি ইয়াবা এবং আলমগীর বেপারী গাঁজা বিক্রির সঙ্গে জড়িত।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। আইন অনুযায়ী অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না।
*অভিযানেও মেলেনি স্থায়ী সমাধান*
স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন সময়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও সদর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু অভিযানের রেশ কেটে গেলেই আবারও পুরনো চিত্র ফিরে আসে।
এলাকাবাসীর স্পষ্ট দাবি, মাঝে মাঝে অভিযান নয়, নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি শুধু খুচরা বিক্রেতাদের নয়, মাদকের মূল উৎস, সরবরাহকারী ও এর সঙ্গে জড়িত বৃহৎ চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
*হুমকির মুখে যুবসমাজ*
মাদকের সহজলভ্যতার কারণে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। তাদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে স্কুল-কলেজপড়ুয়া কিশোর ও তরুণদের একটি বড় অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়বে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পরিবার, শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধের ওপর।
*প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা*
মাদকমুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আলী টেক বাজার ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডবাসী প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের দাবিসমূহ:
১/ এলাকায় নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান ও টহল জোরদার করা
২/ মাদকের উৎস ও সরবরাহ ব্যবস্থা উৎঘাটনে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি
৩/ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা
৪/ অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে আলী টেক বাজার ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড আবারও নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য হয়ে উঠবে।

