
“মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দৌরাত্ম্য: দুর্ঘটনা ও যানজটের দায় কার???
✍”সারাদেশে আজ পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৭ জনই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জানা গেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো,দুর্ঘটনাগুলোর কয়েকটি ঘটেছে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে।
প্রশ্ন হচ্ছে, যেসব মহাসড়কে দ্রুতগতির বাস,ট্রাক ও পণ্যবাহী যান চলাচল করে,সেখানে ধীরগতির ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যান কীভাবে অবাধে চলাচল করছে?
শুধু দুর্ঘটনা নয়,মহাসড়কে এসব যানবাহনের কারণে প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে নতুন ভোগান্তি। বিশেষ করে বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও ফ্যাক্টরির সামনে শ্রমিক ও যাত্রী ওঠানামার সময় শত শত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা,ভ্যান ও অন্যান্য ছোট যানবাহন রাস্তার পাশে কিংবা মহাসড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। এতে মূল সড়কের চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয় সাধারণ যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনকে।
এর পাশাপাশি,মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন এবং দ্রুতগতির যানবাহন একই লেনে চলাচল করায় সংঘর্ষের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। অটোরিকশা বা ভ্যানের চালকদের অনেকের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ,লাইসেন্স ও সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান না থাকায় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
তাই প্রশ্ন উঠছে,মহাসড়কে এসব যানবাহনের চলাচল বন্ধে বিদ্যমান আইন কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে?দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান কি যথেষ্ট? কোথাও যদি দায়িত্ব পালনে গাফিলতি,অনিয়ম বা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ থাকে,তাহলে তারও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
তবে সমস্যার স্থায়ী সমাধান শুধু অটোরিকশা বন্ধ করে দেওয়া নয়। শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত বাসস্টপ ও নিরাপদ যাত্রী ওঠানামার স্থান তৈরি করতে হবে। মহাসড়কের পাশে পরিকল্পিত পার্কিং ও স্টপেজ ব্যবস্থা থাকতে হবে। একই সঙ্গে মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণ,বিকল্প রুট নির্ধারণ, নিয়মিত ট্রাফিক অভিযান এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
মহাসড়ক কারও ব্যক্তিগত যাত্রী ওঠানামার স্থান নয়। মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অটোরিকশা ও ভ্যানের কারণে দুর্ঘটনা,প্রাণহানি এবং অসহনীয় যানজট আরও বাড়তে পারে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

